বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

আগৈলঝাড়ায় ৭ হাজার লোকের নিরাপত্তায় ১ জন পুলিশ!

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় আড়াই লাখ লোকের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মাত্র ৩৭ জন পুলিশ। গড়ে প্রায় ৭ হাজারজন লোকের নিরাপত্তার জন্য মাত্র ১ জন পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশের জনবল কাঠামো কম থাকায় উপজেলায় আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে আড়াই লাখেরও বেশী জনগণ বসবাস করছে, অথচ ১০ বছর আগে এ উপজেলায় লোকসংখ্যা ছিল ১ লাখের নীচে। তখনও থানা পুলিশের জনবল কাঠামো অনুরূপ ছিল। ১০ বছর পর জনসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হওয়ার পরেও পুলিশের জনবল কাঠামো বাড়েনি একজনও। আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের একটি মাত্র পিকআপ ভ্যান রয়েছে। ফলে আসামী গ্রেফতার করতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে রাতের বেলায় পেট্রোল ডিউটি করার জন্য পুলিশকে টেম্পু মালিক সমিতি থেকে প্রতিদিন টেম্পু রিকুইজিশন করতে হচ্ছে। থানা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ওসিসহ ৬ জন এস আই, ৪ জন এ এস আই ও ২৭ জন কনষ্টবল কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ জন কনস্টেবল থানায় সার্বক্ষণিক ডিউটিতে থাকেন। ১জন এস আই ডিউটি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন এবং ১ জন থাকেন ইমার্জেন্সীর দায়িত্বে। ১জন কনস্টেবল প্রতিদিন জেলা সদরে ডাক আনা নেয়া করেন, ১ জন মুন্সি বা লেখক, ১ জন ওয়ারলেস অপারেটর ও ১ জন বিভিন্ন নোটিশ প্রদানের দায়িত্বে থাকেন। বাকি ২৬ জন আড়াই লাখ লোকের নিরাপত্তার প্রহরী হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে প্রায়ই ২-৩ জন ছুটিতে থাকেন। যারা রাতে পেট্রোল ডিউটি করেন তারা আবার দিনের বেলায় মামলার তদন্ত কাজসহ দৈনন্দিন কাজ করে থাকেন। উপজেলার ৭ হাজার জন লোকের নিরাপত্তার জন্য মাত্র ১ জন পুলিশ দায়িত্বে রয়েছে। ফলে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে হিমসিম খেতে হচ্ছে। জনবল কম থাকায় থানার কর্মরত এস আই ও কনস্টেবলদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। কোথাও কোন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন ও ধর্ষণ হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিক অনেক সময় ব্যবস্থা নিতে না পাড়ায় জনরোষের শিকারসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের বিরূপ প্রতিক্রিয়াও হয়ে থাকে। অথচ পুলিশের সমস্যা ও জনবল সংকট নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কখনও ভাবেন না। এ ব্যাপারে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাশ সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের সংখ্যা কম হলেও আগৈলঝাড়ার আইন-শৃংখলা ভালো আছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আরোও পুলিশ সদস্য চাওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ