মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ফেনীতে ইউপি নির্বাচনে ব্যাপক জালভোট বিএনপিসহ আ’লীগ বিদ্রোহীদের ভোট বর্জন

ফেনী সংবাদাদাতা : ফেনীতে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণ গতকাল সোমবার শেষ হয়েছে। তবে ভোট কারচুপির অভিযোগ করে বিএনপি প্রার্থীরা গতকাল দুপুরে তারা ভোট বর্জন করে নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানান। ফেনী সদরের ধর্মপুর ও বালিগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে  নৌকার প্রার্থী চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ব্যালটে আগাম সিলমারতে দেখা গেছে। 

এদিকে ব্যাপক জাল ভোট, কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করে বালিগাঁওয়ে বিএনপি সমথিত প্রার্থী আমিনুল করিম ফয়েজ, মুন্সিরহাটে বিএনপি প্রার্থী আবু হানিফ বাবু ও আমজাদহাট ইউনিয়নের জাসদ (ইনু) প্রার্থী গোলাম জব্বার পল্টু ভোট বর্জন করেছে। 

এদিকে ফুলগাজী উপজেলার জিয়া মাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল মোতালেবকে ভোট গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

অপরদিকে ফেনী সদরের ধর্মপুর ইউনিয়নে গত রবিবার রাতে গুলীবর্ষণ ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সেখানের নয়টি কেন্দ্রেই ভোটারদের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেছে। সকালে অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্র দখল নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৩ জন গুলীবিদ্ধ হয়েছে। আহতরা হলেন মিল্লাত, তুহিন, হান্নান, বাবু, ইউসুফ, রমজান, সরোয়ারসহ অনেকে। আহদের বিভিন্ন  হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রাত থেকে শত শত বহিরাগত নৌকার পক্ষে ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করে। ভোটারদের অভিযোগ, বহিরাগত ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান নেওয়ায় তারা আতঙ্কে আছেন। ধর্মপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাহাদাত হোসেন সাকা ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী এম আজহারুল হক আরজু নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল, সোমবার সকাল ও গত রাতে সংঘর্ষের জন্য এক অপরকে দায়ী করেছে।

ফেনী জেলার ১১টি ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফেনী সদর থানার ধর্মপুর, বালিগাঁও, ফুলগাজী থানার আনন্দপুর, দরবারপুর, মুন্সিরহাট, ফুলগাজী সদর, জিএমহাট, আমজাদহাট পরশুরাম থানার মিজানগর, চিথলিয়া, বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন। ফুলগাজীর আনন্দপুর ও দরবারপুরে চেয়ারম্যান পদে এবং পরশুরামে  চিথলিয়া, মিজানগর, বক্সমাহমুদ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

অপরদিকে সোমবার সকালে ধর্মপুর মঠবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জালভোট দেয়ায় সাকা সমর্থক হানিফের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে  ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার সকালে ওই  কেন্দ্রে ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তারের জালভোট দেয়ার সময় হাতেনাতে মো. হানিকে (৩৫) আটক করে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিকেএম এনামুল করিমের আদালতে হাজির করা হলে তিনি এর সত্যতা পেয়ে হানিফকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। সে মঠবাড়িয়া গ্রামের ছালেহ আহাম্মদের ছেলে। সে আ’লীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সাকার সমর্থক। এ সময় সাকাও উপস্থিত ছিলেন।

গুলীবিদ্ধ ১২ : ফেনী সদরের ধর্মপুর ইউপিতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলীর ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত পৌনে ১১টার দিকে জোয়ারকাছাড় ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১২জন গুলীবিদ্ধ হয়েছেন উভয় পক্ষের দাবির প্রেক্ষিতে জানা গেছে। এ সময় দুটি প্রাইভেট কারে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এমন দাবি করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই চেয়ারম্যার প্রার্থী।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব মোর্শেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সংবাদ মাধ্যম কে বলেন, কতজন আহত হয়েছেন তিনি নিশ্চিত নন। তবে তিনিসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ধর্মপুর ইউপির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আজাহারুল হক আরজু অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় প্রতিপক্ষের বহিরাগত লোকজন অতর্কিতে তার কর্মীদের ওপর গুলি চালায়। এতে তার তিন কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। অপরদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী শাহাদাত হোসেন শাকা অভিযোগ অস্বীকার করে বিপরীতে তার দলের ওপর হামলার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, অতর্কিত হামলায় তার পাঁচ-ছয় জন সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছে। শাটার গান দিয়ে এসব গুলি ছোড়া হয়। দুটি ব্যক্তিগত গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, বহিরাগতরা দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে কেন্দ্রসহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ