বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ছাত্রলীগের অব্যাহত খুনের ঘটনায় দেশ এখন মৃত্যুপুরী -ছাত্রদল

স্টাফ রিপোর্টার: ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুনের ঘটনায় শিক্ষাঙ্গন সহ সারা দেশ এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। সিলেট এমসি কলেজে পরীক্ষা দিতে এসে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগেরসহ সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম কর্তৃক কুপিয়ে মারাত্মক আহত করায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকরামুল হাসান গতকাল এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
নেতৃদ্বয় বলেন, ছাত্রলীগ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুনের ঘটনায় শিক্ষাঙ্গন সহ সরা দেশ এখন মৃত্যুপুরী।অবৈধ সরকারের আসকারায় ছাত্রলীগের নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেই খুন হয়েছে প্রায় ৫৬ জনের অধিক মেধাবী ছাত্র। নেতৃদ্বয় বলেন, চোখ বাঁধা গণমাধ্যম আর এই অবৈধ সরকারের অভাবনীয় নিয়ন্ত্রণের পরও সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার চাপাতি দিয়ে কোপানোর খবর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের অব্যাহত নৈরাজ্যের একটি খণ্ড চিত্র মাত্র। বর্তমানে ছাত্রলীগ গুন্ডাদের দ্বারা দেশের বেশীর ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরীহ ছাত্রীরাই নির্যাতন, ধর্ষণ আর সম্ভ্রম হানির শিকার হচ্ছে। তাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিণত হয়েছে তাদের দলীয় কার্যালয়ে। যেখানে শুধু তাদের দলীয় লোকজন, তাদের নিয়ম-কানুন আর তাদের আজ্ঞাবহ মানুষরাই নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, দেশের মানুষ ভুলে যায়নি ২০০০ সালের প্রথম প্রহরে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে হাজারো ছাত্রের মাঝে, পত্র-পত্রিকার সাংবাদিক, ক্যামেরার সামনে ছাত্রলীগের গুন্ডারা মেতেছিল বাঁধনের বস্ত্রহরণে। ছাত্রলীগের চিহ্নিত নেতা রাসেলের নেতৃত্বে সেদিন শুধু বাঁধনেরই বস্ত্রহরণ করা হয়নি, পুরো বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের ইজ্জতকেই লুটে নেয়া হয়েছিল।সকল তথ্য উপাত্ত সাক্ষী-সাবুত থাকার পরও কোন বিচার হয়নি বরং ২০০০ সালের ১৪ মে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রেজাউল করিম তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়ার পর ১৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেয়ার পরও আওয়ামী লীগ এবার ক্ষমতায় এসে বাঁধনের বস্ত্র হরণের সেই তিন আসামী ফজলুল হক রাসেল, খান মেজবাউল আলম টুটুল ও চন্দন কুমার ঘোষ ওরফে প্রকাশকে খালাস দিয়ে দেয়। জাহাঙ্গীরনগরে ধর্ষণে সেঞ্চুরি করে ছাত্রলীগ নেতা মানিক ক্যাম্পাসে মিষ্টি বিতরণ করে নারী নির্যাতনের যে নজীর স্থাপন করেছিল তা আরব্য রজনীর  গল্পকেও হার মানায়। মানিকের মতো ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের অমর কীর্তিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক ছাত্রীর ছাত্র জীবন শেষ হয়েছে, বিয়ে, সংসার ভেঙ্গেছে অসংখ্য নারীর।
২০১০ সালের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রভাত ফেরীর শেষে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভিসির বাসার সামনেই দিন-দুপুরে শত শত মানুষের সামনে ছাত্রীর ওড়না ধরে টানে মুহসীন হল, সূর্যসেন হল ও জসীমউদ্দীন হলের ছাত্রলীগের কিছু কর্মী। ছাত্রীর সঙ্গে থাকা অভিভাবকরা প্রতিবাদ করলে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের আটকে রেখে হল থেকে হকিস্টিক ও লাঠি নিয়ে এসে ওই ছাত্রী ও তার অভিভাবকদের  পৈশাচিকভাবে পিটিয়ে জখম করে। এর কদিন বাদেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নববর্ষের কনসার্টে রাজু ভাস্কর্যের সামনে বেশকিছু ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটায় ছাত্রলীগ। বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম হল ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান রনি ফেসবুকে নারীদের নিয়ে অশ্লীল কটূক্তি করায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করে সাধারণ ছাত্রীরা ।বাংলাদেশের যেখানেই নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, ইভটিজিং বিভিন্ন অভিযোগে যত অঘটন ঘটেছে সবক্ষেত্রেই ছাত্রলীগের নামটাই ঘুরে ফিরে বার বার এসেছে। আর এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগের অপকর্মের অভয়ারণ্য। নেতৃদ্বয় বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলা রক্ত পিপাসু ছাত্রলীগের আক্রমণে আহতদের যে দগদগে চিহ্ন অংকিত হল সেটি বাংলাদেশের ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।আমরা একটি জঙ্গি ছাত্র সংগঠনের কাছে জিম্মি হয়ে যেতে পারি না। এই নৈরাজ্য আর চলতে দেয়া যায় না।এখন সময় এসেছে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার।
নেতৃদ্বয় মনে করেন, মূল দল থেকে যখন তার ছাত্র সংগঠনের বিপথগামী নেতা-কর্মীদেরকে সন্ত্রাস, ধর্ষণ আর লুটপাটে উৎসাহ যোগানো হয় তখন তাদের অবিচার আর অত্যাচারের মাত্রা কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। নেতৃদ্বয় অবিলম্বে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক বদরুল আলমের বিচার ও কলেজ থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কারের দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ