বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মাহমুদুর রহমানের জামিন আপিলে বহাল

স্টাফ রিপোর্টার : কারাবন্দী দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় অপহরণের চেষ্টা ও হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। জামিন স্থগিতে সরকারের করা আবেদন খারিজ করায় তার জামিন বহাল থাকলো। ফলে ৮৪ মামলার সবগুলোতেই মাহমুদুর রহমান জামিনে থাকায় তার মুক্তিতে আর বাধা নেই। 

গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিতের আবেদন খারিজ করে দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।

আদালতে মাহমুদুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন সাবেক এটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন ও ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমিন। সরকার পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। 

আদেশের পরে তানভীর আহমেদ আল আমিন বলেন, আদালত জামিন স্থগিতের পক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে এ মামলায় মাহমুদুর রহমানের জামিন বহাল থাকল। ফলে মাহমুদুর রহমান সব মামলায় জামিনে থাকায় তার মুক্তিতে আর বাধা নেই। 

সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের চেষ্টা ও হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলায় হাইকোর্ট মাহমুদুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে সরকার আবেদন করলে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার জামিন ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছিলেন। একই সঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় স্থগিতের আবেদনটি গতকাল সোমবার কার্যতালিকায় আসলে আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেন। 

এর আগে, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ মাহমুদুর রহমানের জামিন আবেদনে রুলের নিষ্পত্তি করে জামিন মঞ্জুর করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে গত বছরের ৩ আগস্ট পল্টন থানায় পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে, যা পরে মামলায় রূপান্তরিত হয়। গত ১৬ এপ্রিল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নিউ ইস্কাটন গার্ডেনের বাসা থেকে প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে আটক করে। পরে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখায় পল্টন থানার পুলিশ। মাহমুদুর রহমানকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর পরে রিমান্ডেও নেয়া হয়। এরই মধ্যে প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান মামলাটিতে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। পরে ওই জামিন আপিল বিভাগে বহাল থাকায় তিনি কারামুক্ত হন। এবার মামলাটিতে মাহমুদুর রহমানের জামিন বহাল থাকলো। ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে কারাগারে আছেন মাহমুদর রহমান। তার বিরুদ্ধে করা ৮৪টি মামলার সবগুলোতেই তিনি জামিনে আছেন। তাকে গ্রেফতারের ১৩০০ দিন পূর্ণ হতে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ