মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বন্দুকযুদ্ধ ভয়াবহ রূপে ৮ দিনে নিহত ১৩

নাছির উদ্দিন শোয়েব : ভয়াবহ রূপ নিয়েছে কথিত বন্দুকযুদ্ধ। গত আট দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সে হিসাবে আটদিনে গড়ে প্রতিদিন একজনের বেশি বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলী চলাকালে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। একরাতেই চট্টগ্রামের মিরসরাই ও কুষ্টিয়ার মিরপুরে পাঁচজন নিহত হয়। এ সময়ে প্রতিরাতে দু‘জন, একজন করে নিহত হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যও গুলীবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানানো হয়। 

পুলিশ বলছে- নিহতদের মধ্যে রয়েছে ডাকাত, জঙ্গি, সন্ত্রাসী, চরমপন্থী, মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মামলার আসামী। জানা গেছে, রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীও রয়েছে এ তালিকায়। আটক হওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ ব্যক্তির বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর লাশ পাওয়া গেছে এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে কয়েকজন জঙ্গি, ডাকাত দলের সরদার, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী রয়েছে বলে থানা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় উল্লেখ আছে। 

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ও ক্রসফায়ারে ১৫০ জন নিহত হয়েছেন। আসকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় র‌্যাবের চেয়ে এগিয়ে আছে পুলিশ। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৯ মাসে র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে ৩৪ জন, পুলিশের সঙ্গে ক্রসফায়ারে ৬১ জন, ডিবি পুলিশের ক্রসফায়ারে ১১ জন, পুলিশ ও বিজিবি’র ক্রসফায়ারে ১ জন, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সোয়াত টিমের অপারেশনে (হিট স্ট্রং-২৭) ৩ জন ও অপারেশন স্টর্ম-২৬ অভিযানে ৯ জন, পুলিশের নির্যাতনে ৭ জন, ডিবি পুলিশের নির্যাতনে ১ জন, রেল পুলিশের নির্যাতনে ১ জন, পুলিশের গুলীতে ৯ জন, বিজিবি’র গুলীতে ১ জন ও থান্ডারবোল্ট অভিযানে যৌথ বাহিনীর গুলীতে ৬ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া থানা হাজতে অসুস্থ হয়ে ৪ জন এবং ২ জনের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী গত রোববার দিবাগত রাতে (৩১ অক্টোবর) কুষ্টিয়ায় গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আঞ্চলিক কমান্ডার কুলু মোল্লা (৩০) নিহত হয়। এ সময় ডিবি পুলিশের ৪ সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। রাত ৩টার দিকে উপজেলার সদর উপজেলার কবুরহাট এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলী ও তিনটি রামদা ও গুলীর খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ সদস্যরা। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কালুকে আগেই আটক করে নেয় আইনশঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এতোদিন সে নিখোঁজ ছিল। 

 ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আলোচিত সন্ত্রাসী ও ডাকাত সরদার দেলোয়ার হোসেন দেলু ওরফে মাস্টার দেলু (৩৯) নিহত হয় বলে র‌্যাব দাবি করেছে। শনিবার দিনগত রাত ২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলী এসও রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ককটেল উদ্ধার করে র‌্যাব। নিহত দেলু শহরের নগর খানপুর এলাকার এলাকার মতিন ওরফে জমির বেপারীর ছেলে। নারায়ণগঞ্জ র‌্যাব-১১ এর সিপিসি-১ এর কমান্ডার এএসপি শিবলী সাদিক জানান, দেলোয়ার হোসেন দেলুকে আটকের পর পাঠানটুলী এলাকায় নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করতে গেলে তার বাহিনীর লোকজন র‌্যাবের উপর গুলী ছুড়ে ও হামলা করে। র‌্যাবও পাল্টা গুলী করলে দুই পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় দেলু গুলীবিদ্ধ হয়। তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

২৯ অক্টোবর চট্টপ্রামের মিরসরাইয়ে ও কুষ্টিয়ার মিরপুরে একরাতে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে পাঁচজন নিহত হয়। ঢাকা-চট্টপ্রাম মহাসড়কে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সন্দেহভাজন তিন ডাকাত নিহত হয়। অন্যদিকে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গোবিন্দগুনিয়া ক্যানালপাড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই ডাকাত নিহত হয়। এদিকে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গোবিন্দগুনিয়া ক্যানালপাড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই ডাকাত নিহত হয়। রাত ১২টার দিকে উপজেলার মিরপুর-ভেড়ামারা আঞ্চলিক ক্যালানের গোবিন্দগুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি বন্দুক, একটি বোমাসহ দেশীয় অস্ত্র ও গাছের গুড়ি উদ্ধার করে পুলিশ সদস্যরা। মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী জালাল উদ্দিন জানান, মিরপুর-ভেড়ামারা আঞ্চলিক সড়কের গোবিন্দগুনিয়া ক্যানালপাড়া এলাকায় গাছের গুড়ি ফেলে একদল ডাকাত মাইক্রোবাস ও নসিমন-করিমনে ডাকাতি করছিল। এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালালে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। 

২৬ অক্টোবর জয়পুরহাটের সদর উপজেলায় হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী সাফিনুল ইসলাম ওরফে সাফিন (২৯) র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয় বলে জানায় র‌্যাব। র‌্যাবের দাবি, নিহত সাফিনের বিরুদ্ধে ছয়টি হত্যাসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায় তাকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়েছিল। এ মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক ছিল সাফিন। রাত ৩টার দিকে উপজেলার দাদরা-জন্তি গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলী উদ্ধার করা হয়। নিহত সাফিনুল ইসলাম ওরফে সাফিন জেলার জয়পুরহাট পৌর এলাকার দক্ষিণ দেওয়ান পাড়া মহল্লার নজরুল ইসলামের ছেলে।

২৮ অক্টোবর পাবনার আতাইকুলায় র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' চরমপন্থী সংগঠন সর্বহারার আঞ্চলিক কমান্ডার বিপলু (৫০) ও তার সহযোগী ময়েন (৩৫) নিহত হয়। ভোর ৪টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার গয়েশবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে এ ঘটনা ঘটে। র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার, ৬ রাউন্ড গুলী এবং একটি বন্দুক উদ্ধার করে। নিহতরা হলো- বিপলু সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের কাশিনাথপুর প্রামের আব্বাস আলীর ছেলে এবং ময়েন একই উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের বড় পাইকশা প্রামের মো. মোতালেবের ছেলে। 

নিহত বিপলু আতাইকুলার আওয়ামী লীগ নেতা শাহজামাল মেম্বার ও তার মা জয়গন বিবি হত্যা মামলার প্রধান আসামী বলে জানান র‌্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীনা রানী দাস। র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার, ছয় রাউন্ড গুলী এবং একটি বন্দুক উদ্ধার করে। আতাইকুলা থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, নিহত বিপলু চরমপন্থী সংগঠন সর্বহারার আঞ্চলিক কমান্ডার। সাঁথিয়া থানার ওসি মো. নাসিররুদ্দিন জানান, নিহতদের বিরুদ্ধে সাঁথিয়া থানাসহ বিভিন্ন থানায় ৮টি হত্যাসহ ডজন খানেক মামলা রয়েছে। এছাড়া দোপাদহ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি মেম্বর শাহজামাল (৪০) ও তার মা জয়গন বিবি (৬০) হত্যা মামলার প্রধান আসামী ছিলেন বিপলু। 

২৫ অক্টোবর ঝিনাইদহে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই ব্যক্তি নিহত হয়। প্রথমে অজ্ঞাত থাকলেও পরে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয় পরিবার। তাদের একজনের নাম জহুরল ইসলাম টিটোন (৩৫)। তিনি ঝিনাইদহ শহর জামায়াতের আমীর। অপরজনের নাম ডা. তারিক হাসান সজিব (৩০)। নিহত ডা. তারিক হাসান আরাপপুরের আব্দুল লতিফের (মৃত) ছেলে। অন্যদিকে কালীগঞ্জের আগমুন্দিয়া কলেজের প্রভাষক ও ঝিনাইদহ শহর জামায়াতের আমীর জহুরুল ইসলাম টিটোন ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ড কলোনির বাসিন্দা সমসের আলী মোল্লার ছেলে। তার বাবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত শাখা কর্মকর্তা।

এদিকে নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন- জহুরল ইসলামকে গত ৭ সেপ্টেম্বর ও তারিক হাসানকে ১৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, শহরের বাস টার্মিনালমুখী বাইপাস সড়কের হামদহ প্রান্ত থেকে ৩টি মটর সাইকেলে কয়েকজন সন্ত্রাসী বাস টার্মিনালের দিকে আসছিল। এ সময় বাইপাস সংলগ্ন ভুটিয়ারগাতীর শহীদ নজির উদ্দীন সড়কের মাথায় মটর সাইকেল ৩টিকে পুলিশের টহল দল থামানোর সংকেত দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে হাত বোমা নিক্ষেপ ও গুলী বর্ষণ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলী চালায়। দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলীর এক পর্যায়ে ২টি মটর সাইকেলে তাদের কয়েকজন পালিয়ে যায়। পুলিশ সেখান থেকে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় ২ জনকে উদ্ধার করে ভোরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি মটর সাইকেল ২টি ওয়ান শুটার গান, ২ রাউন্ড গুলী, ৫টি হাতবোমা ও ২টি চাপাতি উদ্ধার করে।

ঝিনাইদহ হাসপাতাল মর্গে নিহত ডা. সজিবের শ্যালক মুসা জানান- তার ভগ্নিপতি কোনো দলের সাথে জড়িত ছিলেন না। তিনি হারবাল চিকিৎসার উপর লেখাপড়া শেষ করে কিছুদিন ঝিনাইদহ ইসলামী ব্যাংক কমিউিনিটি হাসপাতালে রোগী দেখতেন। এরপর তিনি সিরাজগঞ্জে নিজস্ব ব্যবসায় শুরু করেন। মুসা অভিযোগ করেন, গত ঈদুল আজহার দিন সন্ধ্যায় পুলিশ পরিচয়ে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় তারা একটি জিডিও করেছেন। সজিবের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন। তবে পুলিশের দাবি সজিব ঢাকা দক্ষিণ শিবিরের 'উপদেষ্টা কমিটির সদস্য' ছিল। অবশ্য শিবিরের এ ধরনের কোনো কমিটি নেই বলে জানিয়েছে সংগঠনটির বিভিন্ন সূত্র। এদিকে জহুরুল ইসলামের বাবা সমসের আলী মোল্লা জানান, তার ছেলে গত ৭ সেপ্টম্বর ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে ফেরার পথে পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই থেকেই জহুরুল ইসলাম নিখোঁজ ছিলেন। জহুরুল ইসলাম ছাত্র জীবনে শিবিরের ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি ও পরবর্তীতে জামায়াতের ঝিনাইদহ শহর শাখার আমীরের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন তার পিতা।

২৩ অক্টোবর রাজধানীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রাসেল দেওয়ান (৩৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়। রাত ৩টার দিকে আশুলিয়ার চারিগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঢাকার পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ মিজান রাফিউর রহমান জানান, রাসেলের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র আইনে সাভার ও আশুলিয়া থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে। তিনি এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী। রাসেল আশুলিয়া থানার নিরিবিলি এলাকার পিয়ার আলীর ছেলে। পুলিশের ভাষ্য, রাসেলের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তলসহ কয়েকটি গুলী ও গুলীর খোসা উদ্ধার করা হয়।

এর আগে ১৮ অক্টোবর লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে দস্যু ফকির বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মজনু বাহিনীর প্রধান মজনু নিহত হয়। নিহত মজনু উপজেলার চর আফজাল প্রামের মৃত জাহাঙ্গীরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র ও অপহরণসহ ১৪টি মামলা রয়েছে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে রামগতি উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। 

২০ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গার স্কুলছাত্র সজিবকে অপহরণের পর হত্যা ও গুম মামলার আসামী সবুজ (২৮) ও শাকিল (২৪) র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। ভোর রাত পৌনে ৩টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার পরানপুর বেলেমাঠ পাড়ার পাকা রাস্তার পুকুরের পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় র‌্যাবের ২ সদস্য আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটা দেশী শার্টারগান, একটি রিভলবার, চার রাউন্ড গুলী ও দুইটি ধারালো হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। নিহত সবুজ দামুড়হুদা উপজেলা শহরের মৃত হামিদুল ইসলামের ও শাকিল একই এলাকার আব্দুল কাদের মন্ডলের ছেলে। একইরাতে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপাড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্ধুযুদ্ধে হুমায়ুন কবির (৩৫) নামে এক ডাকাত নিহত হয়। রাত ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানান, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীকে নিয়ে পুলিশের একটি দল ডাকাতি হওয়া টাকা ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য চন্ডিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ থেকে থাকা হুমায়ুন কবিরের সহযোগিরা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ডাকাতরা এলোপাথারী গুলী ছুঁড়ে। জীবন বাঁচাতে পুলিশও পাল্টা গুলী ছুঁড়ে। এ সময় ডাকাতদের গুলীতে হুমায়ুন মারা যায়। হুমায়ুন বরিশাল জেলার ডেকুলিয়া পাড়া প্রামের মৃত আব্দুল ছাত্তারের ছেলে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ