সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঐতিহাসিক সফর শেষে ঢাকা ছেড়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে দুইদিনের ঐতিহাসিক সফর শেষে ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড মহাপরিকল্পনার রূপকার শি জিনপিং।আজ শনিবার সকাল ১০টার পর জিনপিংকে বহনকারী বিমানটি ভারতের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তাঁর এই সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুলের তোড়া দিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান।  এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি দল চীনা প্রেসিডেন্টকে সামরিক কায়দায় বিদায়ী অভিবাদন জানায়। এরপর লাল লালিচার উপর দিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টকে উড়োজাহাজ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে বিদায় জানান শেখ হাসিনা।  

সকাল ১০টা ২০ মিনিটে চীনের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমানটি ওড়ার আগে বিমান বাহিনীর চারটি বিমান বিমানবন্দর থেকে ওড়ে। এগুলো বাংলাদেশের আকাশসীমা পর্যন্ত চীনা প্রেসিডেন্টকে পাহারা দেবে বলে সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।  

বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সফরের শেষ কর্মসূচিতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শি।

স্মৃতিসৌধে চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

শি শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়ার পর স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপন এবং পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

২২ ঘণ্টার সফরে গতকাল শনিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে চীনা প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।এ সময় তাঁকে গার্ড অব অনার এবং লালগালিচা সম্বর্ধ না দেয়া হয়।

এটি ছিল তিন দশক পর বাংলাদেশে চীনের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর।

তার এই সফরে বাংলাদেশ-চীন ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যার আওতায় বাংলাদেশ চীন থেকে ২১.৫ বিলিয়ন ডলার অর্থ-সহায়তা পেতে যাচ্ছে।

এর মধ‌্যে ১২টি ঋণ ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং দুই দেশের সরকারের মধ‌্যে ১৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বলে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানান।  

শুক্রবার দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকের পর এক যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘সর্বাত্মক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা’র সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার’ জায়গায় নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. হুমায়ুন কবির বলছেন, দুই দেশের এই কৌশলগত অংশীদারিত্বের মূলে রয়েছে বিনিয়োগের সম্ভাবনা।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি, নতুন এই অংশীদারিত্বের মধ‌্য দিয়ে আমরা আসলে বড় প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতির বিচার করতে যাচ্ছি, যেখানে দুই পক্ষ দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়ার জন‌্য পরস্পরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।”

২০১৭ সালকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ‘বন্ধুত্ব ও আদান-প্রদানের’ বছর হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে।

চীনের ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ উদ‌্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে বাংলাদেশ, যা ছিল শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের মনোযোগের কেন্দ্র।

সিল্ক রোড ইকোনোমিক বেল্ট এবং একুশ শতকের মেরিটাইম সিল্ক রোডকে সংযুক্ত করে নেওয়া এই উদ‌্যোগের আওতায় এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার দেশগুলোকে একটি বাণিজ‌্য ও অবকাঠামো নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ত করতে চাইছে চীন, যার মধ‌্য দিয়ে কার্যত প্রাচীন সিল্ক রোড রুটকে পুনরায় ফিরে পাওয়ার প্রত‌্যাশা।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের কোনো প্রেসিডেন্ট তিন দশক পর বাংলাদেশ সফর করলেন।

সফরে রাষ্ট্রপ্রধান মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন শি। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার সঙ্গে দেখা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ