রবিবার ৩১ মে ২০২০
Online Edition

পাঁচ উইকেটে ২২১ রান করেছে বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল্লাহর রান নেয়ার দৃশ্য। খেলায় ৯০ রানের জুটি গড়েন তারা -ইএসপিএন

নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম : দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে শেষে ৭৪ ওভারে পাঁচ উইকেটে ২২১ রান করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের থেকে ৭২ রানে পিছিয়ে রয়েছে টাইগাররা। শুক্রবার চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে লাঞ্চ বিরতির আগে ইংল্যান্ডের ২৯৩ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করে স্বাগতিকরা।

ব্যাটিং শুরু করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন! ইনিংসের ১৪তম ও নিজের প্রথম ওভারে দুই উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের চাপে ফেললেন মঈন আলী। ইমরুলকে ক্লিন বোল্ড করার পর মুমিনুল হককে বেন স্টোকসের ক্যাচে পরিণত করেন এ ডানহাতি অফস্পিনার। ইমরুল ৫০ বলে ৩টি চারের সাহায্যে ২১ রান তুলেন আর মমিনুল ৩ বলে রানের খাতা না খোলে বিদায়। ৪৩.২ ওভারে আদিল রশিদের বলে ক্যাচ হয়ে মাঠ থেকে বিদায় নেয় মাহমুদ উল্লাহ। তিনি ৬৬ বলে ৩টি চারের সাহায্যে ব্যক্তিগত ৩৮ রান সংগ্রহ করেন। তার আউট হওয়ার মধ্যদিয়ে তামিম-মাহমুদ উল্লাহর ৯০ রানের জুটি ভেঙ্গে যায়। দু’জনের পার্টনারশিপে সামনে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৩ উইকেটে রান ১১৯। পরে মুশফিকের সঙ্গে ৪৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তামিম। ৫৪.৪ ওভারে ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল গ্যারেথ ব্যাটির বলে জনি বেয়ারস্টোর গ্লাভসবন্দি হয়ে গ্যালারীতে ফিরে যায়। তামিম ১৭৯ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৭৮ তুলেছেন। টেস্ট ক্যারিয়ারের হাফ সেঞ্চুরির সংখ্যাটা ১৯-এ নিয়ে গেলেন তামিম ইকবাল। তবে তামিম ইকবালের অষ্টম টেস্ট সেঞ্চুরি করার অপেক্ষাটা আরেকটু দীর্ঘায়িত হলো। ৪ উইকেটে রান ১৬৩। ৭১.৩ ওভারে বেন স্টোকস বলে জনি বেয়ারস্টো ক্যাচ হয়ে আউট হন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। মুশফিক তুলেছেন ৭৭ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৪৮ রান। তিনি মাত্র ২ রানের জন্য অর্ধ শতক বঞ্চিত হলেন। ৫ উইকেটে রান ২২১। রানের চাকা সচল রেখে পঞ্চম উইকেটে অর্ধশত রানের জুটি গড়েছেন মুশফিকুর ও সাকিব। পঞ্চাশ ছুঁতে তারা খেলেন ৬৬ বল। তবে, ৬৭ ওভারের শুরুতে বাংলাদেশের রান ছিল ২২০। ৭২ ওভারের তৃতীয় বলে যখন খেলা শেষ হয় তখন রান ২২১। অর্থাৎ শেষ ৭ ওভারে মাত্র ১ রান নিতে পেরেছে টাইগাররা। এতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়। সাকিব ৩১ রানে সাইফুল ইসলাম শূন্য রানে অপরাজিত থেকে তৃতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামবেন। 

এরআগে সফরকারী ইংল্যান্ড অলআউট হয়েছে ২৯৩ রানে। দ্বিতীয় দিনে ৩৫ রানেই তিন উইকেট হারায় ইংলিশরা। ৯২ ওভারে প্রথম দিনে ৭ উইকেটে ২৫৮ রান নিয়েছিল ইংলিশরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই ইংল্যান্ডের সর্বনিম্ন রান। ২০০৩ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ২৯৫ রান ছিল আগের সবচেয়ে ছোট ইনিংস। আগের দিনের পাঁচ উইকেট শিকারি মেহেদি হাসান মিরাজের হাত ধরেই অলআউট হয় সফরকারীরা। ১০৩তম ওভারের প্রথম বলেই অলআউট হতো সফরকারীরা। রিভিউর কল্যাণে বেঁচে যান স্টুয়ার্ট ব্রড! নিজের তৃতীয় উইকেটের লক্ষ্যে তাইজুল ইসলামের এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দিয়েছিলেন কুমার ধর্মসেনা। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল লেগ স্টাম্প মিস করছে। শেষ পর্যন্ত মিরাজের হাত ধরেই ইংলিশ ইনিংসের কবর রচিত হয়। ব্রডকে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দি করে নিজের উইকেট সংখ্যাটা ৬-এর ঘরে নিয়ে যান এ উঠতি অফস্পিন অলরাউন্ডার। তিনি ৩৭ বলে ২টি চারের সাহায্যে ১৩ রান তুলেছেন। দ্বিতীয় দিনের প্রথম বলেই উইকেট উদযাপনে মাতেন তাইজুল ইসলাম। লেগ শর্টে দাঁড়ানো মুমিনুল হকের তালুবন্দি হন ক্রিস ওকস। ৭৪ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৩৬ রান তুলেন ওকস। ১০১তম ওভারে আদিল রশিদকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন এ বাঁহাতি স্পিনার। সাব্বির রহমানের হাতে ধরা পড়েন তিনি। রশিদ ৫৪ বলে ৩টি চারের সাহায্যে ২৬ রান করেন। দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফিরতেন রশিদ। প্রথম দিনের নায়ক মিরাজের এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়াও দিয়েছিলেন আম্পায়ার। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি। বৃহস্পতিবার দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে সফরকারীরা। 

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১০৫. ৩ ওভারে ২৯৩ (কুক ৪, ডাকেট ১৪, রুট ৪০, ব্যালান্স ১, মইন ৬৮, স্টোকস ১৮, বেয়ারস্টো ৫২, ওকস ৩৬, রশিদ ৫*, ব্রড ১৩, ব্যাটি ১*; শফিউল ০/৩৩, মিরাজ ৬/৮০, কামরুল ০/৪১, সাকিব ২/৪৬, তাইজুল ২/৪৭, সাব্বির ০/১১, মাহমুদ উল্লাহ ০/১৭, মুমিনুল ০/০)। 

বাংলাদেশ :২২১/৫(৭৪.০ওভার)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ