ঢাকা, মঙ্গলবার 22 September 2020, ৭ আশ্বিন ১৪২৭, ৪ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

ভারতে এবার গোমাংস ঠেকাতে বিরিয়ানি পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের সকল বিরিয়ানির দোকানে এবার তল্লাসী চালানো হবে, দেখা হবে বিরিয়ানিতে গরুর মাংস মেশানো হচ্ছে কী না।রাজ্যের পুলিশকে দেয়া হয়েছে এই বিরিয়ানি পরীক্ষার দায়িত্ব। আর পুলিশের সঙ্গেই থাকবেন একজন সরকারি পশু চিকিৎসকও।

বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে গোমাংস নিষিদ্ধ। আইন করে সেখানে গো-সেবা কমিশন আর গরু জবাই বা পাচার রোখার জন্য একটি বিশেষ পুলিশ দলও তৈরি হয়েছে। এবার তাদের ওপরে বাড়তি দায়িত্ব পড়েছে বিরিয়ানি পরীক্ষার।

হরিয়ানার গো-সেবা কমিশনের চেয়ারম্যান ভানি রাম মঙ্গলা জানান, "মেওয়াট জেলা থেকে প্রচুর অভিযোগ আসছে আমাদের কাছে যে সেখানে বিরিয়ানিতে গরুর মাংস মেশানো হচ্ছে। সেজন্যই আমরা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি বিরিয়ানি পরীক্ষা করে দেখার জন্য। সঙ্গে একজন পশু চিকিৎসকও থাকবেন। মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠাবে এই দলগুলো।"

মেওয়াট জেলাটি মুসলমান-প্রধান এলাকা। এখানকার জনসংখ্যার প্রায় ৭০% মুসলমান। ভারতের রাজধানী দিল্লির থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে হরিয়ানার অন্তর্গত এই জেলা। মেওয়াটের রাস্তার ধারে বহু জায়গাতেই বিরিয়ানি বিক্রি হয়। মি. মঙ্গলা বলছেন, ওই সব বিরিয়ানিতেই গো মাংস দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েছেন তাঁরা।

বিরিয়ানি থেকে সংগ্রহ করা মাংস হিসারের পশু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। গোমাংস পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে গো মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বাধীন হরিয়ানা সরকারের মতো গরু জবাই বা গোমাংস খাওয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞার বলবৎ করতে রীতিমতো সরকারি পরিকাঠামো অন্য কোনও রাজ্যে নেই বললেই চলে।

হরিয়ানা গো-সেবা কমিশন ছাড়াও ডিআইজি পদমর্যাদার একজন নারী পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ জন পুলিশ কর্মী ছড়িয়ে রয়েছেন গোটা রাজ্যে, যাদের কাজ গরু জবাই বা গরু পাচার রোখা।

বাংলাদেশে যত গরু পাচার হয় ভারত থেকে, তার একটা বড় অংশই আসে হরিয়ানা, রাজস্থান, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলি থেকে।

হরিয়ানার গরু পাচার রোধ বাহিনী নিজেরা যেমন বিভিন্ন সূত্রে খবর পেয়ে তল্লাশী অভিযান চালায়, তেমনই গ্রামে গ্রামে নজরদারী চালানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবকও নিয়োগ করেছে তারা। রয়েছে নি:শুল্ক টেলিফোন নম্বরও, যেখানে যে কেউ ফোন করে গরু জবাই বা পাচারের ব্যাপারে খবর দিতে পারেন।
বিবিসি বাংলা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ