বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ফের জালিয়াতি ॥ আটক ৭

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার : কঠোর তৎপরতা গ্রহণের পরেও ঠেকছে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি। এহেন পরিস্থিতিতে প্রশ্নবিদ্ধ থেকেই যাচ্ছে কঠোর তৎপরতা ও নিরাপত্তার বিষয়টি। গতকাল শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরই মাধ্যমে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সমাপ্তি হয়। ভর্তি পরীক্ষার শেষ পর্যায়েও জালিয়াতি ঠেকাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গতকালের ভর্তি পরীক্ষায় বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে জালিয়াতির অভিযোগে ৭ জনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে আটককৃতদের শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। 

আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্ততি নেয়া হচ্ছে বলে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ। এর আগে গত ২১ অক্টোবর ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করে কারাদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

এ বছর এই ইউনিটের অধীনে ১ হাজার ৫৪০টি (বিজ্ঞান- ১ হাজার ৯৭, বিজনেস স্টাডিজ- ৩ শ’ ৯০, মানবিকে- ৫৩টি) আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গতকাল শুক্রবার সকালে। সকাল ১০টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরের ৯৯টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর মোট আবেদন করেছিল ১ লক্ষ ৯ হাজার ১৭০জন। ভর্তি চলাকালীন বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে জালিয়াতির অভিযোগে ৭জনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

আটককৃতরা হলেন- কার্জন হল থেকে আজিমুল আবিদ খান রিফাত ও আব্দুল্লাহ আল মুহসীনকে, নীলক্ষেত হাই স্কুল থেকে তরিকুল ইসলাম তুহিনকে, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ থেকে তৌহিদুল ইসলাম ও এনামুল হককে, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল থেকে মোঃ মিলন হোসাইনকে এবং শেখ বাওয়ানি কলেজ কেন্দ্র থেকে আবু সাঈদকে আটক করা হয়।

এদের মধ্যে দু’জন শিক্ষার্থীর কাছে নারীদের অলংকার সদৃশ ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং বাকিদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। যার মাধ্যমে তারা ‘ইমো’, ‘হোয়াটস্এ্যাপ’ এর মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বন করে। তবে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া শিক্ষার্থীদের আটক করা গেলেও বরাবরের মতো মূল হোতারা এবারও ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে যায়।

পরীক্ষা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি যাতে জালিয়াতি না হয়। একারণে ডিন অফিসে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্র প্রধানদের নিয়ে দু’বার মিটিং হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা ডিনের প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছে তাদেরকে নিয়ে মিটিং হয়েছে। সেখানে তারা জালিয়াত চক্রের মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। 

পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জালিয়াত চক্র তাদের নিজেদের মতো চেষ্টা করে, আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করি।

এদিকে, গত ২১ তারিখ শক্রবার ঢাবির বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ক-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১৩ জনকে জালিয়াতির দায়ে আটক করা হয়। তবে মূল হোতা, অসাধু মহলের সেই রাঘব বোয়ালদের এখনো নাগাল পাওয়া যায়নি। এদিকে এসব চক্রকে ধরার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ