ঢাকা, মঙ্গলবার 29 September 2020, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

সরাসরি কার্গো ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞায় সংকটে রপ্তানি বাণিজ্য

অনলাইন ডেস্ক : নিরাপত্তার কারণে জার্মানি ঢাকা থেকে বিমানের সরাসরি কার্গো ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করছেন রপ্তানিকারকরা।

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক প্রতীয়মান না হওয়ায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জার্মানি।

দিন দুই আগে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর মঙ্গলবার ঢাকায় বিমান বন্দরের নিরাপত্তা পরিদর্শনে বাংলাদেশে এসেছে জার্মান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি দল।

এর আগ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে ঢাকা থেকে জার্মানির রাষ্ট্রীয় ক্যারিয়ার লুফৎহানসার একটি ফ্লাইটে সরাসরি কার্গো পণ্য যেত জার্মানিতে। ঐ ফ্লাইটে গড়ে ৭০ থেকে ১০০ টন কার্গো পণ্য রপ্তানি করতো বাংলাদেশ।

তবে লুফৎহানসা ছাড়াও অন্য দেশে রি-স্ক্যানিং করে জার্মানিতে মালামাল পরিবহন করে থাকে বড় বড় এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে এমিরেটস, কাতার, কুয়েত, ইতিহাদ, মালয়েশিয়া, সাউদিয়া, এয়ার অ্যারাবিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং, চায়না ও ওমান এয়ারলাইন্স অন্যতম। জার্মানি অবশ্য তৃতীয় দেশে রি-স্ক্যানিং করে পণ্য নেয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।

বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয় জার্মানিতে, যার ৯৫ ভাগই তৈরি পোশাক। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি। আর এই পণ্যের একটি বড় অংশই যায় আকাশপথে।

বাংলাদেশ-জার্মান চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিজিসিসিআই) সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, এটি আমাদের জন্য একটি খারাপ খবর। ঈদের আগেই আমাদের প্রচুর পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করতে হবে। সাধারণত এই পণ্য বিমানে করেই পাঠানো হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত এই পণ্য পঠানো যাবে কিনা তা অনিশ্চিত। তাছাড়া রি-স্ক্যানিং করে পাঠালে খরচ বেড়ে যাবে।

তার কথায়, ব্রেক্সিটের কারণে আমরা এরইমধ্যে ক্ষতির মুখে পড়েছি। পণ্য রপ্তানি করে পাউন্ডে এখন শতকরা ১২ টাকা কম পাচ্ছি আমরা। এখন জার্মানির সঙ্গে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় আরো নতুন ক্ষতি যোগ হলো।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় গন্তব্য জার্মানি। বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, জার্মানি নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের তৈরি পোশাক খাত এই সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমরা নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছি।

জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর লুফৎহানসার ফ্লাইটটি নির্ধারিত ৮০ টন পণ্য, যার বেশিরভাগই তৈরি পোশাক, শাহজালাল বিমোনবন্দরে ফেলে রেখেই দেশে ফিরে গেছে।

বিজিএমইএ বলছে, তৈরি পোশাক খাতের একটা বড় অংশ জার্মানিতে রপ্তানি করা হয় জিরো ট্যারিফে। এর সবটাই যায় আকাশপথে। বর্তমানে জরুরিভিত্তিতে গার্মেন্ট পণ্যের নমুনাও সরাসরি আকাশপথে জার্মানিতে পাঠানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল।

এদিকে লুফৎহানসার মাধ্যমে যে পরিমাণ কার্গো সরাসরি বহন করা হতো, তা থেকে মাসে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতো বিমান বাংলাদেশ। নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে তারা।

জার্মানি অপ্রতুল নিরাপত্তা ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের কথা বলে বিমানে কার্গো নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, বিমানের কার্গো রপ্তানি টার্মিনালটি বহিরাগত জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এ সব জনবল নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার পর রেডলাইন নামে একটি নিরাপত্তা সংস্থাকে বিমান বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু তাদের কাজ আশানুরূপ নয় বলে জানা গেছে। তাই ৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে যুক্তরাজ্যের রেডলাইন কোম্পানির নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ঢাকায় জার্মান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ মেনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাবে। তাহলে সংকট কেটে যাবে।

সিদ্দিকুর রহমানের কথায়, আশা করি এই নিষেধাজ্ঞা শীঘ্রই উঠে যাবে। আমরা সরকারের সঙ্গে কথা বলছি কার্যকর পক্ষেপ নিতে। তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, এটাই অবশ্য প্রথম নয়, এর আগে গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া এবং মার্চ মাসে যুক্তরাজ্য একই ধরণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। (ডয়চে ভেলে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ