ঢাকা, শুক্রবার 18 September 2020, ৩ আশ্বিন ১৪২৭, ২৯ মহররম ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

ভারত ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মধ্যে আবারো গোলাগুলি

অনলাইন ডেস্ক: ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্তে গতকাল রাতেও তিন দফা গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের (আইএসপিআর) বরাত দিয়ে ডন জানায়, কাশ্মীর সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলওসি) পার্শ্ববর্তী নেজাপুর, কৈলার ও ইফতিখারাবাদ সেক্টরে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে রোববার রাতে শ্রীনগরের উত্তর-পশ্চিমে বারামুল্লা শহরে সন্দেহভাজন বিদ্রোহীদের হামলায় এক বিএসএফ সদস্য নিহত হন।

গতকাল তিন দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এর পাঁচদিন আগে ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সীমান্ত অতিক্রম করে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের’ মাধ্যমে জঙ্গি নিধনের দাবি করা হয়। যদিও পাকিস্তান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

পাকিস্তান আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে গতকাল বলা হয়, ইফতিখারাবাদ সেক্টরে আবারো কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই গোলাগুলি শুরু করে ভারতীয় সৈন্যরা। এ সময় পাকিস্তানি সৈন্যরাও এর পাল্টা জবাব দেয়। সকালে গোলাগুলি শেষ হয়।’

বিবৃতিতে একই সঙ্গে নেজাপুর ও কৈলার সেক্টরেও ভারতীয় সৈন্যদের উসকানি ছাড়াই গুলিবর্ষণ ও পাকিস্তানি সৈন্যদের এর জবাব দেয়ার দাবি করা হয়।

এর আগে রোববার রাতে সন্দেহভাজন কাশ্মীরি বিদ্রোহীরা বারামুল্লার বিএসএফ ক্যাম্পে আক্রমণ চালায়। ওই সময় ভারতীয় সৈন্যরা হামলা পুরোপুরি ঠেকিয়ে দিতে সমর্থ হয়। হামলায় এক ভারতীয় সৈন্য প্রাণ হারান। আহত হন আরো একজন।

স্থানীয় পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হুসেইন মির বলেন, বারামুল্লার বিএসএফ ক্যাম্পে হামলাকারীরা সংখ্যায় ছিল দুই থেকে চারজন। আশপাশে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বসবাস থাকায় সার্বিক আক্রমণে যেতে পারেননি বিএসএফ সদস্যরা। ওই মুহূর্তে আমরা অল আউট আক্রমণে গেলে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর হতাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। হামলাকারীরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ও বেসামরিক ঘরবাড়িগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পালিয়ে যায়।

চলতি বছরের জুলাইয়ে কাশ্মীরের এক তরুণ বিচ্ছিন্নতাবাদীকে ভারত গুলি করে হত্যা করলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। পরবর্তী সপ্তাহগুলোয় কারফিউ ও মারাত্মক প্রতিবাদী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যায় কাশ্মীরের ভারত নিয়ন্ত্রিত অংশ।

পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর উরি সেনা ছাউনিতে এক জঙ্গি হামলায় ১৯ জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হন। এ ঘটনার জন্য পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গিদের দায়ী করে ভারত।

ভারতের গত সপ্তাহের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের’ বিষয়টি সত্য হলে সামরিক শক্তির বলে গর্বিত পাকিস্তানের ওপর তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বড় আঘাত। পাকিস্তান দাবি করে, ওই সময় ভারতীয় সৈন্যরা সীমান্তরেখা পার হয়নি। তবে ছোট আগ্নেয়াস্ত্রের গোলাগুলিতে দেশটির দুই সৈনিক নিহত হন।

প্রায় সাত দশক আগে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দেশ দুটি এখন পর্যন্ত তিনবার পারস্পরিক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। বর্তমানে দিল্লির কাছ থেকে স্বাধীনতা আদায়ের লক্ষ্যে কাশ্মীরের ভারত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কয়েকটি দল লড়াই করে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ