ঢাকা, রোববার 29 January 2023, ১৫ মাঘ ১৪২৯, ৬ রজব ১৪৪৪ হিজরী
Online Edition

‘হাসনাতের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত নয়, তাহমিদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি’: মনিরুল

অনলাইন ডেস্ক: ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটি) ইউনিটের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম বলেছেন, গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় হাসনাত করিমের জড়িত থাকার বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। এছাড়া ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক থাকার পর জামিনে মুক্ত তাহমিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়নি পুলিশ।

সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটি) ইউনিটের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম। 

মনিরুল বলেন, গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর আটক হাসনাত করিমকে বেশ কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার থেকে আরও তথ্য পেতে সর্বশেষ টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি এখনও হাতে পাইনি। ওই প্রতিবেদন পেলে তারপর আমাদের তদন্ত কর্মকতার কাছে দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে মিলিয়ে পরে বলা যাবে গুলশান হামলার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত কিনা।

গুলশান হামলার পর আটক ও বর্তমানে জামিনে থাকা তাহমিদ হাসিব খান সম্পর্কে মনিরুল ইসলাম বলেন, তাহমিদের জড়িত থাকার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তথ্য চাপা এবং অসহযোগিতার অভিযোগে ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গুলশান হামলা মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তদন্তে তাঁর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁকে আবার এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হবে।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিট প্রধান বলছেন, গুলশান হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের বেশিরভাগই অভিযানে নিহত হয়েছে। তবে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে আছে বাসারুজ্জামান ওরফে চকলেট, জাহাঙ্গীর ওরফে রাজীব গান্ধীসহ কয়েকজন। এছাড়া গুলশান হামলার অর্থের উৎস জানা গেলেও, কারা কি উদ্দেশ্যে হামলায় অর্থায়ন করেছে সেটি জানার চেষ্টা করছেন তারা।

এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দুই তিনটা ট্রানজিট পেয়েছি তবে একেবারে মূলে এই অর্থটা কে দিয়েছে সেটা আমরা এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করতে পারিনি। সেটি করতে পারলেই আমরা ধারণা করতে পারবো যে তার কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আছে নাকি কথিত জিহাদের প্রতি তার ভালোবাসা থেকে সে এটা করেছে।’

তিনি বলেন, উগ্রবাদ মোকাবিলায় দেশে যে জনমত গড়ে উঠেছে সেটি অব্যাহত থাকলে জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

গত ২ অক্টোবর হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার তাহমিদ হাসিব খানকে জামিন  পান। তিনি কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

এর আগে, গত ১৩ আগস্ট  হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনায় করা মামলায় হাসনাত করিমকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক আটদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

অন্যদিকে, তাহমিদকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ফের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে মহানগর হাকিম গোলাম নবী শুনানি শেষে ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে তারা আটদিনের রিমান্ডে ছিলেন।

গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর কমান্ডো অভিযান শেষে উদ্ধার ১৩ জনসহ ২৭ জনকে নেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে। উদ্ধার হওয়া  ১৩ জনের মধ্যে হাসনাতও ছিলেন। নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম মেয়ের জন্মদিন উদযাপনের জন্য সেদিন সপরিবারে হলি আর্টিজানে গিয়েছিলেন বলে স্বজনেরা দাবি করেছিল। নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০১২ সালে হাসনাত করিমকে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল বলে গণমাধ্যমের খবর প্রকাশ হয়।

গুলশানের ওই জিম্মি সঙ্কটের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র বিতর্ক আর রহস্যের জন্ম হয় হাসনাতকে নিয়ে। পরে তার স্ত্রী দাবি করেন, বন্দুকের মুখেই বাধ্য হয়েছেন তার স্বামী। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ