বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

অত্যধিক গরমে কাহিল অবস্থা চট্টগ্রাম নগরবাসীর

মীম ওসমান, চট্টগ্রাম অফিস : অত্যধিক গরমের কারণে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও জনজীবন অস্বস্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট চরমে। আবহাওয়া দফতর চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানালেও সে ধরণের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চেীধুরী সংগ্রামকে জানান, ২৪ ঘন্টার মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই।
এদিকে, তীব্র গরমের কারণে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজসহ নগরীর হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে রোগীর সংখ্যাও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, সর্দি-জ্বরসহ নানা রোগ জীবাণুতে আক্রান্ত রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে খবর নিয়ে জানা গেছে। প্রচুর গরমে শিশু এবং বয়স্করা নানা ধরণের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। শিশুরা ডায়রিয়া, জ্বর-সর্দি, গলাব্যাথায়, নিউমোনিয়া, পাতলা পায়খানা, আমাশয়ে আক্রান্ত হচ্ছে পানি শূন্যতার কারণে। ডায়ারিয়ার পাশাপাশি রয়েছে চিকেন ফক্স, পানি শূন্যতা, জ্বর, আমাশয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ জানান, গরমের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে শুধু শিশু নয়, সবাইকে বেশি করে পানি খেতে হবে। বিশেষ করে লেবুর শরবত, ডাবের পানি, স্যালাইন খেতে হবে। তাহলে শরীরে পানিশূন্যতা হলেও সে জায়গায়টা পূরণ হবে। এতে করে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে।
গরমের তীব্রতায় নগরীতে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও বেড়েছে। গড়ে একশ’র উপরে লোডশেডিং হচ্ছে নগরীতে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংকটে বিভিন্ন স্থানে ওয়াসার পানি সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে।কয়েকদিন ধরে গরমে হাঁসফাঁস করতে দেখা গেছে নগরবাসীকে। তীব্র গরমে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হননি। আবহাওয়া অফিস বলছে, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় তাপমাত্রার চেয়ে একটু বেশিই গরম অনুভূত হচ্ছে। বাতাসের আর্দ্রতার কারণে প্রচ- ঘাম তৈরি হচ্ছে শরীরে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বাংলাদেশে এপ্রিল ও মে মাসকে উষ্ণতম মাস হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। এই দুই মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এতে গরমের দাপট কিছুটা কমে আসবে। চলতি মাসেই তাপমাত্রা পৌঁছতে পারে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবার এ মাসেই তিন ধরনের তিনটি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাবনা রয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হওয়ার।আবহাওয়া অধিদফতর এর কর্মকর্তারা জানান, এপ্রিলজুড়েই ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা পরিবর্তিত হবে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর ও মধ্যামাঞ্চলে গরম হবে তীব্র। গত বছরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হয়েছে, তবে সেটি হয়েছে মে মাসের দিকে।
আবহাওয়াবিদরা জানান, গত কয়েকবছর ধরেই শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষার সময়ে আবহাওয়া তার চিরায়ত নিয়ম মেনে চলছে না। গত মার্চ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার পরিমাণ ছিল ৪৫ ভাগ। একইসঙ্গে ছিল ঝড়, শিলাবৃষ্টি। চলতি মাসেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের মে মাসে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। ঢাকায় ১৯৬০ সালের এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি। ২০১৫ সালের মে মাসে ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠে ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৬০ সালের পর ঢাকায় তাপমাত্রার এটা ছিল নতুন রেকর্ড।তবে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তাগণ জানান, এখন পর্যন্ত দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় চট্টগ্রামের তাপমাত্রা অনেকটাই কম। গত ২৩ এপ্রিল এই মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। যার পরিমাণ ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ