ঢাকা, রোববার 9 August 2020, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার চিন্তা নয়াদিল্লির?

অনলাইন ডেস্ক: ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ভারত-কাশ্মীরের বিবাদমান সীমান্তরেখার নিকটবর্তী ভারতের একটি সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৭ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার জবাবে ভারত পাল্টা হামলার চিন্তা-ভাবনা করছে বলে জানিয়েছে আন্দবাজার পত্রিকা। আজ সোমবার জয়ন্ত ঘোষালের লেখা এক প্রতিবেদনে এ ধরনেরই একটি আভাস দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভাণী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্দেজ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘হট পারস্যুট’-এর নীতি নিতে চেয়েছিলেন। অর্থাৎ, পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদীদের ধাওয়া করে, প্রয়োজনে সীমান্ত বা নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে জঙ্গি ঘাঁটিতে প্রত্যাঘাতের সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন তাঁরা। মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি তখন এ নিয়ে আলোচনাও করেছিল।আজ সতেরো বছর পর নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠকেও  আবার ‘হট পারস্যুট’-এর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা  হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।তবে এ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানানো হয়। 

ভূস্বর্গ কাশ্মীর

প্রতিবেদনে বলা হয়, সঙ্ঘ ও বিজেপির একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাক সন্ত্রাস দমনে কঠোর প্রত্যাঘাতের নীতি অনুসরণ করতে চাইছে। উরির ঘটনায় তাঁদের গলার জোর আরও বেড়েছে। সঙ্ঘ থেকে বিজেপিতে আসা নেতা রাম মাধব আজ মন্তব্য করেছেন, ‘একটা দাঁতের জবাবে গোটা চোয়ালটাই নিয়ে নিতে হবে।’ 

অবশ্য মন্ত্রীসভায় অন্য মতও রয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়। রাজনাথ সিংহ নিজে আরএসএসের ঘনিষ্ঠ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি বলার চেষ্টা করেছেন, পাকিস্তান বিরোধিতাকে স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করলেও শান্তি প্রক্রিয়া থমকে দেওয়া ঠিক নয়। রাজনাথ এখনও পাকিস্তানের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যেতে চান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজে পাকিস্তানের সঙ্গে একটা জোরদার মোকাবিলার পক্ষে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই ইঙ্গিত মিলেছে। হট পারস্যুট নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে মোদী পাক সীমান্তে সামরিক প্রস্তুতি জোরালো করার পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।সে অনুযায়ী   বাড়ানো হচ্ছে সেনা প্রস্তুতিও।

তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই কঠোর অবস্থান কতদিন বজায় থাকবে তা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন আছে বলেও আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর এই আপাতঃ কঠোর অবস্থানের পেছনে দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, গুজরাটে নির্বাচন আসছে। শুধু বিধানসভার ভোটই নয়, আগামী লোকসভা নির্বাচন পর্যন্তও এই কঠোর পাক-বিরোধী নীতি চলতে পারে। ফলে চলতি পরিস্থিতিতে নভেম্বর মাসে ইসলামাবাদে সার্ক সম্মেলনে মোদীর যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

কিন্তু পাকিস্তান সম্পর্কে ঠিক কতটা ও কী ধরনের কঠোর নীতি নেওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে বিজেপির ভিতরে এবং বাইরে অনেক প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে জয়ন্ত ঘোষাল তার প্রতিবেদনে বলেছেন, প্রথমত, কূটনীতিকরা বলেছেন, বাস্তবে সীমিত যুদ্ধ বলে কিছু হয় না। যে কোনও মুহূর্তে তা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। আর ভারত পাকিস্তান উভয়েই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র। দ্বিতীয়ত, সংযত থাকার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক চাপও রয়েছে। বিশেষ করে আমেরিকা দু’দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ কমানোর পক্ষে। কূটনীতিকদের একাংশ বলছেন, উরির ঘটনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিকে বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে নয়াদিল্লিকে। মোদীকে তাই সব মতামতই খতিয়ে দেখতে হবে।

সুতরাং পাকিস্তান বিরোধী তর্জন গর্জনের পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত বর্ষণ হবে কি না— তা নিয়ে এখনই কেউ বাজি ধরতে প্রস্তুত নয় বলেও জয়ন্ত ঘোষালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ডি.স/আ.হু

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ