ঢাকা, সোমবার 24 January 2022, ১০ মাঘ ১৪২৮, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী
Online Edition

ডাকাতিতে বাধা : গরম লোহার রড দিয়ে স্ত্রীকে ছ্যাঁকা

অনলাইন ডেস্ক: জেলার সদর উপজেলায় স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে ও ডাকাতি কাজে বাঁধা দেওয়ায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। তার নাম মোছা. পারভিন বেগম (৩০)। গরম লোহার রড় দিয়ে পারভিনকে ছ্যাঁকা দিয়েছে তার স্বামী শাহজাহান মিয়া। বর্তমানে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে পারভিন। তার স্বামী শাহজাহান দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পলাতক রয়েছে।

সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামে শাহজাহানের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে হাসপাতালে পারভিনের মা মর্জিনা বেগম জানান, ১৭ বছর আগে প্রেম করে শাহজাহানের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। তাদের জয় (১৩) ও মিম (১০) নামে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের আগে থেকেই শাহজাহান ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল। কিন্তু বিয়ের পর ডাকাতির বিষয়টি জানতে পারে পারভিন। এ কাজে শাহজাহানকে বাঁধা দিয়ে আসছিল সে। এ নিয়ে শাহজাহান প্রায়ই পারভিনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করত।

তিনি আরও জানান, ডাকাতি কাজে বাঁধা দেওয়ায় শাজাহান দ্বিতীয় বিয়ে করে। হত্যার উদ্দেশ্যে সে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে পারভিনকে গরম লোহার রডের ছ্যাঁকা দেয়।

পারভিন বেগম জানান, শাহজাহান মূলত ডাকাতি পেশার সঙ্গে জড়িত। তাকে বিভিন্ন সময় ডাকাতি কাজে বাঁধা দেওয়ার জের ধরে সাংসারিক কলহ লেগে ছিল। এ কারণে দুই বছর আগে শাহজাহান তার অজান্তে সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামে এক মেয়েকে বিয়ে করে।

পারভিন আরও জানান, ছেলে জয়কে দেখার জন্য শাহজাহানের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে যান। সেখানে গেলে শাহজাহানের সঙ্গে তার ঝগড়া বাঁধে। এ সময় শাহজাহান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী একটি ঘরে তাকে আটক করে মারপিট করতে থাকে। এক পর্যায়ে শাহজাহান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী একটি লোহার রড আগুনে গরম করে এনে পারভিনের হাত, পিঠ ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাঁকা দেয়। পারভিনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

পারভিনের বোন লাইলি বেগম জানান, শাহজাহান মূলত ডাকাতি পেশায় জড়িত। তার বোন শাহজাহানকে ভালো পথে কাজ করার কথা বলত। কিন্তু তার বোনের কথা না শুনে ডাকাতি পেশায় থাকার লক্ষেই দ্বিতীয় বিয়ে করে শাহজাহান।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। এ ঘটনায় পারভিনের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে শাহজাহানকে আটক করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ