সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কালীগঞ্জে গ্রেফতার আতঙ্কে ৩ গ্রাম পুরুষশূন্য

লালমনিরহাট সংবাদদাতা : লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি বহরের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার আতঙ্কে তিনটি গ্রাম পুরুষশূন্য। পুলিশী ধরপাকড়ের ভয়ে এলাকাছাড়া মানুষ। গ্রামবাসী জানান, ভোটের রাত থেকে পুলিশ-বিজিবি বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোকজনকে খোঁজাখুঁজি করছে তাতে অপরাধীতো ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেই, এদিকে নিরপরাধ অনেক মানুষ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। গ্রামের ২/১টি বাড়িতে হয়তো দু’-একজন পুরুষ মানুষ আছেন। আর কোন বাড়িতে পুরুষ মানুষ নেই। বাইরে হঠাৎ গাড়ির শব্দ পেলেই বাড়িতে থাকা পুরুষরাও বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। হররাম গ্রামের বাড়িগুলোতে কোন পুরুষ মানুষ না থাকায় সেখানে কথা হয় শ্যামলী, রাবেয়াসহ একাধিক গৃহবধূর সাথে। তারা জানান, ভোটের রাত থেকে পুলিশ ও বিজিবি এসে পুরুষ মানুষদের খুঁজছে। তাই ভয়ে দূরের কোন আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। ওই এলাকার ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমা বেগম (২২) বলেন, ফলাফল ঘোষণা না দিয়ে ভোটের বাক্স উপজেলা পরিষদে নিয়ে যাওয়ার সময় রাতে কে বা কারা গাড়িতে ঢিল ছুড়ে। এর পর থেকে পুলিশ যেভাবে গ্রামে এসে আসামীদের খোঁজাখুঁজি করছে তাতে গ্রামের নিরপরাধ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, ২৩ এপ্রিল লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ইউপি নির্বাচন চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িতে হামলার ঘটনায় গত রোববার সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আলিম বাদী হয়ে বিএনপি ও যুবদল নেতাসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। ফলে আইনশৃংখলা বাহিনীর গ্রেফতার অভিযানের ভয়ে চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের হররাম, কিসামত গোড়ল ও ঘনেসাম নামের তিনটি গ্রাম একদম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নিরপরাধ কোন মানুষ গ্রেফতার বা হয়রানি হচ্ছেন না। তবে ভোট শেষে সন্ধ্যায় হামলার ঘটনায় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ