সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

অভিষেক টেস্ট বোলিংয়েই মিরাজ এখন বিশ্বসেরা

স্পোর্টস রিপোর্টার : ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট ম্যাচ সিরিজটা হয়ে গেল মিরাজেরই। প্রথম টেস্টে চট্টগ্রামে মিরাজের বোলিংয়েই জয়ের স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়টা হাতছাড়া হয় টাইগারদের। তবে ঢাকা টেস্টে আরো কঠিনভাবে জ্বলে উঠেন মিরাজ। আর তার বোলিংয়েই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ। আর মিরাজও হয়ে যান জয়ের নায়ক। সেই সাথে অভিষেক টেস্টেই মিরাজ দেশের পক্ষে সেরা বোলিংয়ের বেশ কয়েকটা রেকর্ড গড়েন। শুধু দেশের পক্ষেই নয়। মিরাজ এখন বিশ্বসেরাও। গতকাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই কৃতিত্ব গড়লেন স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। অভিষেকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন তিনি। দুই ম্যাচের নির্দিষ্ট কোনও সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার এখন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি পেয়েছেন ১৯ উইকেট। এই কীর্তি গড়তে গিয়ে মিরাজ ১২৯ বছর আগের রেকর্ড ভেঙেছেন। ১৮৮৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার জন জেমস  ফরিস নিজের অভিষেক দুই ম্যাচের  টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ ১৮ উইকেট নিয়েছিলেন। সিডনিতে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছিলেন ৫টি উইকেট। এরপর একই মাঠে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫টি উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৪টি উইকেট নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে তার উইকেট সংখ্যা ছিল ১৮টি। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ মিরাজ শেষ করছেন ১৯ উইকেট নিয়ে। গতকাল আরও কিছু রেকর্ড গড়েছেন মিরাজ। এ দিন এক ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে স্বদেশী এনামুল হক জুনিয়রকে ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। তাদের দুইজনের উইকেট সংখ্যা সমান হলেও গড় উইকেটে এগিয়ে থাকায় সবার উপরেই আছেন মিরাজ। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে মিরাজ টপকেছেন সাকিব আল হাসানকে। চট্টগ্রামের পর ঢাকা টেস্টে দুই ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের একমাত্র বোলার হিসেবে বিরল কীর্তি গড়েছেন তিনি। অন্যদিকে পর পর দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া স্পিনারদের মধ্যে তিনি তৃতীয়। মিরাজের উপর নির্ভর করেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। কারণ মিরাজের বোলিং আক্রমণেই কুপোকাত ছিল ইংলিশরা। ফলে পুরস্কার হিসেবে অভিষেক টেস্টেই মিলেছে সিরিজ ও ম্যাচসেরার পুরস্কারও। গতকাল অ্যালেস্টার কুকের উইকেটনি নিয়েই আনন্দে ভাসলেন মিরাজ। কারণ অভিষেক সিরিজে নিজেকে তুলে নিলেন অনন্য উচ্চতায়। ইংলিশ অধিনায়কের উইকেট দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজের এটা চতুর্থ উইকেট। প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। আর এতেই বাংলাদেশের মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে পেলেন ১০ উইকেট। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচেই মিরাজ পেলেন ১০ উইকেট। এনামুল ১০ উইকেট পেয়েছিলেন নিজের পঞ্চম টেস্টে। সাকিবের লেগেছিল ৩৬ টেস্ট। আর অভিষেক টেস্টই মিরাজ ছাড়িয়ে গেলেন সবাইকে। বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচে ১০ উইকেট প্রথমবার পেয়েছিলেন এনামুল হক জুনিয়র। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট পেয়েছিলেন ৯৫ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৫ রানে ৫ উইকেট। ম্যাচে ২০০ রানে ১২ উইকেট এখনও টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলিং। আর  ২০১৪ সালে নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খুলনা টেস্টে ১২৪ রানে ১০ উইকেট পান সাকিব। ওই ম্যাচে সাকিব করেছিলেন সেঞ্চুরিও। শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ১৫৯ রানে ১২ উইকেট নিয়ে এনামুলকে ছাড়িয়ে মিরাজ বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন মিরাজ। গতকাল দলের পক্ষে প্রথম উইকেট নেন মিরাজই। অবশ্য মিরাজের উপরই ভরসা ছিল বাংলাদেশের। মিরাজ হতাশ করেননি। তৃতীয় সেশনের প্রথম বলেই আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। জায়গায় দাঁড়িয়ে তার স্পিন করে ভেতরে ঢোকা বল খেলতে গিয়ে বোল্ড হন বেন ডকেট। তবে ডকেটের বিদায়ের আগে ইংল্যান্ড করে ১০০ রান। মিরাজের দ্বিতীয় শিকার ছিলেন গ্যারি ব্যালান্স। মিরাজের  বলে ব্যাটের কানায়  লেগে উঠে যাওয়া ক্যাচ মিড অফ থেকে দৌড়ে এসে তালুবন্দি করেন তামিম ইকবাল। ১৪ বলে ৫ রান করে ব্যালান্স ফিরে যাওয়ার সময় ইংল্যান্ডের স্কোর ৩ উইকেটে ১২৪ রান। মিরাজের তৃতীয় শিকার মঈন আলী। শূন্য রানেই তাকে ফেরালেন মিরাজ। গ্যারি ব্যালান্সকে বিদায় করার পর সেই ওভারেই মঈন আলিকে ফিরান তিনি। মিরাজের বলে এলবি হওয়ার পর রিভিউ নেন ইংলিশ এইবাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তাতে সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি। ফলে ১২৪ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেব আউট হন তিনি। মিরাজের চতুর্থ শিকার ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক। কুক একবার রিভিউ নিয়ে বাঁচলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। তাকে ফিরালেন মিরাজই। মিরাজের বলে কুকের ব্যাট ছুঁয়ে আসা ক্যাচ সিলি পয়েন্টে তালুবন্দি করেন মুমিনুল হক। ফলে দলের ১২৭ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে অধিনায়ক কুককে ফিরিয়ে মিরাজ দলের সামনে জয়ের স্বপ্নটা এনে দেন। ফলে দ্বিতীয় ইনিংস ৫৫ রানে ৪ উইকেট নিলেন মিরাজ। প্রথম ইনিংসে ৮২ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন মিরাজ। আর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই ১০ উইকেটের দেখা পেয়েন ১৯ বছর বয়সী অফ স্পিনার মিরাজ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা এলবি দেওয়ার পর রিভিউ নেন অ্যালেস্টার কুক। রিপ্লেতে দেখা যায় অল্পের জন্য বল  লেগ স্টাম্প লাগতো না। তাই বেঁচে যান ইংলিশ অধিনায়ক। সে সময় ৪৪ রানে ব্যাট করছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। মিরাজের পঞ্চম শিকার বেয়ারস্টো। মাত্র তিন রান করার পর মিরাজের বলে শুভাগত হোমের কাছে ক্যাচ দিয়েই মাঠ ছাড়েন বেয়ারস্টো। মিরাজ শুধু প্রথম উইকেটই নয়। শেষ উইকেট নিয়েও দলকে জয় এনে দিলেন। মিরাজের ৬ষ্ঠ ও শেষ শিকার ছিলেন স্টেভিন ফিন। ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই তাকে এলবি আউট করে ফিরান মিরাজ। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও  মিরাজ নিলেন ৬ উইকেট। দ্বিতীয় টেস্টে তার উইকেট সংখ্যা ১২। আর দুই টেস্টে মোট ১৯ উইকেট। যাতে মিরাজ দেশের গন্ডি পেরিয়ে ঢুকে গেলেন বিশ্ব ক্রিকেটের রেকর্ডেও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ