ঢাকা, শনিবার 26 September 2020, ১১ আশ্বিন ১৪২৭, ৮ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

প্রেমের সম্পর্কের দাবীতে সিলেট আরেক ছাত্রীর উপর আক্রমন 

অনলাইন ডেস্ক: এবার প্রেমের সম্পর্কের দাবীতে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে এক আবাসিক ছাত্রীকে পেটানো ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে দুজন বহিরাগতকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

শুক্রবার বিকেলে ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

আটক কথিত প্রেমিকের নাম কাওসার আহমেদ (৩০)। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে বর্তমানে বেকার আছেন। তার বোন চবি ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন, রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। তাদের বাড়ি হবিগঞ্জ শহরের গ্যাস অফিস এলাকায়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কাওসার ও তার বোন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন। কাওসারের বোন নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের ওই ছাত্রীকে হল থেকে ডেকে আনেন। এরপর কিছুক্ষণ পর কাওসার ওই ছাত্রীকে পেটানো শুরু করেন। একপর্যায়ে কাওসার ও তার বোন ওই ছাত্রীকে রিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় রিকশায় বসে ওই ছাত্রীকে কাঁদতে দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিমের সন্দেহ হয়। সাজেদুল করিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে নিয়ে যান। প্রহরীদের সহযোগিতায় কাওসার ও তার বোনকে প্রশাসনিক ভবনে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে বিষয়টি তিনি প্রক্টরিয়াল বডি, শিক্ষক সমিতি ও জালালাবাদ থানা পুলিশকে জানান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একেক সময় একেক কথা বলে বিষয়টিকে উল্টো দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেন কাওসার ও তাঁর বোন। পরে সব বিষয় স্বীকার করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক সাজেদুল করিম বলেন, রিকশা থামিয়ে মারধরের কারণ জিজ্ঞেস করলে কাওসারের বোন চেঁচিয়ে ওঠেন। বলেন, এটা তাঁদের পারিবারিক ব্যাপার। এ বিষয়ে নাক গলাবেন না। এ সময় কাওসার পালানোর চেষ্টা করেন।

আটক কাওসারের বরাত দিয়ে জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন জানান, তিন বছর আগে শাবিপ্রবির ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের জন্য পারিবারিকভাবে অ্যাংগেজমেন্টও হয়। তিনি কোনো চাকরি না পাওয়ায় এখনো বিয়ে হয়নি। কিন্তু ছয় মাস ধরে ওই ছাত্রী অন্য আরেক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়েছে। তিনি ও তাঁর বোন আজ দুপুরে ওই ছাত্রীকে বোঝাতে এসেছিলেন যাতে ওই সম্পর্ক ভেঙে তাঁর সঙ্গে আবার সম্পর্ক গড়েন। কিন্তু কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর মাথায় আঘাত করেন কাওসার।

এদিকে কাওসারের অভিযোগ অস্বীকার করে ওই ছাত্রী বলেন, কাওসারের আচরণে তিনি ছয় মাস ধরে অতিষ্ঠ। এ কারণে তিনি সম্পর্ক ভেঙে ফেলেন। নতুন করে কারো সঙ্গে সম্পর্ক করেননি। সম্পর্ক ভাঙার কারণে কাওসার ক্ষুব্ধ হয়ে আজ তাকে মারধর করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ