সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

৩২ লাখ ভারতীয় ডেবিট কার্ডের তথ্য চুরি

অনলাইন ডেস্ক:ভারতের বিভিন্ন ব্যাংকের ৩২ লাখের বেশি ডেবিট কার্ড নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। এসব কার্ডের অনেক তথ্য চুরি গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলো ইলেক্ট্রনিক লেনদেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে।

পদক্ষেপের অংশ হিসেবে, ভুক্তভোগী কিছু গ্রাহককে নিরাপত্তা কোড পরিবর্তন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গ্রাহকরাও ডেবিট কার্ড পরিবর্তন করছে অথবা কার্ড বন্ধ করে দিচ্ছে।

এটিএম নেটওয়ার্কে ম্যালওয়্যারের কারণে এ সমস্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছু গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অংকের অর্থ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। যেখানে ভারতীয় ব্যাংকগুলো এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ কোটি ডেবিট কার্ড ইস্যু করেছে।

ভারতের খুচরা লেনদেন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান দ্য ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এনপিসিআই) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পেমেন্ট সুইচ প্রদানকারী সিস্টেমের কোনো একটিতে সমস্যা রয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে সরকার।

এরই মধ্যে ইলেক্ট্রনিক লেনদেন ব্যবস্থা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অনাস্থা প্রবল হয়েছে। ফলে এই সেবাটি আরো সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেখানে এমনিতেই ভারতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেনাকাটায় মানুষ নগদ অর্থ ব্যবহার করে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বহুজাতিক আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ভিসা ইনকর্পোরেটেডের সমীক্ষা অনযায়ী, ভারতে মাথাপিছু ডিজিটাল ট্র্যানজেকশন হয় মাত্র ১০টি, যেখানে ব্রাজিলে হয় ১৬৩টি ও সুইডেনে হয় ৪২৯টি। এ মনোভাব ভারতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে। ফলে ব্যাংকগুলো প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে নগদ অর্থের ব্যবহার থেকে ভারতীয়দের সরিয়ে আনতে।

কিন্তু সফলতা সেভাবে ধরা দিচ্ছে না। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ভারতীয় ব্যাংকগুলো মাত্র ৬৯ কোটি ৭০ লাখ ডেবিট কার্ডের অনুমোদন দিয়েছে। যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম।

চলতি বছরের শুরুতে সরকার সংসদের উচ্চকক্ষকে জানিয়েছে, ২০১৫ সালে ভারতীয় ব্যাংকগুলোর নেট ব্যাংকিং এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির সঙ্গে প্রায় ১২ হাজার প্রতারক জড়িত।

ভারতে কেপিএমজি এর ফরেনসিক সার্ভিসের প্রধান মোহিত বোহ জানান, ভারতীয় ব্যাংকগুলোর সাইবার নিরাপত্তা প্রটোকল আন্তর্জাতিক প্রটোকলের সঙ্গে তুলনা করার মতো। তবে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত নবায়ন ও পর্যবেক্ষণ করে না। এ ধরনের সমস্যা পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় হতে পারে। ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা খাত এমনিতেই সুরক্ষিত নয়।

এনপিসিআই জানিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ রুপি ব্যাংকগুলো থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এতে ১৯টি ব্যাংক ও ৬৪১ জন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে গ্রাহকদের চিন্তিত না হতে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এরই মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ভিসা, মাস্টারকার্ড ও রুপাইয়ের মতো পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলো জানিয়েছে, তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা আক্রান্ত না হলেও তারা তদন্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করতে চায়।

ব্যাংকগুলোও নিশ্চিত করেছে, এ ধরনের সমস্যা এড়াতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

দ্য স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই) জানিয়েছে, তাদের ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত ২০ কোটি ডেবিট কার্ডের মধ্যে ৬ লাখ ২০ হাজার কার্ড প্রতারণার শিকার হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ