বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

প্রত্যাশার চাপ মানিয়ে নিয়েই ভালো করতে চাই -মুশফিক

স্পোর্টস রিপোর্টার : ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে তেমন ভালো কিছু আশা করেনি বাংলাদেশ দল। কিন্তু চট্টগ্রাম টেস্টে টাইগারদের ভালো পারফরম্যান্সের পর সবার চিন্তা বদলে গেছে। কারণ প্রথম টেস্টে জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম টেস্টে শেষ পর্যন্ত ২২ রানে বাংলাদেশ হারলেও ঢাকা টেস্ট নিয়ে ক্রিকেট অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ঢাকা টেস্ট জয়ের স্বপ্ন আছে এখন টাইগারদের মনে। তাইতো প্রত্যাশার চাপটা একটু বেশিই। তবে এই প্রত্যাশার চাপটুকুই মানিয়ে নিতে চান বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। গতকাল ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন তিনি। মুশফিক বলেন, ‘প্রত্যাশার কথা যদি বলেন, আগের থেকে বাংলাদেশ দলে পারফরমারের সংখ্যা বেশি। আমরা সবসময় চেয়েছি, সব ফরম্যাটে ভালো ফল করতে। প্রথম টেস্টে আমরা ভালো খেলেছি কিন্তু কখনওই সেটা অপ্রত্যাশিত ছিল না। এটা বলতে পারেন যে পাঁচদিন প্রভাব বিস্তার করে খেলাটা অপ্রত্যাশিত। কিন্তু আমরা যে লড়াই করব, এটা অপ্রত্যাশিত ছিল না। বিশ্বাসটা আমাদের মধ্যে ছিল। বিশ্বাস ছাড়া কেউ কিছু অর্জন করতে পারে না। প্রত্যাশা সবসময়ই থাকে। আমরাও চেষ্টা করছি প্রত্যাশার চাপ মানিয়ে নিয়ে ভালো পারফরম্যান্সের দিকে মনোযোগী হতে।’ টেস্টে ভালো করার রসদ হিসেবে মুশফিক মনে করেন দলে অনেক বেশি পারফরমার রয়েছে। আগে যা ছিল না, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি পারফরমার রয়েছে। এ নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের দলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি পারফরমার। আগে ২-১ দুজন থাকলে, এখন সেটা পাঁচ-ছয় জনে। একটা দলের জন্য এটা ইতিবাচক ব্যাপার। এটার জন্য হয়ত আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছি। আশা করব, এই পারফরমাররা যেন এই টেস্টেও ভালো করে এবং তার সঙ্গে যেন দল হিসেবেও ভালো করতে পারি।’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ৫০তম টেস্ট খেলতে নামবেন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক। বাংলাদেশের হয়ে মুশফিক ছাড়া ৫০ টেস্ট খেলার রেকর্ড আছে মাত্র দুইজনের। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল খেলেছেন ৬১টি এবং আরেক সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন খেলেছেন ৫০টি টেস্ট। তাই স্বাভাবিকভাবেই ৫০তম টেস্ট খেলতে নামার আগে রোমাঞ্চিত মুশফিক। তাই এই মাইলফলকে পৌঁছানোর ম্যাচে স্মরণীয় কিছু করতে চান মুশফিক। তিনি বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে। বাংলাদেশে ৫০টি টেস্ট খেলা খুব সহজ নয়। চেষ্টা করবো ব্যক্তিগতভাবে ভালো খেলতে এবং দল যেন ভালো করে। দলের ভালোর জন্য আমার যা যা করা দরকার আমি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’ চট্টগ্রাম টেস্টে ৪০ উইকেটের বেশির ভাগ পড়েছে স্পিন আক্রমণে। দুই ইনিংসে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের ২০ উইকেটের ১৯টিই নিয়েছেন সাকিব-তাইজুল-মিরাজরা। বাংলাদেশের ২০ উইকেটের মধ্যে ১২টি নিয়েছেন ইংলিশ তিন স্পিনার গ্যারেথ ব্যাটি-মঈন আলী-আদিল রশিদ। চট্টগ্রামে টার্নিং উইকেটের সাফল্যের বিচারে স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের স্পিনাররা ইংলিশদের চেয়ে খানিকটা হলেও এগিয়ে। এ নিয়ে মুশফিক বলেন ‘দুটো দুই ধরনের। ভালো পেস বোলিং আক্রমণের কারণে ওদের স্পিনারদের আক্রমণে যেতে হয় না। রক্ষণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়ে লম্বা সময় বোলিং করে গেলেই হয়। আমাদের স্পিনাররাই মূল শক্তি, ওদেরই অ্যাটাক করতে হয়, উইকেট নেয়ার চেষ্টা করতে হয়। রক্ষণাত্মক বোলিং করে লাভ হবে না। সে দিক থেকে অবশ্যই আমাদের স্পিনাররা এগিয়ে।’ স্পিনারদের নিয়ে মুশফিক আরো বলেন, ‘আমাদের স্পিনাররা অন্তত তিনটা কন্ডিশনে বল করতে পারে। পুরনো বলে হোক বা নতুন বলে, অ্যাটাক করে বা ডিফেন্সিভ, তারা খেলতে পারে। এটাই আমাদের ন্যাচারাল। সেদিক থেকে আমাদের স্পিনাররা এগিয়ে।’ চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের স্পিনাররা আরো ভালো করতে পারত বলে মনে করেন তিনি। মুশফিক বলেন, ‘গত টেস্টে আমাদের স্পিনাররা আরও ভালো বল করতে পারতো। হয়তো ১৫ মাস পর খেলেছে, কিন্তু এ রকম উইকেটে প্রথম ইনিংসে আরও একটু ভালো বোলিং করলে ওদের রান একটু কম হতো।’ চট্টগ্রামের কন্ডিশন পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে। তাই বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট চট্টগ্রামের মতোই উইকেট চেয়েছে মিরপুরে। মিরপুরের উইকেট থেকে স্পিনারদের পাশাপাশি পেসাররাও সমান সুবিধা পেয়ে থাকেন, সেই হিসাবে চট্টগ্রামের মতো উইকেট মিরপুরে পাওয়ার সম্ভবনা খানিকটা কমই। বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম অবশ্য উইকেট নিয়ে এতোকিছু ভাবছেন না। এদিকে ঢাকা টেস্টে আছে বৃষ্টির শংকা। মুশফিকও বৃষ্টি নিয়ে খানিকটা চিন্তিত। মুশফিক বলেন,‘বৃষ্টির প্রভাব একটু হলেও হবে। আমি তো সকালে দেখে ভেবেছি টানা দুই-এক দিন বৃষ্টি হবে। এখন তো মাঠে এসে দেখি অনেক রোদ। আসলে এগুলো ভেবে লাভ নেই। আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল, সে দিক থেকে একটু হলেও হয়তো নড়চড় হবে। উইকেট দেখে আমরা খুশি ছিলাম। প্রায় প্রস্তুত উইকেট। খুব একটা বেশি কাজ করার নেই। এখানে পেস বোলারদের পাশাপাশি স্পিনাররাও অনেক সাহায্য পেয়ে থাকে। সেদিক থেকে বলব, যেটাই হোক আমরা চেষ্টা করব কন্ডিশন অনুযায়ী খেলার।’ চট্টগ্রাম টেস্টে রিভার্স সুইং ভুগিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও বেন স্টোকসের রিভার্স সুইংগুলো ঠিকভাবে খেলতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এছাড়া পুরনো বলে ইংল্যান্ডের পেসাররা রিভার্স সুইং দিতে পারলেও বাংলাদেশের পেসাররা পারেনিতাদের বল রিভার্স করাতে। প্রথম টেস্ট থেকে বিষয়গুলো অনুধাবন করছেন মুশফিক। ঢাকা টেস্টে এগুলো কাজে লাগানোর ব্যাপারে মনোযোগী থাকবেন বলেও জানান টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। মুশফিক বলেন, ‘প্রথম টেস্ট থেকে আমরা সেটা শেখার চেষ্টা করছি। অনেকদিন পর এরকম মানের বোলিংয়ের বিপক্ষে খেলেছি। বিশ্বের খুব কম ব্যাটসম্যানই আছে যে রিভার্স সুইংয়ে ভালো খেলে। আমাদের জন্য সেটা বড় শিক্ষা ছিল। আমাদের টেল এন্ডারদের জন্যও। আমরা চেষ্টা করব যেন টেল এন্ডারদের খেলতে না হয়। যাতে করে বেশিরভাগ রানটুকু টপ অর্ডাররাই করতে পারে।’ ঢাকা টেস্টে পেসারদের নিয়ে প্রত্যাশা কী থাকবে জানতে চাইলে মুশফিক বলেন,‘আমরা যেভাবে এক-দেড় বছর পরপর খেলি, সেক্ষেত্র কাজটা কঠিন। বিশেষ করে পেসারদের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যায়।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ