বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

মিয়ানমারে ধর্ষণের ব্যাপারে দায়মুক্তি!

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে সাম্প্রতিক অভিযানকালে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বহুসংখ্যক রোহিঙ্গা মুসলিম নারীকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এর মধ্যে গত ১৯ অক্টোবর শুধু একটি গ্রামেই ৩০ জন রোহিঙ্গা নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা মানবাধিকার সংস্থা আরাকান প্রজেক্টের পরিচালক ক্রিস লেওয়া। তিনি জানান, গত ২০ অক্টোবর একটি গ্রামের দুই নারী ও ২৫ অক্টোবর ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৫ কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনীর অপকর্ম সম্পর্কে গত ২৫ অক্টোবর বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক (বিএইচআরএন)ও একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সামরিক বাহিনীর অভিযানের সময় মংডু এলাকায় অন্তত ১০ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এতে তিন মাসের গর্ভবতী একজন নারীও আছেন। ধর্ষণের ফলে গর্ভের শিশুটি নিহত হয়েছে। বিএইচআরএন কর্মকর্তা উ কেয়াও উইন বলেন, মিয়ানমার সরকার রাখাইনে ক্রমাগত আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করছে এবং অপরাধ করেই যাচ্ছে। মিয়ানমার সরকার রাখাইন যৌন নিপীড়ন বন্ধের ব্যাপারে  আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অঙ্গীকার করলেও তা মানছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সামরিক বাহিনী রাখাইন প্রদেশটি ঘিরে ফেলে অভিযানের নামে ব্যাপক হারে হত্যা, লুট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের মতো কাজ করছে। মিয়ানমার টাইমস জানিয়েছে, রাখাইনে কঠিন সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাজ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে সঠিক তথ্য যাচাই করার কাজ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এদিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তাদেরকে রাখাইনে প্রবেশের অনুমতি দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন, যাতে ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত মানবাধিকার হরণের অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে তদন্ত করা যায়। এছাড়া মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ অধিকার হরণের অভিযোগ অস্বীকার করলেও নারী অধিকার সংগঠনগুলো মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যৌন নিপীড়ন এবং ধর্ষণের ঘটনাগুলোর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে।
প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ২০০৮ সালে প্রণীত মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী দেশটির সেনাবাহিনী যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে দায়মুক্তি পেয়ে আসছে। ফলে তারা রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের ব্যাপারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কিছু মানবাধিকার সংগঠন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিচারের মুখোমুখি করতে এই সাংবিধানিক দায়মুক্তি পরিবর্তন দাবি করে আসছে। এদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপ-পরিচলক ফিল রবার্টসন জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানকালে নারীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ বেশ পুরানো। ফলে প্রশ্ন জাগে, এত জানাজানির  পরও পুরানো এই অভিযোগের ব্যাপারে মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত দায়িত্ব পালনে ক্ষমতাধর সভ্য পৃথিবী এগিয়ে এলো না কেন? রোহিঙ্গা নারীরা মুসলিম, এটাই কি তাদের অপরাধ? এখন দেখার বিষয় হলো, নোবেল বিজয়ী অং সান সুচির সরকার কলঙ্কজনক এই অধ্যায় সমাপ্তির ব্যাপারে ন্যায়সঙ্গত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ