মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আড়াই বছরে ৫৩০ পোশাক শিল্প বন্ধ গ্রামে ফিরে যাচ্ছে কয়েক লাখ শ্রমিক

স্টাফ রিপোর্টার: বিভিন্ন সংকটে দেশের চারটি শিল্পঘন এলাকার ৫৩০ টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আর এসব কারখানায় কর্মরত ছিলো এমন কয়েক লাখ শ্রমিক বিকল্প কাজের সুযোগ না পেয়ে গ্রামে ফিরে যাচ্ছে। আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম এই চারটি শিল্প এলাকার অনেক কারখানা গত আড়াই বছরে বন্ধ হয়ে গেছে। আর্থিক লোকসান, গ্যাস সংকট, কর্মপরিবেশ না থাকা এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনার কারণে এসব শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 

সূত্র জানায়, দেশে চারটি এলাকাকে শিল্প অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই চারটি এলাকা হচ্ছে আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম। এ অঞ্চলগুলোয় বিভিন্ন শিল্প খাতের কারখানা রয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি, যার মধ্যে ৩ হাজার ২০০টি পোশাক কারখানা। এর মধ্যে ২০১৪ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত আলোচ্য অঞ্চলগুলোয় বন্ধ হয়ে পড়া কারখানার সংখ্যা ৫৩০টি। এ হিসাব অনুযায়ী, আড়াই বছরে অঞ্চলগুলোয় প্রতি মাসে বন্ধ হয়েছে গড়ে ১৭টি করে কারখানা।

সূত্র মতে, এসব এলাকায় অনেক কারখানা রয়েছে, যেগুলো নানা কারণে শ্রম আইন অনুযায়ী সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে মালিকপক্ষের সুবিধা অনুযায়ী তা আবার চালু করা হয়। কিন্তু আলোচ্য কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পর থেকে আর চালু হয়নি।

এদিকে অনুসন্ধানে কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এর বেশির ভাগই বন্ধ হয়েছে কাজ না থাকার পাশাপাশি লোকসানের কারণে। এছাড়া আনুষঙ্গিক অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কারণের মধ্যে রয়েছে আর্থিক অসচ্ছলতা, ব্যাংকের দায়, কর্মপরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত না হওয়া, গ্যাস সংকট, অগ্নিকা-, কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব, পুরনো মেশিন ও শ্রমিক অসন্তোষ। এসব কারণে কারখানা চালু রাখতে ব্যর্থ হয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের কাছে ছেড়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে কয়েকটি।

শিল্প পুলিশের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে ক্ষুদ্র-মাঝারি-বড় সব ধরনের কারখানাই রয়েছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি অনেক কারখানা রয়েছে, যেগুলো কাজ করত সাব-কন্ট্রাক্ট পদ্ধতিতে। এগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি আবার বিজিএমইএ বা অন্য কোনো সংগঠনের সদস্য নয়। রানা প্লাজার পর কারখানা মূল্যায়ন শুরু হলে সাব-কন্ট্রাক্টে চলা অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে শিল্প পুলিশের মহাপরিদর্শক আবদুস সালাম বলেন, আলোচ্য অঞ্চলগুলোর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার দায়িত্ব শিল্প পুলিশের। এ কাজের সুবিধার্থেই আমরা কারখানাগুলোর বিদ্যমান পরিস্থিতির হালনাগাদ রাখছি। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত আড়াই বছরে বন্ধ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫০০ কারখানা।

বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, রানা প্লাজা-পরবর্তী প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন কারণে গত আড়াই বছরে চাকরি বা কর্মসংস্থানে সংকটের মুখোমুখি হওয়া শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। এরা প্রায় সবাই বস্ত্র ও পোশাক খাতের। এসব শ্রমিকের মধ্যে অনেকে গ্রামে ফিরে গেছেন। অনেকে কাজ নিয়েছেন একই বা অন্য শিল্প-কারখানায়। অনেকে পেশাও পরিবর্তন করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ