রবিবার ৩১ মে ২০২০
Online Edition

জ্ঞান ফিরলেও স্বজনদের চিনতে পারছেন না খাদিজা

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিলেটের কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো তার পুরোপুরি জ্ঞান ফিরে আসেনি। খাদিজা পরিবার বা স্বজনদের কাউকে চিনতে পারছেন না। তার শরীরের এক অংশ এখনও প্যারালাইজড হয়ে আছে। অনেকটা অবচেতন মনেই নার্গিস চোখ খুলছেন এবং বন্ধ করছেন বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক ও স্বজনরা।

হাসপাতালের মেডিসিন অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের পরামর্শক মির্জা নাজিম উদ্দিন জানান, খাদিজার শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে তাকে শক্ত ও নরম খাবার দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শরীরের যন্ত্রণা বোঝাতে মুখ দিয়ে কোনো কথা না বললেও একধরনের শব্দ করছেন নার্গিস। সেটা অনেকটা গোঙানির মতো শোনাচ্ছে। খাবার দিলে খাচ্ছে। কখনো নল দিয়ে আবার কখনো মুখে তুলে খাবার দেওয়া হচ্ছে। তার শরীরে এখনো পুরোপুরি চেতনা নেই। তবে কোমা থেকে বেরিয়ে এসেছেন নার্গিস। চিকিৎসক বলেন, বিগত কয়েকদিনে একটু উন্নতির দিকে রয়েছে নার্গিসের শারীরিক অবস্থা। ১০ অক্টোবর দুপুরে নার্গিসের প্যাসেকটমি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় নার্গিসের মুখ থেকে অক্সিজেন নল সরিয়ে গলার সাথে সংযোগ দেয়া হয়। ১৮ অক্টোবর লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার পর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য গলায় লাগানো কৃত্রিম নলও খুলে ফেলা হয়।

এদিকে খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুস জানান, তার পুরোপুরি জ্ঞান ফিরেছে বলা যাচ্ছে না। অবস্থার উন্নতি হলেও তিনি এখনো পরিবারের বা স্বজনদের কাউকে চিনতে পারছেন না। গত বৃহস্পতিবার সকালে ওকে দেখে বেশ ‘অস্থির’ লাগছিল, মনে হচ্ছিল যন্ত্রণা হচ্ছে তার। খাদিজাকে দেশের বাইরে নিতে চাচ্ছি আমরা। কিন্তু সরকার যেহেতু বলেছে ওর চিকিৎসার সব ব্যবস্থা নেবে, তাই আমরা তাদের সহযোগিতা কামনা করছি। তবে উৎকণ্ঠার কিছু নেই জানিয়ে ডা. নাজিম উদ্দিন বলেন, এটা একটা প্রসেস অব রিহেবিলিটেশন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে সবাইকে চিনতে পারবে। নার্গিসের আত্মীয়রা আবেগের সঙ্গে বিষয়টি দেখছে। উৎকণ্ঠার কিছু নেই। খাদিজাকে নল দিয়ে খাওয়ানো হতো। এখন সে চিবিয়ে খেতে পারছে। বৃহস্পতিবার তাকে কিছুক্ষণ হুইল চেয়ারেও ঘুরানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর সিলেট এমসি কলেজের পুকুর পাড়ে সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে নৃশংসভাবে কোপায় বদরুল আলম নামে এক বখাটে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও অর্থনীতি বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র এই বদরুল। হাতে নাতে আটক বর্বর হামলাকারী বদরুলকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা। চাপাতির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত খাদিজাকে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ৪ অক্টোবর ভোরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়। ওই দিনই নার্গিসের অস্ত্রোপচার করা হয়। সেদিন ডা. মির্জা নিজামউদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নার্গিসের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তার মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। চাপাতির আঘাত মাথার খুলি ভেদ করে ব্রেইনে ইনজুরি হয়েছে। এরপর খাদিজার মাথায় একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়। সর্বশেষ গত সোমবার তার ‘মাসল চেইন’ কেটে যাওয়া ডান হাতে অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা।

এদিকে ৬ অক্টোবর সিলেটের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন পুলিশের হেফাজতে থাকা হামলাকারী বদরুল। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খাদিজাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার কথা স্বীকার করে বখাটে বদরুল। বর্তমানে সিলেট কারাগারে রয়েছে সে। অন্যদিকে খাদিজার ওপর বর্বর হামলার ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে ঘৃণা আর প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ