রবিবার ২০ জুন ২০২১
Online Edition

রাজধানীবাসীর কুকুর আতংক ॥ অস্বস্তির মধ্যে কিছুটা স্বস্তির সংবাদ

মোঃ ইকবাল হাসান : প্রভুভক্ত প্রাণীদের মধ্যে কুকুর অন্যতম। কুকুরের প্রভু উপকারী নানা ঘটনা শোনা যায় মানুষের মুখে। এ ধরনের ঘটনা পাওয়া যায় পুস্তকে এবং রয়েছে পবিত্র কুরআনে। তবে অস্বস্তির কারণ হয় বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ে। বেওয়ারিশ কুকুর এখন রাজধানীবাসীর অন্যতম আতংক ও উদ্বেগের কারণ। এক সময় সিটি কর্পোরেশন নিজেদের উদ্যোগেই বেওয়ারিশ ও বিপজ্জনক কুকুর নিধন করে রাজধানীবাসীকে এদিক থেকে উৎকণ্ঠামুক্ত রাখতো। তবে আদালতের নির্দেশের কারণে সিটি কর্পোরেশন বেওয়ারিশ কুকুর নিধন তথা কুকুর নিধন থেকে বিরত রয়েছে। এই সুযোগে বেওয়ারিশ কুকুর ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়ে রাজধানীবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। গোত্রপতির নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকার দখলে বিভিন্ন কুকুর দলের। আর আধিপত্য বজায় রাখতে দুই কুকুর দলের লড়াইয়ের দৃশ্য প্রায়ই চোখে পড়ে। এ ধরনের লড়াইয়ের সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের লড়াইয়ের মতো আতংকে ছুটতে হয় পথচারিকে। গভীর রাতে রাস্তার বিভিন্ন এলাকা অবরোধ করে রাখে বিভিন্ন কুকুর বাহিনী। কুকুরের অবরোধের মধ্যে রাস্তা পার হতে হয় প্রাণ হাতে নিয়ে। নিজ এলাকার কুকুর হলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়। আর ভিন্ন এলাকা হলে আতংকে জানে পানি থাকে না। এ অবস্থার মধ্যে প্রায়ই শুনা যায় উগ্র কুকুরের কামড় এবং কামড়ে শরীর থেৎলে দেয়ার ঘটনা। কুকুরের দ্রুত প্রজননের ফলে রাজধানীবাসীর অতংক আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব অস্বস্তিকর খবরের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তরের মেয়র আনিসুল হক সম্প্রতি মহাখালী ডিএনসিসি মার্কেটে আয়োজিত বেওয়ারিশ কুকুর টিকাদান ও বন্ধাকরণ কমসূচি (সেতু) উদ্বোধনকালে জানান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিচরণকারী ৪ হাজার বেওয়ারিশ কুকুরকে টিকাদান ও বন্ধাকরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে প্রায় ২৫ হাজার কুকুরকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। ডিএনসিসির সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশ, হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল এবং অভয়ারণ্য এই কর্মসূচি পরিচালনা করবে। জলাতংক রোধে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। চলতি বছর এপ্রিলে ডিএনসিসি, হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল এবং অভয়ারণ্যের মধ্যে বেওয়ারিশ কুকুর বন্ধাকরণের বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়। স্বস্তির সংবাদ বিধায় এই সংক্রান্ত খবরের পেপার কাটিংটি আমি পকেটে নেই এবং এটি পড়ে আমার মতো অনেকে স্বস্তি প্রকাশ করেন। এ সময় অনেকে কুকুরের কামড়ের নানা প্রকার বেদনাদায়ক ঘটনা বর্ণনা করেন। একজন জানান কুকুরের আক্রমণ থেকে বাঁচতে গিয়ে দৌড়ে এক স্কুলছাত্রের মারাত্মক আহত হওয়ার ঘটনা। অপরজন জানান, কুকুরের কামড়ে এক শিশুর শরীর থেতলে যাওয়ার ঘটনা। একজন নিজে কুকুরের কামড় খাওয়ার অভিজ্ঞতা জানান। সব শেষ ঘটনাটা বেশি বেদনাদায়ক। কুকুরের কামড়ে মারা গেছে পিতা-মাতার একমাত্র ছেলেটি। রাজধানীবাসীর অস্বস্তি ও উদ্বেগ হ্রাস করতে এটি আশাবাদী সংবাদ। কুকুর নিধন অমানবিক বিবেচনা করে আদালতের নির্দেশে ২০১২ সাল থেকে কুকুর নিধন বন্ধ রয়েছে। সেই সুযোগে কুকুর ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়ে মানুষের মানবিক অবস্থার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছ। তাই কুকুর নিধন না করে বিকল্প পথে কুকুর হ্রাসে সিটি কর্পোরেশনের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক। পদক্ষেপটি রাজধানীবাসীর প্রতি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার প্রমাণ নিঃসন্দেহে। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ আরো একটু ভাবতে পারেন। মানুষের জন্য ক্ষতিকারক মানুষকেও কারাদণ্ড দেয়া হয়। অধিক ক্ষতিকারক এবং বিপজ্জনক মানুষকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেয়া হয়। কুকুর নিধন বন্ধ করা আদালতের নির্দেশ। তবে পাগলাটে, নানা প্রকার জটিল রোগে আক্রান্ত এবং অধিক বিপজ্জনক কুকুর নিধন বা বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায় যায় কি না কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবেন। প্রয়োজনে আদালতের বিশেষ নির্দেশ নিয়ে হলেও এরূপ পদক্ষেপ নেয়া যায় কি না ভেবে দেখবেন। নগর পিতা তার ভাবনা আরো সম্প্রসারিত করবেন বলে আমার বিশ্বাস। কারণ কুকুর তো আর মানুষের ঊর্ধ্বে নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ