শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

পাকিস্তানকে কূটনীতির পথেই 'জবাব' দিতে চায় ভারত ॥ বসে নেই পাকিস্তানও

অনলাইন ডেস্ক: ভারত জুড়ে এখন শুধু জবাব জবাব রব।উরি সেনা ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পর এ ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে দাঁতের বদলে চোয়াল খুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা রাম মাধব। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই মোদী সরকার বুঝতে পারছে, পাকিস্তানকে এই মুহূর্তে সামরিক পথে জবাব দেওয়া কার্যত অসম্ভব। সেনা কর্তারা আজ সরকারকে বুঝিয়েছেন, দু’টি পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে কখনওই ‘নিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ’ করা সম্ভব নয়। তা অচিরে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে পরিণত হবে এবং আন্তর্জাতিক মহলও একে মেনে নেবে না। এমনকি নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দিতে হলে তার ফলাফল কী হতে পারে, তাও ভেবে দেখা দরকার বলে মত প্রকাশ করেছে সেনা কর্মকর্তারা। এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে আপাতত কূটনৈতিক স্তরেই ইসলামাবাদকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নয়াদিল্লি।

ভারতের এখন লক্ষ হল, পাকিস্তানকে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করার জন্য কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা। 

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পর্রীকর, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, সেনাপ্রধান, গোয়েন্দাকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। ঠিক হয়েছে, হামলায় পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ সংযোগের প্রামাণ্য নথি তুলে ধরা হবে বিশ্বের সামনে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ২৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপুঞ্জে তাঁর বক্তৃতায় উরি-সন্ত্রাসকে জোরালো ভাবে তুলে ধরবেন। পাকিস্তানের আর্থিক মদতদাতা এবং বিনিয়োগকারী রাষ্ট্রগুলির কাছে তথ্য ও নথি দিয়ে নয়াদিল্লি বলবে, সেখানে লগ্নি করার অর্থ হল সন্ত্রাসবাদের হাত শক্ত করা।

সন্ত্রাসে ইসলামাবাদের মদতের কথা তুলে ধরে জাতিসংঘ সাধারণ সভা থেকে শুরু করে প্রতিটি আন্তর্জাতিক শীর্ষ মঞ্চে পাকিস্তানকে একঘরে করার কৌশল নিচ্ছে ভারত। তবে একই সঙ্গে তার লক্ষ্য কাশ্মীর সমস্যার আন্তর্জাতিকীকরণ এড়িয়ে চলা। মোদী সরকার ঠিক করেছে, উরিতে উদ্ধার হওয়া পাকিস্তানের মার্কামারা যাবতীয় প্রমাণ দুনিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হবে।

সেনাবাহিনীর তরফে আজ জানানো হয়েছে, উরি ঘাঁটিতে হামলাকারীদের কাছ থেকে চারটি একে-৪৭, চারটি আন্ডার ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার, ৩৯টি গ্রেনেড, ৫টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২টি রেডিও সেট, ২টি জিপিএস, ২টি মানচিত্র, বিপুল পরিমাণে খাবার, ওষুধপত্র উদ্ধার হয়েছে। সেগুলিতে পাকিস্তানের ছাপ রয়েছে। এ থেকেই স্পষ্ট, জঙ্গিরা এসেছিল পাকিস্তান থেকে। যে মানচিত্র পাওয়া গিয়েছে, তার মধ্যে পশতু ভাষায় লেখা রয়েছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ হিসেবে এগুলি তুলে ধরা হবে।

এদিকে উরি হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করার তীব্র সমালোচনা করেছে পাকিস্তান।দেশটি উরি হামলাকে সাজানো নাটক উল্লেখ করে বলেছে, কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনকে আড়াল করার জন্য ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তাছাড়া নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর ইস্যুটি উত্থাপন করার যে উদ্যোগ পাকিস্তান গ্রহণ করেছে, তাকে বানচাল করার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের ঠিক আগ মুহূর্তে উরি হামলার নাটক মঞ্চস্থ করেছে    ভারত। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ভারতীয় বেসামরিক নেতৃবৃন্দ  এবং সামরিক কর্মকর্তাদের পাকিস্তান বিরোধী বক্তৃতা-বিবৃতিকে ভিত্তিহীন এবং উস্কানিমূলক বলেও উল্লেখ করেছে।

এছাড়া কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সরব হতে পাকিস্তানের প্রস্তুতিও থেমে নেই। নওয়াজ শরিফ শনিবারই ’কাশ্মীর মিশন’ নিয়ে আমেরিকায় পৌঁছেছেন। কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে তিনি আগামী কাল জাতসিংঘে সরব হতে চাইছেন।

পাক সরকারের তরফে আজ বলা হয়েছে, কাশ্মীরের উত্তাল পরিস্থিতি থেকে দুনিয়ার নজর ঘোরাতেই উরির ঘটনার দায় নয়াদিল্লি তাদের উপর চাপাতে চাইছে। কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ জানিয়ে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলিকে চিঠিও লিখেছেন শরিফ। 

আজ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান রাহিল শরিফও সে দেশের সেনাকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। পরে ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাবতীয় হুমকির মোকাবিলা করতে তৈরি আছে পাকিস্তান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ