রবিবার ৩১ মে ২০২০
Online Edition

সাদাকাতুল ফিতরের পরিচয় গুরুত্ব প্রয়োজনীয়তা ও আদায়ের বিধানাবলী

প্রফেসর ড. আ ন ম রফীকুর রহমান : সাদাকাতুল ফিতর কী
সাদাকাহ অর্থাৎ দান; ফিতর অর্থ এক মাস রোজা রাখার পর রোজা ভাঙা। অতএব সাদাকাতুল ফিতর হলো দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে রোজা ভাঙা উপলক্ষে গরীব-মিসকিনকে যা দান করা হয়, তা-ই সাদাকাতুল ফিতর।
সাদাকাতুল ফিতর কেন
হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী দুটি কারণে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হয়-
প্রথম কারণ হলো : একজন রোজাদার ব্যক্তির রোজা পালন করতে গিয়ে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে যায়, যার কারণে রোজা তার ভঙ্গ হয়ে যায় না, কিন্তু রোজার ত্রুটি হয়। রোজার এ ত্রুটি মার্জনার জন্যই সাদাকাতুল ফিতর; যেমন একজন রোজাদার ব্যক্তি দিনের বেলায় পানাহার করেনি, স্ত্রী ব্যবহার করেনি, যার কারণে তার রোজা নষ্ট হয়নি, কিন্তু পরনিন্দা চর্চা করেছে, অশ্লীল কথাবার্তা বলেছে, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলেছে, এতে রোজার ত্রুটি হয়েছে। এ থেকে রোজাকে পরিচ্ছন্ন ও পরিশুদ্ধ করার জন্যই সাদাকাতুল ফিতর।
দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে : গরীব-দরিদ্র মানুষগুলো এই সমাজেরই মানুষ। তারা সারা বছরই দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে নিদারুণ কষ্টের মধ্যে থাকে। তারা কমপক্ষে ঈদের দিনের একদিন যাতে ঈদ আনন্দে সকলের সাথে শরীক হতে পারে; এজন্য তাদের কিছু খাদ্য ও বস্ত্রের ব্যবস্থা করে দেয়া।
তৃতীয় কারণ হচ্ছে : দীর্ঘ এক মাস উপবাস থাকার পর আল্লাহ মেহেরবাণী করে ঈদের দিনে পানাহারের অনুমতি দিয়েছেন, তারই শুকরিয়াস্বরূপ সাদাকাতুল ফিতর।
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজাকে অপ্রয়োজনীয় ও অশ্লীল কথাবার্তা ও কার্যকলাপ থেকে পরিচ্ছন্ন করার জন্য এবং মিসকীনদের কিছু খাদ্যের ব্যবস্থা করার জন্য যাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন। (আবু দাউদ, ইবনে মাজা, বায়হাকী)
অন্য হাদীসে রয়েছে : ‘তাদের আজকের দিনে মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরা থেকে অমুখাপেক্ষী রাখ’ (বায়হাকী, দারু কুতনী)
সাদাকাতুল ফিতর এর হুকুম :
সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব ঐ ব্যক্তির ওপর যার নিকট ঈদুল ফিতরের দিন সকাল বেলা তার প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও খাবার ব্যতীত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে। নেসাব হলো সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য বা তার সম পরিমাণ অর্থ বা সম্পদ। যদি স্বর্ণ ও রৌপ্য মূল্যমানে পার্থক্য হয়, তাহলে যেটির মূল্য ধরলে গরীব বেশি উপকৃত হয়, সেটির মূল্যমান ধরেই যাকাত, ফিতরা আদায় করবে। তবে যদি শুধু স্বর্ণ বা রৌপ্য থাকে, অথবা উভয়টিই থাকে, তা হলে প্রত্যেকটিই আলাদা নেসাব ধরে যাকাত, ফিতরা দিবে। যার ওপর ফিতরা ওয়াজিব হবে, সে তার নিজের এবং তার পোষ্যদের পক্ষ হতে ফিতরা আদায় করবে।
আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক গোলাম, স্বাধীন, পুরুষ, মহিলা, ছোট-বড় সকল মুসলমানের ওপর এক ছা খেজুর বা এক ছা যব যাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন এবং তা লোকেরা ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বেই আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম)
আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যাকাতুল ফিতর বের করে দিতাম এক ছা খাদ্য আথবা এক ছা যব আথবা এক ছা খেজুর আথবা ছা কিসমিস। (বুখারী)
আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ঈদুল ফিতরের দিনে এক ছা খাদ্য বের করে দিতাম। তিনি বলেন, তখন আমাদের খাদ্য ছিল যব, কিসমিস, পনির এবং খেজুর। (বুখারী)
আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এক ছা খাদ্য অথবা এক ছা খেজুর অথবা এক ছা যব অথবা এক ছা কিসমিস সাদাকাতুল ফিতর হিসেবে আদায় করতাম। যখন মু’আবিয়া (রা.) মদীনায় আসলেন এবং গমের মওসুম আসল, তিনি বললেন, আমি মনে করি এটার এক মুদ উপরোক্ত মুদের দুই মুদের সমান হবে। (বুখারী)
উল্লেখ্য, দুই মুদ এক ছা সমপরিমাণ। অতএব এক মুদ অর্ধ ছা সমপরিমাণ। আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করত এক ছা যব অথবা খেজুর অথবা খোসাবিহীন যব অথবা কিসমিস। যখন ওমর (রা.) খলিফা হলেন এবং গমের উৎপাদন বেড়ে গেল, তখন তিনি অর্ধ ছা গমকে উপরোল্লিখিত বস্তুগুলোর এক ছা-এর স্থলাভিষিক্ত নির্ধারণ করলেন। (আবু দাউদ)
আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এক ছা খাদ্য অথবা এক ছা যব অথবা এক ছা খেজুর অথবা এক ছা কিসমিস অথবা এক ছা পনির সাদাকাতুল ফিতর হিসেবে আদায় করতাম। আমরা এভাবেই আদায় করে আসছিলাম, যখন মু’আবিয়া (রা.) মদীনায় আসলেন এবং লোকদের সাথে কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, আমি মনে করি সিরিয়ার দুই মুদ গম এক ছা এর খেজুরের সমপরিমাণ হবে, তখন লোকেরা তা-ই গ্রহণ করল। (তিরমিযি)
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সাদাকা (সাদাকাতুল ফিতর) ফরজ করেছেন এক ছা খেজুর অথবা এক ছা যব অথবা অর্ধ ছা গম প্রত্যেক স্বাধীন অথবা দাস, পুরুষ অথবা মহিলা, ছোট অথবা বড় এর ওপর। (আবু দাউদ)
উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে যা বেরিয়ে এলো, তা হলো-
প্রথমত : সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব প্রত্যেক নারী পুরুষ, স্বাধীন গোলাম, ছোট বড়, মুসাফির মুকীম, ধনী-দরিদ্র মুসলিমের ওপর। এতে নিসাব বলতে কোনো শর্ত নেই। তবে ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য হলো, ধনীরা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করবে, কিন্তু নিজে গ্রহণ করতে পারবে না, আর দরিদ্র মানুষ নিজের সাদাকাতুল ফিতর আদায় করবে, আবার অন্যের নিকট থেকে গ্রহণও করতে পারবে। এতে তার লাভের পাল্লাই ভারি হবে। এ মত দিয়েছেন ইমাম শাফেঈ, ইমাম মালেক, ইমাম আহমাদ (রহ.) ও সৌদি আরবের খ্যাতনামা আলেমগণ। অন্যদিকে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং তার অনুসারীদের মত হলো ঈদের দিন সকাল বেলা যার নিকট প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও সে দিনের খাবার ব্যতীত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার ওপরই সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।
যে শিশু ঈদের পূর্ব দিনের সূর্যাস্তের পূর্বে জন্ম গ্রহণ করেছে, তার পক্ষ হতে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে, সূর্যাস্তের পর জন্ম গ্রহণ করলে তার পক্ষ হতে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে না। কেহ সূর্যাস্তের পর মারা গেলে তার পক্ষ হতে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে, সূর্যাস্তের পূর্বে মারা গেলে সাদাকাতুল ফিতর দিতে হবে না। মায়ের গর্বের সন্তানের সাদাকাতুল ফিতর দিতে হবে না, তবে দেয়াটা মুস্তাহাব অর্থাৎ ভালো।
দ্বিতীয়ত : সাদাকাতুল ফিতর আদায় করবে এক ছা খেজুর অথবা এক ছা খাদ্য অথবা এক ছা যব অথবা এক ছা খেজুর অথবা এক ছা কিসমিস অথবা এক ছা পনির। এর যে কোনো একটি এক ছা আদায় করলেই সাদাকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যাবে। অধিকাংশ হাদীস এবং অধিক বিশুদ্ধ হাদীস এটাই প্রমাণ করে। তবে কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী অর্ধ ছা গম দিলেও সাদাকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে আদায়কারী যা দিয়েই এবং যে পরিমাণই (এক ছা অথবা অর্ধ ছা) আদায় করে আশা করি আদায় হয়ে যাবে। তবে এক ছা আদায় করাটাই অধিক উত্তম হবে বলে আমি মনে করি। কারণ এর পক্ষে দলিল প্রমাণ যেমন বেশি, তেমনি অধিক শক্তিশালী।
আবার প্রত্যেক দেশের প্রধান খাদ্য হিসেবে যা বিবেচিত, তা দিয়েই সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা অধিক উত্তম। আবু সাঈদ খুদরী (রা.) এর হাদীসে তারই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বাংলাদেশে যেহেতু চাল প্রধান খাদ্য, অতএব এদেশে এক ছা চাল দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা অধিক উত্তম। তবে এর চেয়ে মূল্যবান বস্তু দ্বারা ফিতরা আদায় করতে পারলে দরিদ্র মানুষের অধিক উপকার হবে।
নগদ অর্থ দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে কিনাÑ এনিয়েও মতবিরোধ রয়েছে আলেমগণের মাঝে। ইমাম শাফেঈ, ইমাম মালেক, ইমাম আহমাদ (রহ.) ও সৌদি আরবের খ্যাতনামা আলেমগণের মতে নগদ অর্থ দেয়া বৈধ হবে নয়। কেননা হাদীসে নগদ অর্থের কথা উল্লেখ নেই। আতা, হাসান বাসরী, ছুফয়ান সাওরী, ওমর বিন আব্দুল আজিজ, ইমাম আবু হানিফা ও তার অনুসারীদের মতে, নগদ অর্থ দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা বৈধ। কেননা সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের একটি অন্যতম লক্ষ্য হলো দরিদ্র মানুষকে ঈদের আনন্দে শরীক হওয়ার সুযোগ করে দেয়া। দরিদ্র মানুষের যেমন প্রয়োজন খাদ্যের, তেমনি প্রয়োজন কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য সামগ্রীর। সকলেই যদি শুধু খাদ্য দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করে, তাহলে হয়তো তার ঘরে জমা হয়ে যাবে অঢেল খাদ্য। অথচ তার এত খাবারের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন তার কাপড়-চোপড়, সেমাই, চিনি ও অন্যান্য সামগ্রী। এ অবস্থায় তার প্রয়োজন পূরণের জন্য তাকে অতিরিক্ত খাবার বিক্রি করতে হবে। এতে যেমন রয়েছে বিক্রি করার বিড়ম্বনা, তেমনি বিক্রি করতে হবে তুলনামূলক কম মূল্যে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র মানুষটি। এছাড়া উল্লেখিত হাদীসে মূল্যমান নির্ধারণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সাহাবা (রা.) সিরিয়ার দুই মুদ গম অর্থাৎ অর্ধ ছা গমকে মদীনার এক ছা খেজুরের সমান মূল্য নির্ধারণ করে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করেছেন। অতএব আমি মনে করি, এক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতায় না গিয়ে উন্মুক্ত রাখাই শ্রেষ্ঠ, যাতে সবার জন্যই বিষয়টি সহজ হয়ে যায়। ইসলাম সহজকে পছন্দ করে যদি তাতে গোনাহ না হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না।’ (বুখারী, মুসলিম)
‘আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুটি বিষয়ের কোনো একটি বিষয় বেছে নেয়ার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে, তখনই তিনি তুলনামূলক সহজটিকে বেছে নিয়েছেন, যদি তা গোনাহের বিষয় না হয়ে থাকে, যদি তা গোনাহের বিষয় হয়ে থাকে, তাহলে তিনি তা থেকে অনেক দূরে থাকতেন। (বুখারী, মুসলিম)
ছা-এর পরিমাণ বর্তমান হিসাবে কত
ছা বলা হয় মূলত একজন মাঝারি সাইজের মানুষের দুই হাত ভর্তি চার অঞ্জুলি শুকনা খাদ্য; যেমন খেজুর, গম, চাল, ইত্যাদি। ছা-এর পরিমাণ বর্তমান হিসাবে কত হবে- এ নিয়ে ‘আলেমগণের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। হানাফি আলেমগণ ছা-এর হিসাব করেন ইরাকী হিসেবে, যার পরিমাণ বর্তমান হিসাবে হয় প্রায় সাড়ে ৩ কেজি। আবার অনেকে হিসাব করেন মদীনার ছা হিসেবে, যার পরিমাণ কারো মতে ৯ কেজি ৯৪৮ গ্রাম, কারো মতে ২ কেজি ৬০০ গ্রাম, কারো মতে ২ কেজি ৩৫ গ্রাম- এভাবে বিভিন্ন মত রয়েছে। হাতের পার্থক্যের কারণে ও জিনিসের বিভিন্নতার কারণে ওজন কমবেশি হতে পারে। তবে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ফতোয়া বোর্ডের মতে এক ছা ৩ কেজির কাছাকাছি এবং তারা এও মত দিয়েছেন যে, ৩ কেজি আদায় করলে সকল সন্দেহের ঊর্ধ্বে আদায় হয়ে যাবে।
আমি মনে করি, ছা বলতে মদীনার ছা-ই ধরা উচিত। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় অবস্থানকালে এ কথা বলেছেন, ইরাকে অবস্থান করে নয়। আবার একটি হাদীছে এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ওজন হবে মক্কার আর পাত্রের মাপ হবে মদীনার। (সহীহ ইবনে হিব্বান)
অতএব ছা দ্বারা মদীনার ছা-এরই পরিমাপ হবে। আর বর্তমান ওজনে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের ফতোয়া বোর্ডের রায় অনুযায়ী ৩ কেজি পরিমাণ আদায় করলে সন্দেহাতীতভাবে ফিতরা আদায় হয়ে যাবে।
কখন আদায় করবে
সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে ঈদুল ফিতরের দুইদিন আগ থেকে শুরু করে ঈদের সালাতের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত। এর পূর্বে আদায় করলে সাদাকাতুল ফিতরের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। কেননা সাদাকাতুল ফিতরের উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র মানুষের জন্য কিছু খাবারের ব্যবস্থা করা, যাতে তারা ঈদের আনন্দে শরীক হতে পারে, মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘোরা থেকে কমপক্ষে সেদিনের জন্য রেহাই পেতে পারে। এর পূর্বে দেয়া হলে হয়তো তা ঈদের আগেই ফুরিয়ে যাবে, ফলে ঈদের আনন্দে শামিল হওয়া তার পক্ষে সম্ভব হবে না। এমনিভাবে ঈদের পরে আদায় করলেও সাদাকাতুল ফিতরের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। কেননা তাতে ঈদের আনন্দে শামিল হওয়া সম্ভব হবে না। এ দুই প্রকারের দানই সাধারণ দান হিসেবে গণ্য হবে, সাদাকাতুল ফিতর হিসেবে নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে আদায় করবে, তা হবে গ্রহণ যোগ্য যাকাত, আর যে ব্যক্তি সালাতের পরে আদায় করবে তা হবে অন্যান্য দানের মতো সাধারণ দান। (ইবন মাজাহ)
উল্লেখ্য, এখানে সালাত বলতে ঈদের সালাত এবং যাকাত বলতে সাদাকাতুল ফিতর বোঝানো হয়েছে এবং তা (সাদাকাতুল ফিতর) লোকেরা ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বেই আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম)
অতএব সাদাকাতুল ফিতর ঈদের পূর্বেই আদায় করতে হবে, ঈদের পরে নয়। তবে কেহ যদি এমন জায়গায় বসবাস করে যেখানে দরিদ্র মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না; যেমন সমুদ্রে অবস্থান করছে বা এমন ধনী এলাকা যে, আশপাশে কোথাও দরিদ্র মানুষের বসবাস নেই। এ অবস্থায় যখনই সুযোগ আসবে, তখনই সাদাকাতুল ফিতর আদায় করবে, এতে বিলম্বের জন্য তার কোনো গোনাহ হবে না।
সাদাকাতুল ফিতর কাকে দেয়া হবে
সাদাকাতুল ফিতর পাওয়ার উপযুক্ত তারাই, যারা যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত। তবে সমাজের দরিদ্র-অনাথ এবং নিজের গরীব আত্মীয় ও প্রতিবেশীকে দেয়াটাই অধিক উত্তম। কেননা হাদীসে সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, দরিদ্রের খাবারের ব্যবস্থা করা। অতএব সাদাকাতুল ফিতর একমাত্র দরিদ্র-অনাথকে দিয়ে ঈদের আনন্দে তাদের শামিল করবে এবং নিজের রোজাকে ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পরিচ্ছন্ন করবে- এটাই হবে সাদাকাতুল ফিতরের লক্ষ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ