শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

রাজধানীতে অস্ত্রের মুখে স্বজনদের পণবন্দী করে কিশোরীকে ধর্ষণ

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর দক্ষিণখানের মধুবাগে বাসায় ঢুকে ধারাল অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে বলে দক্ষিণখান থানার ওসি তপন চন্দ্র রায় জানান। গ্রেফতার হওয়া আনোয়ার হোসেন (২৭) মধুবাগে ‘ধর্ষিতার’ প্রতিবেশী বলে জানান তিনি।
টুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরীর বাড়ি খুলনার পাইকগাছায়। তার মা একটি গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করেন। মধুবাগে মামার পরিবারের সঙ্গে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকেন তারা। স্বজনদের বরাত দিয়ে ওসি তপন বলেন, ভোররাতে আনোয়ারসহ এক যুবক বটি নিয়ে তাদের বাসায় ঢুকে পড়ে। তার ওই সহযোগী ধারাল অস্ত্রের মুখে মেয়েটির স্বজনদের জিম্মি করে। আর আনোয়ার তাদের সামনে তাকে ধর্ষণ করে। সকালে মেয়েটির মা বাদী হয়ে আনোয়ারের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন বলে জানান তিনি। ওসি বলেন, আনোয়ারের ওই সহযোগীর নাম-পরিচয় জানতে পেরেছেন তারা। তবে তদন্তের স্বার্থে তা এখন প্রকাশ করতে চাইছেন না।
দুই সন্তানের জনকের লালসার শিকার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী : রাজধানীর অদূরে ধামরাইয়ের কাতর বাইল্যা গ্রামে দুই সন্তানের জনকের লালসার শিকার হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রী। ধর্ষককে স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরলেও পরে সালিশ বৈঠকের কথা বলে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও ধর্ষকের খালু। গতকাল সোমবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতা জলশীন এলোকেশী উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। অপরদিকে ধর্ষক একই গ্রামের মো. হারুণ-অর রশিদের ছেলে ও দুই সন্তানের জনক মো. আরশেদ আলী। এ ঘটনায় গতকাল সকালে ধামরাই থানায় ধর্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে প্রায়ই ওই ছাত্রীকে আরশেদ আলী উত্ত্যক্ত করতো। গত ১৯ অক্টোবর তাকে কু-প্রস্তাব দেন তিনি। বিষয়টি ওই ছাত্রী তার মা-বাবাকে জানায়। পরে রাতে বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিশ হয়। সেখানে আরশেদ আলীকে শাসন করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভোরে গোপনে স্কুলছাত্রীর শোবার ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে আরশেদ আলী। এ সময় ধর্ষিতার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ধর্ষককে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে তাকে স্থানীয় মাতুব্বর মো. আব্দুর করিম মাস্টারের বাড়িতে রাখা হয়।
খবর পেয়ে ধর্ষকের খালু সোনা মিয়া ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার বদরউদ্দিন বদু ঘটনাস্থলে এসে সালিশে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে আরশাদকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। নিরুপায় হয়ে ধর্ষিতার বাবা থানায় গিয়ে সকালে অভিযোগ দায়ের করেন। ধর্ষকের পিতা হারুণ-অর রশিদ বলেন, ওই স্কুলছাত্রীর বাবা আমার আত্মীয়। আমি তার কাছে খুবই লজ্জিত। কাজটি মোটেও ঠিক হয়নি। ছেলেকে আমি বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছি। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার করার কথা জানান।
এ বিষয়ে ইউপি মেম্বার বদরউদ্দিন বদু বলেন, ধর্ষিতার ভবিষ্যৎ জীবনের কথা ভেবে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু তারা যেহেতু থানায় গেছে, এখন আর আমার কিছু করার নেই। ধামরাই থানার ওসি (তদন্ত) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ধর্ষিকার ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হবে। পরিবারের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ