সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

খুলনার ২০ সহস্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ট্রেড লাইসেন্স নেই

খুলনা অফিস : খুলনার সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) আওতায় রয়েছে  প্রায় ৪১ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স আছে মাত্র ২০ হাজার ৩৮৩টি। বাকি ২০ সহস্রাধিক দোকানের কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই। সম্প্রতি কেসিসির পক্ষ থেকে নগরীর দোকান জরিপ কার্যক্রম শুরু করলে এই চিত্র ধরা পড়ে। বিপুল অংকের টাকা রাজস্ব ফাঁকির বিষয় দেখে বিস্মিত কেসিসির কর্মকর্তারাও।
কেসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ভেতরে কতগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে এবং এরমধ্যে কতগুলোর  ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে-তার সঠিক তথ্য কেসিসির কাছে ছিল না। এই তথ্যের জন্যই গত আগস্ট মাস  থেকে নগরীতে দোকান/ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জরিপের কাজ শুরু করে কেসিসি। নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ৩৩ জন কর পরিদর্শককে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডের কাজ শেষ করেছেন তারা। এই ২৮টি ওয়ার্ডে মোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৪ হাজার ৭৩টি।
এছাড়া নগরীর বড় বাজার, কালিবাড়ি বাজার, রেলওয়ে মার্কেটসহ বাজার এলাকা হিসেবে পরিচিত ২১নং ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দৌলতপুর বাজার এলাকা নিয়ে গঠিত ৬নং ওয়ার্ডে প্রায় ৬ হাজার এবং ২৩ নং ওয়ার্ডে দুই হাজারের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই ৩টি ওয়ার্ডে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি থাকায় অতিরিক্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে দ্বিতীয় দফায় ভালোভাবে জরিপ চালানো হচ্ছে।
কেসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফ নাজমুল হাসান বলেন, ইতোমধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডে জরিপ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এই ২৮ ওয়ার্ডে দোকান রয়েছে ২৪ হাজার ৭৩টি। বাকি ৬, ২১ ও ২৩নং ওয়ার্ডে আরও ১৬ হাজার দোকানের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সংখ্যায় বেশি হওয়ায় এই ৩টি ওয়ার্ডে ভালো করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা পাওয়া যাবে। এছাড়া কিছু ঠিকাদার, আমদানিকারক, সরবরাহকারীসহ কিছু ভাসমান ব্যবসায়ী আছে যাদের  দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। সব মিলিয়ে প্রায় ৪১ থেকে ৪৩ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই ৪১ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছেন মাত্র ২০ হাজার ৩৮৩ জন। বাকিরা ট্রেড লাইসেন্স নেননি। তাদের ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে সেই সব কাজ শুরু হয়ে গেছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে সবাইকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।
কেসিসির হিসাব বিভাগ থেকে জানা গেছে, বর্তমানে ২০ হাজার ৩৮৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে কেসিসি রাজস্ব পেয়েছে ৪ কোটি ৫৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭ টাকা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ায় চলতি অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ কোটি টাকা। সব দোকান ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনা গেলে এই খাতে কেসিসির রাজস্ব আয় ৯ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে কেসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিসুর রহমান বিশ্বাস বলেন, বেতনবৃদ্ধিসহ নানাভাবে কেসিসির ব্যয় বেড়েছে। এজন্য অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সেই চেষ্টা থেকেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ট্রেড লাইসেন্স জরিপ করা হয়েছে। সবাইকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনতে পারলে এটাই হবে কেসিসির দ্বিতীয় আয়ের খাত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ