বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

খুলনায় মশার উপদ্রব কেসিসি নির্বিকার

খুলনা অফিস : মওসুম পরিবর্তনের সুযোগে হঠাৎ করেই বেড়েছে মশার উৎপাত। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকার বাসাবাড়ি, অফিস, স্কুল-কলেজ, দোকানপাট সবখানে মশককূল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সমহিমায়। অথচ মশক নিধনের কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ নগরীর মানুষ।

নগরবাসীর অভিযোগ, গত সপ্তাহ থেকে মশার উৎপাত বেড়েছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মশার উৎপাত যেন বেড়ে যায় কয়েকগুণ। দিনেও মশার যন্ত্রণা কম-বেশি থাকে। ওষুধ, স্প্রে, মশারি, ইলেকট্রিক ব্যাট কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। মশার যন্ত্রণায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে ঘরের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে অনেকাংশে। পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং মশা নিধন কার্যক্রম না থাকায় উৎপাত বেড়েছে কয়েকগুণ। 

নগরীর বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, ‘আমার ছোট একটা মেয়ে আছে। বয়স দেড় বছর। মশার যন্ত্রণায় মেয়েকে নিয়ে পড়েছি দারুণ বিপাকে। প্রায় সারাদিন বাসার মধ্যে স্প্রে করতে হয়। তারপরও মশা কমছে না। বাসায় ছোট বাচ্চা থাকায় মশার কয়েলও ধরাতে পারি না।’ শেখপাড়ার আরেক বাসিন্দা জিয়াউল হক বলেন, ‘মশার উৎপাতে গত মাসে বাসা বদল করে দোতলা থেকে চারতলায় উঠেছি। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, মওসুম পরিবর্তনের সময়ে মশার প্রজনন বাড়ে। বিশেষ করে শীতের শুরুতে ও বর্ষার শেষ মওসুমে মশার প্রকোপ কিছুটা বাড়ে। নগরীর বিভিন্ন ডোবা, খাল এবং ময়ূর নদে কচুরিপানার কারণে মশার উৎপাত বেশি হয়। এজন্য অক্টোবর ও নবেম্বরের শুরুর দিকটায় মশার উৎপাত বেড়ে যায়। এ বিষয়টা জানা থাকা সত্ত্বেও মশক নিধনে কেসিসিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

তবে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ বলেন, ‘আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। মশা নিধনে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। নতুন করে মশার ওষুধ কেনার চেষ্টা করা হচ্ছে। মশার ওষুধ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি,এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট পাব। রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ কিনে ফগার মেশিনের সাহায্যে মশক নিধনের ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ