সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

উ কোরিয়াকে ‘মারাত্মক পরিণতি’ ভোগের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্ক: আবারও পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা চালানোর জন্য উত্তর কোরিয়াকে ‘মারাত্মক পরিণতি’  ভোগ করতে হবে  বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

শুক্রবার পঞ্চমবারের মত পরমাণু অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করে উত্তর কোরিয়া।

ওই দিন বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির পুংগি-রি এলাকায় ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ‘কৃত্রিম’ ভূকম্পন শনাক্ত হওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা পর পিয়ংইয়ংয় থেকে এ দাবি করা হয়।

এরপর ওই এলাকার দুই মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নেতাদের সঙ্গে  এ বিষয়ে ফোনে আলাপ করেছেন ওবামা।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব জোশ আর্নেস্ট বলেন, “উত্তর কোরিয়ার উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের পর দেশটিকে এর মারাত্মক পরিণতি ভোগ করানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামা আমাদের মিত্র এবং অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।”

“প্রেসিডেন্ট এশিয়া ও বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পালন করা হবে বলেও জানান।”

পরমাণু প্রকল্প বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার উপর যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ওই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়া একের পর এক পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।

পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিয়ে উত্তর কোরিয়াকে চাপ দিতে চীনের সমর্থন অবশ্যই প্রয়োজন।

উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র চীন। যদিও দেশটি বরাবরের মত এবারও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষার নিন্দা জানিয়েছে।

তবে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বেইজিং কিছু জানায়নি।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেন, এই পরীক্ষার পর চীন বেইজিংয়ে অবস্থিত উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানাবে।

চীনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি জানায়, “এটি অতিশয় বেদনাদায়ক ও বোকার মত কাজ। এটি ওই অঞ্চলে চলমান উত্তজনার আগুনে শুধু তেলই ঢালবে।”

“কোরিয়ায় যুদ্ধ বা বিশৃঙ্খলা হলে কোনও পক্ষেরই লাভ হবে না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সব পক্ষকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং সব পক্ষকেই উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।”

বেইজিংয়ের দাবি, উত্তর কোরিয়ার তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র কোরীয় উপদ্বীপে ক্রমশ উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য বেশি দায়ী।

জুলাইয়ে কোরীয় উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা ‘টার্মিনাল হাই অ্যালটিটিউড ডিফেন্স’ মোতায়েন করেন।

চীন ওই ব্যবস্থা নিয়ে শুরু থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে।

চীনা কর্মকর্তাদের দাবি, এটি তাদের দেশের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি স্বরূপ এবং এর কারণে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তারা কখনওই উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ