বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রাজধানীতে বড় শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : ‘বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে’ বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য দেয়া হচ্ছে তার জবাব দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। আগামী ৭ নবেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যাণে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় শোডাউন করতে চায় বিএনপি। এরই মধ্যে সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজও করছে দলটি। তবে সমাবেশ করার অনুমতি পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কাটেনি বিএনপির। তারা মনে করছে, ক্ষমতাসীন আ’লীগ এর আগেও বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি। অনুমতি দিলেও তা ছিল ঘরোয়া পরিবেশে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরকারি দল মাসাধিককাল ধরে তাদের জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে শোডাউন করেছে। এখন যদি বিএনপিকে তাদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি করতে না দেয় তাহলে এটি সরকারের জন্যই বুমেরাং হবে। 

জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর মাঠের রাজনীতিতে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে ঢাকার রাজপথে নামার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি। এর আগে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও এবার বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে শোডাউনের পরিকল্পনা করছে দলটি। সমাবেশ আয়োজনের জন্য অনুমতি চেয়ে ইতিমধ্যে প্রশাসনে আবেদন করা হয়েছে। ৭ নবেম্বর বিপুল জনসমাগম করতে সার্বিক প্রস্তুতিও শুরু করেছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। নেতারা আশা করছেন, এবার সমাবেশের অনুমতি মিলবে। সরকার তাদের সহযোগিতা করবে। তবে শেষ পর্যন্ত নানা অজুহাতে প্রশাসন অনুমতি নাও দিতে পারে এমন শঙ্কাও আছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সমাবেশের অনুমতি পেলে বেশ ভালো লোকসমাগম ঘটাবেন তারা। অনুমতি পাওয়া নিয়ে শঙ্কা থাকলেও তারা শেষ পর্যন্ত সমাবেশ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তারা বলছেন, শুরুতে গড়িমসি করলেও একদম শেষ মুহূর্তে অনুমতি দিতে পারে সরকার। সে ক্ষেত্রে বিপুল উপস্থিতিসহ সুষ্ঠুভাবে সম্মেলন প্রস্তুত করতে বেশ বেগ পেতে হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় বড় ধরনের সমাবেশ করতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে অনুমতি না মেলায় তা সম্ভব হয়নি। সবশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর দলের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৩০ আগস্ট রাজধানীতে র‌্যালী করতে চেয়েছিল বিএনপি। পুলিশী অনুমতি না পাওয়ায় পরে ৩১ আগস্ট করার কথা বললে তাতেও অনুমতি দেয়া হয়নি। পরে ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ভেতরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ করে বিএনপি। এ ছাড়া বছরের শুরুতে ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত পরিসরে ও নানা শর্তের বেড়াজালে সমাবেশ করে দলটি। গত মার্চে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের কাউন্সিল করতে চাইলে তাতেও অনুমতি মেলেনি প্রশাসনের। তখনও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে কাউন্সিল করার অনমতি দেয়া হয়। সরকারের এমন আচরণে তখন সর্বত্র সমালোচনার ঝড় উঠে। 

বিএনপি মনে করে, এবার বেশ কিছু জাতীয় ইস্যু নিয়ে সমাবেশ করার সুযোগ আছে তাদের। এর মধ্যে অন্যতম হলো নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, আবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা। এসব সমাবেশে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দলের বক্তব্য তুলে ধরতে চান। এ ছাড়া বিএনপির বিরুদ্ধে সরকারসহ বিরোধী মহলের অভিযোগ, দলটি জাতীয় ইস্যুতে মাঠে নামে না। তাদের অস্তিত্ব-সংকটেরও প্রশ্ন তুলছেন প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের নেতারা। এমন অভিযোগ ও বক্তব্যেরও জবাব দিতে চায় দলটি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ আ’লীগের শীর্ষ নেতারা বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি নিঃশেষ হয়ে গেছে। বিএনপি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। অথচ তারা আমাদের সমাবেশ করতে দেয় না। এমনকি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালি করতেও দেয়া হয় না। তিনি বলেন, আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার চাই। সমাবেশ করার সুযোগ পেলে সমালোচকদের এমন অপপ্রচার ভুল বলে প্রমাণিত হবে।

এদিকে গত শনিবার ঢাকা মহানগরের যৌথ সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ৭ নবেম্বর রাজধানীতে স্মরণকালের সবচেয়ে সেরা সমাবেশ হবে। তারা সরকারকে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানান। অনুমতি পেলে সমাবেশে সর্বোচ্চসংখ্যক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছে দলের হাইকমান্ড। সে অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজ নিজ ইউনিট-প্রধানকে ইতিমধ্যে কেন্দ্রের নির্দেশনা পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানা গেছে

ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান বলেন, সমাবেশে ছাত্রদলের উপস্থিতি থাকবে সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্র থেকে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা সেই অনুযায়ী সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি। যুবদল সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ইউনিট প্রধানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সমাবেশের বিষয়ে বলেন, সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু এদের তো বিশ্বাস করা যায় না। তবে সময়মতো অনুমতি দেয়া হোক, দেখবেন উপস্থিতি কেমন হয়। তিনি বলেন, আমরাতো বাসে করে ভাড়ায় লোক নিয়ে আসবো না। বিএনপিকে ভালোবেসেই মানুষ সমাবেশকে মহাসমাবেশে রূপ দিবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ