বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রূপগঞ্জে শাশুড়িকে ছুড়িকাঘাত করে হত্যা করলো মেয়ের জামাই ॥ গ্রেফতার ২

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা ঃ  নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদকসেবী মেয়ের জামাইয়ের দাবিকৃত জমি বিক্রি করে টাকা না দেয়ায় শাশুড়ি আলাতুন নেছা (৭০) কে ছুড়িকাঘাত করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় ওই বৃদ্ধা শাশুড়ির মেয়েকেও ছুড়িকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার ভোরে উপজেলার তারাব পৌরসভার গন্ধর্বপুর এলাকায় ঘটে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। নিহত আলাতুন নেছা ওই এলাকার রেজাউর রহমানের স্ত্রী। গ্রেফতারকৃতরা হলো, গন্ধর্বপুর এলাকার শহিদুল্লাহ মিয়ার ছেলে আতাবুর রহমান ও করম আলীর ছেলে সানাউর হোসেন সানু। 

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান জানান, লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

নিহতের পারিবারিক সুত্র জানায়, গত ১০ বছর আগে গন্ধর্বপুর এলাকার রেজাউর রহমানের মেয়ে মাজেদা বেগমের সঙ্গে একই এলাকার মৃত খোরশেদ মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে এক লাখ টাকাসহ আসবাবপত্র দেয়া হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে বর্ষা নামে একটি মেয়ে সন্তান হয়। তোফাজ্জল হোসেন একজন জামদানি তাঁতী ছিলেন। সন্তান জন্ম হওয়ার পর মেয়ের সুখের চিন্তা করে বাবা রেজাউর রহমান ও মা আলাতুন নেছা বাড়ি থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ ও ১৭ শতাংশ কৃষি জমি রেজিস্ট্রি করে দেয় মাজেদা বেগমকে। 

জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার পর থেকেই ওই জমি বিক্রি করে টাকা দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছে জামাই তোফাজ্জল হোসেন। আর জমি বিক্রি করে টাকা না দেয়ায় প্রায় সময়ই মাজেদা বেগমের উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হতো। ঘন ঘন নির্যাতন করায় মাজেদার বাপের বাড়ি থেকে ৪ লাখ টাকাও দেয়া হয় তোফাজ্জল হোসেনকে। 

গত দের বছর আগেও নির্যাতন করায় মাজেদা বেগম তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গ তাদের স্বামী-স্ত্রীকে মিলিয়ে দেন। 

বেশ কয়েক দিন ধরে আবারো ওই জমি বিক্রি করে টাকা দেয়ার জন্য মাজেদা বেগমের উপর নির্যাতন ও চাপ প্রয়োগ করে আসছিলো তোফাজ্জল হোসেন। বাবা রেজাউর রহমান ও মা আলাতুন নেছা মেয়ের উপর নির্যাতন সয্য করতে না পেরে মাজেদা বেগমকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। আর বেশ কয়েক দিন ধরেই মাজেদা বেগম তার বাবা-মায়ের সঙ্গেই বসবাস করে আসছে। 

আহত মাজেদা বেগম জানান, সোমবার ভোর ৪টার দিকে মাজেদা বেগম ও তার মা আলাতুন নেছা ও মেয়ে বর্ষা ঘুমন্ত অবস্থায় কৌশলে দরজা খুলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তোফাজ্জল হোসেনসহ সহযোগী আতাবুর রহমান, সানাউর হোসেন সানু, মাসুদ ওরফে টুনুসহ ৬/৭ জনের একদল। পরে অন্ধকারের মধ্যেই মা আলাতুন নেছার মুখ চেপে ধরে এলোপাতাড়িভাবে ছুড়িকাঘাত শুরু করে তোফাজ্জলসহ তার লোকজন। এসময় সজাগ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের বাতি জ্বালিয়ে দেন মাজেদা বেগম। পরে মাজেদা বেগমকেও ছুড়িকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। 

এক পর্যায়ে মাজেদা বেগম ও মেয়ে বর্ষা চিৎকার শুরু করলে আশ-পাশের লোকজন ছুটে আসলে হত্যাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় আতাবুর রহমান ও সানাউর হোসেন সানুকে আটক করে জনতা। বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত মাজেদা বেগম ও তার মা আলাতুন নেছাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আলাতুন নেছাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

মাজেদা বেগম আরো জানান, মাজেদা বেগমকে মনে করেই অন্ধকারে তার মা আলাতুন নেছাকে ছুড়িকাঘাত করা হয়েছে। কারণ মাজেদা বেগমকে হত্যা করতে পারলে ওই জমি তোফাজ্জল হোসেনের আত্মসাত করতে সহজ হবে।  

এদিকে, আলাতুন নেছাকে হারিয়ে তার স্বামী রেজাউর রহমান প্রায় পাগল হয়ে গেছেন। কোন সারা শব্দ নেই। শুধুই বির বির করে বলছে ”আমার আলাতুন কই, আমার আলাতুনরে আইনা দেও”। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, তোফাজ্জল হোসেনসহ অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ