রবিবার ৩১ মে ২০২০
Online Edition

আওয়ামী লীগের ৬৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ ২০তম জাতীয় কাউন্সিল আজ 

  • সভাপতি পদে শেখ হাসিনা চূড়ান্ত ॥ সম্পাদক পদে পরিবর্তনের আভাস 

স্টাফ রিপোর্টার : উৎসাহ-উদ্দীপনা আর নজরকাড়া সাজসজ্জায় আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হচ্ছে দেশের প্রাচীন দল আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন। দলটির ৬৭ বছরের ইতিহাসের এই প্রথমবারের মতো এত জাঁকজমকভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলন উপলক্ষে দলটির সব জেলা কার্যালয়ও সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। তবে হঠাৎ করে সাধারণ সম্পাদক পদের পরিবর্তনের গুঞ্জনে প্রস্তুতির সঙ্গে নেতা-কর্মীদের মধ্যে কে কোন পদ পাচ্ছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। পুরো সম্মেলন ঘিরে মূল আকর্ষণ নতুন নেতৃত্বে কারা আসছে।

দলীয় নেতারা বলেছে, কমিটি হবে নির্বাচনমুখী। থাকবে চমক। সূত্র বলছে,আওয়ামী লীগের আগামী দিনে সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা চূড়ান্ত তার বিকল্প এখনো দলে তৈরি হয়নি বলে মনে করেন নেতারা। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কে হবেন পরবতী সম্পাদক? সৈয়দ আশরাফ নাকি ওবায়দুল কাদের ,তা নিয়ে চলছে অনেক গুঞ্জন। 

এবারের সম্মেলনের স্লোগান তৈরি করা হয়েছে অনেক আগেই। ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত হবে সম্মেলন। সম্মেলনের প্রথম দিন আজ শনিবার হবে উদ্বোধনী অধিবেশন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সকাল ১০টায় বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দলের ২০তম সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, শোকপ্রস্তাব, আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে অভ্যর্থনা উপকমিটির আহ্বায়কের ভাষণ, সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন পেশ, অতিথিদের ভাষণ এবং সর্বশেষ সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষ হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর, অতিথি এবং নেতা-কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। উদ্বোধনী অধিবেশন এবং প্রথম দিন সন্ধ্যায় থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এরই মধ্যে থিম সং গাওয়ানো হয়েছে জনপ্রিয় গায়ক বাপ্পা মজুমদারকে দিয়ে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি তা পরিবেশন করবেন। এ ছাড়া থাকবে জাতীয় সংগীত, দেশাত্মবোধক গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি, বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নিজ নিজ সংস্কৃতির গান ও নাচ।

এরপরে কাল রোববার সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বসবে দলটির কাউন্সিল অধিবেশন। এখানেই ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের সংযোজন-বিয়োজন হবে। দলের তৃণমূলের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলবেন জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা। এই অধিবেশনেই নির্বাচিত হবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তবে অধিবেশনটি হবে রুদ্ধদ্বার। সেখানে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার থাকবে না।

গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র প্রস্তুত: 

গত বুধবার গঠনতন্ত্র প্রণয়ন-বিষয়ক উপকমিটি উত্থাপিত সংশোধিত গঠনতন্ত্রে চূড়ান্ত সম্মতি দেওয়া হয়। সম্মেলনে তা উপস্থাপনের পর তা অনুমোদন দেয়া হবে। সংশোধিত গঠনতন্ত্রে কার্যনির্বাহী সংসদের আকার ৭৩ থেকে ৮১ সদস্যবিশিষ্ট করার প্রস্তাব করা হয়। এতে সভাপতিমণ্ডলীর চারটি, একটি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একটি সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দুজন সদস্য বাড়ানোর সুপারিশে সম্মতি দেয় কার্যনির্বাহী সংসদ। ফলে নতুন করে আটটি পদ সৃষ্টি হয়েছে। সভাপতিমণ্ডলীর দুটি পদ এখন ফাঁকা। তা ছাড়া বর্তমান কমিটির কিছু সদস্য বাদ যেতে পারেন, এমন আলোচনাও আছে। তাই এবারের কাউন্সিলের পর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন মুখের সংখ্যা বাড়বে। এখন আলোচনা হচ্ছে এসব পদে কারা আসছেন। তা ছাড়া গত বুধবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের পর থেকেই খবর ছড়িয়ে পড়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক। ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক হলে দলে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অবস্থান কী হবে, সেটাও আসছে আলোচনায়। তা ছাড়া সভাপতিমণ্ডলীতে সব অঞ্চলের প্রতিনিধি রাখার চেষ্টা করা হবে বলে কেন্দ্র থেকে বলা হচ্ছে। তাই সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের নেতাদের মধ্যে কারা সভাপতিমণ্ডলীতে আসছেন, তা নিয়েও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

এবারের স্লোগানও সাজ সজ্জা : এবারের কাউন্সিলের জন্য যে স্লোগান ঠিক করা হয়েছে তার মধ্যেই নিহিত আছে আগামীর পরিকল্পনা। ‘উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার/ এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার।’ সম্মেলন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থাপন করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন নৌকা আকৃতির বিরাট মঞ্চ। সাজানো হয়েছে চারপাশ তথা পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশের এলাকা। আলোকসজ্জার পাশাপাশি গাছগুলোতে করা হয়েছে সাদা-লাল রং। মঞ্চে যাওয়ার রাস্তাগুলোয় আলোকসজ্জার পাশাপাশি সম্মেলনের পোস্টার-ব্যানার দিয়ে আচ্ছাদিত করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা-উপজেলার উল্লেখযোগ্য সড়ক, স্থান ও স্থাপনা সাজানো হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য তোরণ। করা হয়েছে আলোকসজ্জা। সন্ধ্যা হলেই লাল-নীল আলোয় রঙিন হয়ে উঠছে শহর-বন্দর-রাজপথ। একইভাবে আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দলীয় সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবন এবং তাঁর সরকারি কার্যালয়সহ রাজধানীর উল্লেখযোগ্য সড়কগুলো বিভিন্নভাবে সাজানো হয়েছে। সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোও সম্মেলন উপলক্ষে রঙিন করে সাজানো হয়েছে। রংবেরঙের কাপড় দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো সম্মেলনস্থল। মঞ্চের দুপাশে রাখা হয়েছে দলীয় সাবেক নেতাদের প্রতিকৃতি। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্মেলনস্থলে উপস্থাপন করা হবে আওয়ামী লীগের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ এবং সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের চিত্র। মঞ্চের সামনে ২০ হাজার অতিথির বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা : 

সম্মেলনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা। এ ছাড়া উদ্যানের চারপাশের রাস্তা, নগরের সব কটি প্রবেশপথ এবং অন্যান্য স্থানেও নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। এর মধ্যে র‌্যাব পুলিশের কয়েক হাজার সদস্যের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাতটি গেটসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত ৫০টি দল কাজ করবে। এ ছাড়া মঞ্চ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তায় স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করবেন।

সম্মেলনের বিভিন্ন প্রকাশনা বিতরণ করা হবে। সভাপতির ভাষণ, সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট, শোকপ্রস্তাব ছাপানো হয়েছে। প্রচারণার জন্য বানানো হয়েছে একাধিক সিডি। সেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য, আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রতিটি খাতে তুলনামূলক পদক্ষেপের চিত্র, বিএনপি-জামায়াতের সহিংস আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কাউন্সিলর-অতিথিদের দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে ব্যাগ ও টুপি।

আপ্যায়ন: সম্মেলনে অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য খাদ্য উপকমিটি নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দুদিনের এ সম্মেলনে আসা কাউন্সিলর ও অতিথিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার কাটারিং সার্ভিসকে খাবার সরবরাহ করা হবে । মোরগ পোলাও, কাচ্চি বিরিয়ানি, ফিরনি, কোমল পানীয়, পানি ও পান দিয়ে আপ্যায়িত করা হবে তাঁদের। প্রতি বেলা ৫০ হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে তৈরি করা হয়েছে অভ্যর্থনা গেট। সেখানে অপেক্ষারত স্বেচ্ছাসেবকেরা আগতদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেবেন। ঢাকার স্থানীয় সাংসদেরা এই দায়িত্ব পালন করবেন। সম্মেলনস্থলে স্বাস্থ্য ক্যাম্প গড়ে তোলার পাশাপাশি রাজধানীর বাসস্ট্যান্ড ও ট্রেন স্টেশনগুলোতে থাকছে স্বাস্থ্য ক্যাম্প। প্রতিটি ক্যাম্পে চিকিৎসকের পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে কাজে লাগে এমন সব ধরনের ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে। সম্মেলনস্থলে থাকবে একাধিক এম্বুলেন্স।

১৯৬৭ থেকে ২০১৬ : ১৯৬৭ সালের আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৯ টি জাতীয় সম্মেলন হয়েছে আওয়ামী লীগের। এখন পর্যন্ত সভাপতি হয়েছেন সাতজন। এর মধ্যে বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ সাতবার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তিনবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ দুইবার এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও আবদুল মালেক উকিল একবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আর সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন একবার নির্বাচিত হয়েছেন দলের আহ্বায়ক।

এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ৯ জন। সবচেয়ে বেশি চারবার করে হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিল্লুর রহমান। এছাড়া তাজউদ্দিন আহমেদ তিনবার, আবদুর রাজ্জাক ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দুইবার করে, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক এবং আবদুল জলিল একবার করে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

বিগত ১৯ সম্মেলন : 

১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে জন্ম নেয় পূর্ব পাকিন্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরে ১৯৫৫ সালের তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে সব ধর্ম, বর্ণের প্রতিনিধি হিসেবে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয় আওয়ামী লীগ।

শুরু থেকেই মাঠ পর্যায় থেকে উঠে আসা নেতারা নেতৃত্ব দিয়েছেন দলটিকে। প্রভাবশালী বা অভিজাত হিসেবে পরিচিতরা সেভাবে আসেনি এই দলে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত দলটির ১৯টি নিয়মিত জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে দলটিতে আসেন নতুন মুখ।

পাকিস্তান আমল : আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে প্রথম জাতীয় সম্মেলনে প্রতিনিধি ছিল প্রায় ৩০০ জন। উদ্বোধনী ভাষণ দেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। পরে প্রতিনিধিদের সমর্থনে ৪০ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৫৩ সালের ৩ থেকে ৫ জুলাই মুকুল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় সম্মেলন। এই সম্মেলনেও সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা ভাসানী। আর দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদটি পান শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৫৫ সালের ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর রূপমহল সিনেমা হলে তৃতীয় সম্মেলনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয় দলের। এ সম্মেলনে প্রথমকবারের মত পাঁচজন নারীও অংশ নেন। এ সম্মেলন পুনরায় নির্বাচিত হন মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৫৭ সালে চতুর্থ সম্মেলনের আগে দলের মধ্যে বিভক্তির পর আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন মওলানা ভাসানী। ১৩ জুন আরমানিটোলার নিউ পিচকার হাউজে এবং পরদিন গুলিস্তান সিমেনা হলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রতিনিধি ছিল আটশত জন। এ প্রতিনিধিদের ভোটে মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬৪ সালে। ৬ মার্চ থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে কাউন্সিলর ও ডেলিগেট ছিল প্রায় এক হাজার। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হন মাওলানা তর্কবাগীশ ও শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৬৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনটি ছিল আওয়ামী লীগের জন্য ঐতিহাসিক একটি সম্মেলন। এ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ছয়দফা দলীয় ফোরামে পাস হয়। ১৮ থেকে ২০ মার্চ হোটেল ইডেনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান। আর প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক হন তাজউদ্দীন আহমেদ। এতে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৪৪৩ জন।

১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারাগারে আটক তখন অনুষ্ঠিত হয় দলের সপ্তম জাতীয় সম্মেলন। ১৯ থেকে ২০ অক্টোবর হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। প্রায় এক হাজার চারশত ৫৩ জন কাউন্সিলর ও ডেলিগেট এতে অংশ নেন। এতে আবার শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি ও তাজউদ্দীন আহমেদ সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত হন।

১৯৭০ সালের উত্তাল সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের অষ্টম জাতীয় সম্মেলন। এ সম্মেলনের মাধ্যমে ছয় দফা ও ১১ দফা গ্রহণ করে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নেয়। ৭০ সালের ৪ থেকে ৫ জুন হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে কাউন্সিলর ছিল এক হাজার ১৩৮ জন। কাউন্সিলরদের ভোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি ও তাজউদ্দীন আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

স্বাধীন বাংলাদেশে সম্মেলন : ১৯৭২ সালের ৭ থেকে ৮ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের প্রথম এবং সব মিলিয়ে নবম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১১২, সার্কিট হাউজ রোডে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন এবং পুনর্বাসনসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য শপথ নিয়ে এ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগের ১০ম জাতীয় সম্মেলন ১১২ সার্কিট হাউজ রোডে দলীয় কার্যালয়ে সামনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ সম্মেলনে একটি সিদ্ধান্ত হয় যে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা দলের পদে থাকতে পারবেন না। ফলে বঙ্গবন্ধু দলীয় সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। দলের সভাপতি হন এ এইচ এম কামারুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান।

এরপরই ঘটে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের সেই ভয়াবহ ঘটনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিহত হন সপরিবারে। সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করে। ১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বর কারাগারের ভেতরে নিহত হন আওয়ামী লীগের চার নেতা তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এ এইচ এম কামারুজ্জামান এবং এম মনসুর আলী। দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুঃসময় এসে হাজির হয়।

এমন একটি পরিস্থিতিতে ১৯৭৭ সালের ৩ থেকে ৪ এপ্রিল হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে দলের ১১তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কাউন্সিলর ছিলেন প্রায় এক হাজার ৪০০ জন এবং ডেলিগেটও সমসংখ্যক ছিল। এতে দলের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন।

এর পরের বছর ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয় দলটির ১২ তম জাতীয় সম্মেলন। ৩ থেকে ৫ মার্চ হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে প্রায় এক হাজার ৫০০ কাউন্সিলর এবং সমসংখ্যক ডেলিগেট নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এ সম্মেলনটি। এতে সভাপতি নির্বাচিত হন আবদুল মালেক এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আবদুর রাজ্জাক।

১৯৮১ সালের ১৩ তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ৮১ সালের ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও আব্দুর রাজ্জাক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮২ সালে আব্দুর রাজ্জাক দলত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

১৯৮৭ সালের ১ থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের ১৪ তম জাতীয় সম্মেলন। এতে কাউন্সিলর ও ডেলিগেট ছিল প্রায় চার হাজার। সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এরপর ১৯৯২ সালের ১৯ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দলের ১৫তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ দুই থেকে বাড়িয়ে তিন বছর মেয়াদী করা হয়। এতে কাউন্সিলর ছিল প্রায় দুই হাজার ৫০০ ও ডেলিগেটও ছিল সম সংখ্যক। এতে শেখ হাসিনা সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৯৭ সালের অনুষ্ঠিত ১৬ তম জাতীয় সম্মেলন আওয়ামী লীগের জন্য বিশেষ গুরুত্বের। কারণ ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসার পর অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সম্মেলন। ৬ থেকে ৭ মে আউটার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে কাউন্সিলর ছিল দুই হাজার ৫১৬ এবং ডেলিগেটও ছিল সমসংখ্যক। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত হন শেখ হাসিনা ও জিল্লুর রহমান।

২০০২ সালে আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে তখন পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় দলের ১৭ তম জাতীয় সম্মেলন। এ সম্মেলনে সভাপতি শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আব্দুল জলিল।

২০০৭ সালের পটপরিবর্তনের পর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে দলটি। এরপর ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় দলটির ১৮তম জাতীয় সম্মেলন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দলের নেতৃত্বে বেশকিছু পরিবর্তন হয়। দল থেকে বাদ পড়েন এক এগারো সময়ের বিতর্কিতরা। এ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ২০১২ সালে ২৯ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় দলটির ১৯তম জাতীয় সম্মেলন। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

১২টি দেশের ৫৫ জন বিদেশি অতিথি: 

চীন, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, শ্রীলংকাসহ ১২টি দেশের ৫৫ জন বিদেশি অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন যারা, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অতিথি ভারতের। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট সংসদ সদস্য বিনয় প্রভাকর ও সংসদ সদস্য রূপা গাঙ্গুলী, জাতীয় কংগ্রেসের নেতা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলীয় নেতা গোলাম নবী আজাদ, সংসদ সদস্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, মাসুম নুর ও অভিজিৎ মুখার্জী, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য বিমান বসু , সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি ও তার পিএস সুকান্ত আচার্য, সর্বভারতীয় ফরওয়ার্ড ব্লকের সাবেক সংসদ সদস্য দেবব্রত বিশ্বাস, ত্রিপুরা বিজেপির প্রেসিডেন্ট বিপ্লব কর দেব ও নিতি দেব, আসাম ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সর্বভারতীয় ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর তপাদার, আসাম গণপরিষদের নেতা আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল কুমার মহন্ত, জেজি মহন্ত ও সংসদ সদস্য ধ্রুবজোতি শর্মা, মনিপুর পিপলস্ পার্টির প্রেসিডেন্ট নংমেইকাপম শোভাকিরণ সিং, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কনথাউজম কৃষ্ণচন্দ্র সিং ও সাধারণ সম্পাদক (মনিপুর) মাচাং সইবাম, মেঘালয়ের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির সাংসদ মজিদ মেনন, মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেতা সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জরামথাংগা, ভাইস প্রেসিডেন্ট লথাংলিয়েনা, উপদেষ্টা রাকেশ শর্মা ও উপদেষ্টা রসাংজুয়ালা।

যুক্তরাজ্যের অতিথিরা হলেন জেনি রাথবোন, সিটি অব কারডিফ কাউন্সিলের ল্যান্ডাফ নর্থের কাউন্সিলর দিলওয়ার আলী। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়ালেসের মেম্বার অব পার্লামেন্ট হুগ ম্যক ডারমট ও লেবার পার্টির মানিনদারজিৎ সিং। ইতালির ডেমোক্রেটিক পার্টির ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটির কনসালট্যান্ট সংসদ সদস্য ইউগো পাপি ও সংসদ সদস্য খালিদ চাওকি।

ভুটানের তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী দিনা নাথ ডুনগেল ও ড্রাক ফুওয়েনসাম দলের সংসদ সদস্য দর্জি ওয়াংদি।

অস্ট্রিয়ার সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সংসদ সদস্য ফুকস্, অটোমোনাস ট্রেড ফেডারেশনের ও সিনেটর আর্নেস্ট গ্র্যাফ্ট। ইউনাইটেড রাশিয়ার ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সংসদ সদস্য সার্গেই ঝেলেজেনিয়াক, উপদেষ্টা ভ্যালেরিয়া গোরোখোভা, রিপাবলিকান পার্টি অব রাশিয়ার আলেক্সন্ডার পোটাপোভ।শ্রীলংকার ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির নেতা ধর্মমন্ত্রী এএইচ মোহাম্মদ হাশেম, রহমাতুল মালিক পাটিমগম, আইটিএকে’র নেতা সংসদ সদস্য শান্তি শ্রীকানদারসা ও শ্রীলংকান ফ্রিডম পার্টিও নেতা সংসদ সদস্য জগৎ পুস্পকুমার।

 নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ও নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি, রাধিকাম্স সাক্য, সংসদ সদস্য রাজন ভট্টাচার্য, রাজেশ ভট্টাচার্য, নেপাল কংগ্রেস নেতা রাম শর্মা মহাত।

কানাডার কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও সংসদ সদস্য দিপক ওভরাই। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার ঝেং জিয়াওসং, ডিরেক্টর জেনারেল ইয়ান ঝিবিন, ডেপুটি ডিরেক্টর জিয়া পেং ডি, কাও ঝিগাং এবং গাও মিন।

থাকছে বিএনপির প্রতিনিধি : 

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে যাচ্ছে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতিনিধি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সম্মেলনের দাওয়াত পাওয়ার পর দলের মধ্যে সম্মেলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে বিএনপি অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন,আমরা খুশি হয়েছি আমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছেন, আমরা আনন্দিত। আমাদের সম্মেলনে কিন্তু আপনারা আসেন নাই। সৌজন্যবোধ দেখিয়ে টেলিফোন করে দুঃখ প্রকাশও করেন নাই। কিন্তু আমরা আপনাদের মতো হীনম্মন্য নই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে আপনারা আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, আপনাদের সম্মেলনে যাওয়ার জন্য বলেছেন। বিএনপি যে একটা উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল সেই প্রমাণ আপনারা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন পাবেন ইনশাআল্লাহ। আমরা যাব।

যে সব রাস্তায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ 

ডিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্মেলনের ২২-২৩ অক্টোবর সকাল আটটা থেকে বিজয় সরণি হয়ে ভিআইপি রোডের গাড়িগুলো রূপসী বাংলা-শাহবাগ-টিএসসি হয়ে ডানে মোড় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে না পৌঁছানো পর্যন্ত ভিআইপি রোডে অন্য কোনো গাড়ি প্রবেশ করবে না। উত্তরা হয়ে মহাখালী উড়ালসেতুতে চলাচলকারী গাড়িগুলো এই উড়ালসেতুর নিচ দিয়ে মহাখালী টার্মিনাল-মগবাজার-কাকরাইলচার্চ-রাজমণি ক্রসিং-নাইটিঙ্গেল-ইউবিএল-জিরোপয়েন্ট-আবদুল গণি রোড-হাইকোর্ট ক্রসিং-দোয়েল চত্বর দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করবে।

এদিকে মাওয়া থেকে আসা গাড়িগুলো সদরঘাট-বাবুবাজার-গুলিস্তান-জিরো পয়েন্ট-আবদুল গণি রোড-পুরোনো হাইকোর্ট ক্রসিং-দোয়েল চত্বর-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে গন্তব্য স্থলে যাবে। 

অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগ, সিলেট বিভাগ অথবা যাত্রাবাড়ী ও কাঁচপুর থেকে আসা গাড়িগুলো মেয়র হানিফ উড়ালসেতু-চানখাঁরপুল-দোয়েল চত্বর-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে গন্তব্যস্থলে যাবে। প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করার পর ভিআইপি রোড (হেয়ার রোড-রূপসী বাংলা-সোনারগাঁও-বিজয় সরণি) স্বাভাবিক থাকবে। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনস্থল ত্যাগ করার সম্ভাব্য দুই ঘণ্টা আগে মৎস্য ভবন, কাকরাইল চার্চ থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত সড়কে ডাইভারশন চলবে। এ সময় কদম ফোয়ারা দিয়ে গাড়িগুলো ইউবিএল-নাইটিঙ্গেল-কাকরাইল চার্চ-মগবাজার দিয়ে মহাখালী যেতে পারবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গাবতলী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি থেকে আসা গাড়িগুলো মিরপুর রোড দিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-রাসেল স্কয়ার-সায়েন্স ল্যাব ক্রসিং-নিউমার্কেট ক্রসিং-নীলক্ষেত ক্রসিং-আজিমপুর ক্রসিং-পলাশী ক্রসিং দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করবে। 

২২ ও ২৩ অক্টোবর সকাল সাতটা থেকে ডাইভারশন শুরু হবে। এ জন্য মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-ফার্মগেট অভিমুখে কোনো গাড়ি আসবে না এবং রাসেল স্কয়ার-পান্থপথ অভিমুখে কোনো গাড়ি যাবে না। সব গাড়ি নিউমার্কেট-সায়েন্স ল্যাবরেটরি-নিউমার্কেট-আজিমপুর-পলাশী-জগন্নাথ হল ক্রসিং হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পার্কিংয়ে প্রবেশ করবে অথবা নিউমার্কেট-নীলক্ষেত-ফুলার রোড দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করবে।

কাঁটাবন থেকে কোনো গাড়ি শাহবাগের দিকে আসবে না। কাঁটাবন থেকে ডানে মোড় নিয়ে নীলক্ষেত ক্রসিং হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করবে। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি কোনো গাড়ি প্রবেশ করবে না। শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন এবং মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগ অভিমুখে কোনো গাড়ি প্রবেশ করবে না।

হাইকোর্ট থেকে দোয়েল চত্বরে গাড়িগুলো প্রবেশ করতে পারবে। তবে দোয়েল চত্বর থেকে হাইকোর্ট ক্রসিংয়ে কোনো গাড়ি যাবে না। অন্যদিকে ইউবিএল চত্বর থেকে কোনো গাড়ি কদম ফোয়ারার দিকে আসবে না।অন্যদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে রাস্তা উভয় দিকে বন্ধ থাকবে অর্থাৎ কদম ফোয়ারা থেকে মৎস্য ভবন দুই দিকে কোনো গাড়ি আসা-যাওয়া করবে না। কাকরাইল চার্চ থেকে কাকরাইল মসজিদ অভিমুখে কোনো গাড়ি আসবে না। এ ছাড়া কার্পেট গলি, পরিবাগ গ্যাপ, শিল্পকলা একাডেমির গ্যাপ, মিন্টো রোডক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব মোড় বন্ধ থাকবে এবং এসব স্থান থেকে ভিআইপি রোডে কোনো গাড়ি প্রবেশ করবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ