রবিবার ৩১ মে ২০২০
Online Edition

সরকার দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ভারতের তাবেদারী করছে -ডা. ইরান

রামপালে সুন্দরবন ধ্বংসকারী কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের দাবি জানিয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, সরকার দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ভারতের তাবেদারী করছে। জনবিচ্ছিন্ন ও ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ভারতের স্বার্থে দেশ বিরোধী দাসখত চুক্তি করেছে। রামপালে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের নামে সরকার সুন্দরবন ও জীব বৈচিত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। অবৈধ সরকারের সাথে অবৈধ চুক্তি ও প্রকল্প বাংলাদেশের জনগণ প্রতিহত করবে। কেননা ইতোমধ্যে রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এনপিটিসি নিজ দেশ ভারতের নরসিংহপুর, কর্নাটক রাজ্য, তামিলনাডু রাজ্য ও শ্রীলংকা থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে প্রকল্প গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বরিশাল মহানগর বিএনপির নগর কার্যালয়ে সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে সংহতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। লেবার পার্টির বরিশাল মহানগর সভাপতি এডভোকেট এম আবদুর রাজ্জাক রাজুর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা ছিলেন লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট ফারুক রহমান। বক্তব্য রাখেন লেবার পার্টির যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মহসিন ভূঁইয়া, বিএম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক জিএস অধ্যাপক মাজহারুল হক জিসান, নগর সাধারণ সম্পাদক খায়রুজ্জামান রিয়াদ, নগরনেতা আবু জাফর আহমেদ, প্রচার সম্পাদক ওয়ালিউল্লাহ রায়হান, নারীনেত্রী মিসেস সাবিনা ইয়াসমিন, ছাত্রমিশন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সালমান খান, যুগ্ম সম্পাদক নাসরুল্লাহ তালুকদার, নগর ছাত্রমিশন সভাপতি রায়হান মাহমুদ প্রমুখ।

মোস্তাফিজুর রহমান ইরান আরো  বলেন, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের মারাত্মক ক্ষতিকারক প্রতিক্রিয়ার সব তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনের পরেও সরকার দেশবিরোধী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প আছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের স্থানেরও অনেক বিকল্প আছে, কিন্তু সুন্দরবনের কোন বিকল্প নাই। আমরা সরকারকে সুন্দরবনকে নিশ্চিত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়ার হঠকারী, অযৌক্তিক ও অলাভজনক প্রকল্প বাতিলের দাবি জানাই। প্রতিদিন দেশে ও বিদেশে দেশপ্রেমিক ও মানবতাবাদী ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠন জনস্বার্থ ও পরিবেশ বিপন্নকারী প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেও সরকার শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন দমন করে চলছে।

তিনি আরো বলেন, রামপাল প্রকল্প দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক বেষ্টনি ধ্বংস করবে, জীব বৈচিত্রের বিলোপ ঘটাবে, লাখ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা ধ্বংসের কারণ হবে, পরিবেশ ও পানি দুষিত করবে, আশে পাশের কৃষি জমির উর্বরা শক্তি এবং মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করবে এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন সরকারের যুক্তিহীন জেদ ও দ্রুততা শুধু সন্দেহ জনক নয়, দেশবাসীর জন্য চরম উদ্বেগের বিষয়। রামপালে কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কর্তৃপক্ষ, রামসার কনভেনশনের সচিবালয়, বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর ও দেশের পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের আপত্তি অগ্রাহ্য করে সরকার প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ৮ হাজার  পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না দিয়ে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফসলি জমি ও মাছের ঘের ভরাট করা হচ্ছে। উচ্ছেদকৃত কৃষিজীবীদের সাথে সুন্দরবনে কাঠ, গোলপাতা, মধু সংগ্রহকারী ও আশে পাশের নদী ও খালে মাছ শিকারি হাজার হাজার পরিবার বেকার ও নিঃস্ব হয়ে যাবে। তাই দেশ ও মানুষের স্বার্থে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ লড়াই সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ