ঢাকা, সোমবার 24 January 2022, ১০ মাঘ ১৪২৮, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী
Online Edition

বাসন পরিস্কারক থেকে কোটিপতি!

অনলাইন ডেস্ক: একটা কথা আছে, সকালের রোদ দেথে দিন চেনা যায়।কিছু মানুষ আছে এমন, যাদের দেখে বুঝা যায়, আশা করা যায় অনেক কিছু। এবং বোধ হয় অন্যদের তুলনায় তারা নিজেদের সম্পর্কে আঁচ করতে পারেন আরো বেশি কিছু।তারা জীবনের ভোর বেলাতেই সারা জীবনের পরিকল্পনা করে ফেলতে পারেন।বলা যায় তারা নিজেদের হাতেই স্বপ্ন নিয়ে খেলা করেন। তাদের হাতেই যেন খেলা করে পাঁচ পৃথিবী রোদ।

১৬ বছর বয়সে একটি ছেলে আমেরিকার রেস্তোরায় থালাবাসন মাজতেন, সেখান থেকে হয়েছেন ধনকুবের! এর মানে এই নয় যে তিনি থালা-বাসন মেজেই এত অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন।আসলে তিনি সাধারণ কোন ‌'হোটেল বয়' ছিলেন না।তিনি বুক পকেটে স্বপ্ন নিয়ে পাকিস্তান থেকে আমেরিকা গিয়েছিলেন লেখাপড়া করতে।১৬ বছর বয়সে। ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে। পরে সেখান থেকে পাশ করেন মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। জীবন সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করতে, এবং বাস্তবতার প্রয়োজনেই তিনি হোটেলে কাজ করতেন।কিন্তু তার মূল লক্ষ ছিল এগিয়ে যাওয়া।এবং লক্ষ পূরণে অটল থাকার কারণে তিনি ঠিকই সফল হয়েছিলেন।বর্তমানে তার মোট সম্পত্তি ৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি!

এবার বলি, এই 'অসম্ভবকে সম্ভব' করা মানুষটির নাম শাহিদ খান বা শাদ খান।এখন ৬৬ বছর বয়সে তিনি শাসন করছেন মার্কিন অর্থনীতি।

লাহোরে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম শাহিদের। বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী, আর মা গণিতের অধ্যাপিকা। ১৯৬৭ সালে ১৬ বছরের শাহিদ পাড়ি দেন আমেরিকা। ছাত্রজীবনের শুরুতে শাহিদ আমেরিকার রেস্তোরায় বাসন মাজার কাজ করতেন। পারিশ্রমিক ছিল ঘণ্টা প্রতি ১ দশমিক ২০ ডলার। থাকতেন হোটেলে।

ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে শাহিদ চাকরিতে যোগ দেন ইলিনয়ের ফ্লেক্স-এন-গেট নামের এক প্রতিষ্ঠানে। আজ তিনি এই প্রতিষ্ঠানের মালিক। গাড়ির যন্ত্রাংশ বানায় তার প্রতিষ্ঠান। 

এছাড়াও তার মালিকানায় আছে আমেরিকার ন্যাশনাল ফুটবল লিগ বা এনএফএল-এর পেশাদার ফুটবল দল জ্যাকসনভিল জাগার্স এবং ইংলিশ ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপের-এর দল ফুলহাম এফ.সি.।

ধূমকেতুসম রূপকথার উড়ানের পরে শাহিদকে ফোর্বস পত্রিকা বলেছে, 'তিনি গোটা আমেরিকার স্বপ্নের প্রতীক বা সমার্থক'।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ