মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আজকের কাক্সিক্ষত জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির জন্য বিজ্ঞান প্রকৌশল ও প্রযুক্তি পূর্বশর্ত

আইআইইউসি’র ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী -সংগ্রাম

চট্টগ্রাম অফিস : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেছেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাম্প্রতিক অগ্রগতি আমাদের জীবনের প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ছাড়া স্বপ্নের স্থিতিশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং টেকসই শিল্পায়নের উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রকৌশল ও প্রযুক্তির এই পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব বলেন, যে কোন সফল অর্থনীতির জন্য, বিশেষ করে আজকের কাক্সিক্ষত জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির জন্য বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি হচ্ছে পূর্বশর্ত। তিনি আরও বলেন, এখন বিজ্ঞান পড়ার প্রবণতা বেড়েছে। এটা খুব আশাব্যঞ্জক দিক। আমাদের দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে আরো ব্রতী হতে হবে। প্রতিনিয়ত গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।   
গতকাল শুক্রবার সকালে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের প্রথম এবং আইআইইউসি’র আয়োজনে ১০ম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী এ অভিমত ব্যক্ত করেন। কুমিরায় আইআইইউসি’র নিজস্ব ক্যাম্পাস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ইনোভেশন্স ইন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি-২০১৬’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী এই কনফারেন্সের উদ্বোধনী আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন আইআইইউসি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ.কে.এম আজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটি সেইন্স মালয়েশিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বিল্ট এনভাইরনমেন্ট অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. কামারুজ্জামান সিমন, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রফেসর ড. এম কায়কোবাদ, এবং আই ট্রিপল ই বাংলাদেশ সেকশনের সভাপতি প্রফেসর ড. শেখ আনোয়ারুল ফাত্তাহ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইআইইউসি’র ভারপ্রাপ্ত প্রো ভাইস চ্যান্সেলর এবং কমিটি কনভেনার প্রফেসর ড. দেলাওয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মনিরুল ইসলাম ও কমিটির সদস্য সচিব তানভীর আহসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের যাপিত জীবনকে সহজ করে নৈতিকতা, নান্দনিকতা, শিক্ষা ও ন্যায়বিচারের মত গুণাবলিকে ধারণ ও অনুসরণ করার এবং মানব উন্নয়নের পথ সুগম করেছে। তিনি জাতিসংঘের ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার’ কথা উল্লেখ করে বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে গবেষণা সহযোগিতাকে প্রায় সকল বিষয়ভিত্তিক লক্ষ্যকে এই লক্ষ্যমাত্রার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিল্পবিপ্লব দেশ, জাতি ও সভ্যতার পুরো দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছিল। আমাদেরকেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রফেসর জামিল বলেন, দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও পন্ডিতদের এই সমাবেশ এবং মেধা ও অভিজ্ঞতার বিনিময় তরুণ শিক্ষার্থীদেরকে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি জগতের অনাবিষ্কৃত দিগন্তকে উন্মোচন করার সুযোগ করে দেবে। এই কনফারেন্স এই ক্ষেত্রের নবতর অগ্রগতি বোঝার ক্ষেত্রে সবাইকে আলোকিত করবে। তিনি এই কনফারেন্সের আয়োজক আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান।
অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. এম কায়কোবাদ বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর মাধ্যমেই বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ একমাত্র কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা যেতে পারে। সর্বক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হলেও এখনও এই বিশ্ব ক্ষুধা, রোগ, দূষণ, নিরক্ষরতা ও দারিদ্র্যমুক্ত নয়। এর কারণ কেবল প্রাকৃতিক সম্পদের অসম প্রাপ্তি নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞানের অভাবও এখানে একটা ভূমিকা রাখছে।
সভাপতির বক্তব্যে আইআইইউসি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ.কে.এম আজহারুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গুরুত্বের নিরীখে এর ডাইমেনশনগুলোর উপর বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, আবিষ্কার এবং সমাজের মধ্যে সম্পর্কটা জটিল। বিশেষ করে বাংলাদেশে এসবের নতুন জ্ঞান সমাজের সমস্যা সমাধান করতে পারেনা। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি যাদের প্রয়োজন সেই মানুষের কাছে পৌছায় না। এই কনফারেন্স বিশ্বের গবেষক, শিক্ষাবিদ ও পন্ডিতদের সম্মিলনের এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সর্বক্ষেত্রের নতুন ধারণা, সাম্প্রতিক ফলাফল এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনা সম্পর্কে মতবিনিময়ের দারুণ সুযোগ করে দিয়েছে।
উল্লেখ্য এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে দেশের প্রায় সবক’টি সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও সৌদি আরবসহ ১৮টি দেশের প্রসিদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষক-প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করবেন। কনফারেন্সে প্রাপ্ত ২৭৯ টা প্রবন্ধের মধ্যে ৭৮ টা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ