সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আবারও উত্তপ্ত হতে পারে খুলনার শিল্পাঞ্চল

খুলনা অফিস : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের ১৬ দিন অতিবাহিত হলেও পাটকল শ্রমিকদের জন্য এক হাজার কোটি টাকা ছাড় করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সোমবার দুপুরে হংকং গেছেন। ফিরবেন ২৭ এপ্রিল। কাজেই ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এই টাকা ছাড়ের সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় খুলনা ও যশোরসহ দেশের অপরাপর শিল্পাঞ্চলগুলো আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের (বিজেএমসি) কর্মকর্তারা।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান বলেন, পাটমন্ত্রীর ঘোষণার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। ফলে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে অর্থ ছাড় না হওয়ার কারণে সকল বকেয়া পরিশোধ হয়নি। বর্তমানে ৫-৬ জন নেতা ঢাকায় অবস্থান করছেন। মন্ত্রণালয়ে তারা যোগাযোগ করছেন। অর্থ ছাড় করার বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব না পেলে সাধারণ শ্রমিকদের মতামত নিয়ে দাবি আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শুরুতে দুইশ’ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। তার মধ্যে একশ’ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে মিলগুলোতে পাট ক্রয়সহ উন্নয়ন কাজে। আর ৬০ কোটি টাকা দিয়ে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি প্রদান করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৪০ কোটি টাকা দিয়ে শ্রমিকদের ৮-৯ ও ৯-১০ অর্থবছরের গ্রাচ্যুইটি পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে শ্রমিকদের ২০ ভাগ মহার্ঘভাতা, আন্দোলনসহ ওই সময়ে ১২ দিনের বকেয়া, ১১-১২ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত গ্রাচ্যুইটির অর্থ এবং এক সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে।
গত ১১ এপ্রিল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রী পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে আন্দোলনরত পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বাবদ ১ হাজার কোটি টাকা ছাড় করার জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে ৬০০ কোটি টাকা পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি হিসেবে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা পহেলা বৈশাখ উৎসবের আগেই পরিশোধ করতে বলা হয়। বাকি ৩০০ কোটি টাকা পর্যায়ক্রমে পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া কাঁচা পাট ক্রয়ের জন্য ২০০ কোটি টাকা এবং পাটশিল্পের উন্নয়নের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেয়া হয়। একইসঙ্গে পুরো বিষয়টি তদারকি করতে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ১১ এপ্রিল মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে এ ঘোষণা দেয় সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশের পরও শ্রমিকরা আন্দোলন অব্যাহত রাখে। এরপর ১২ এপ্রিল সচিবালয়ে পাটকল শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক ও ১৩ এপ্রিল পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের সাথে বৈঠকে সব বকেয়া ২৫ এপ্রিলের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়। এরপরই শ্রমিকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পুরো টাকা এখনও ছাড় করা হয়নি। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২০০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। বাকি আটশ’ কোটি টাকা ছাড়ের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাটকল শ্রমিকদের বেতন, প্রভিডেন্ড ফান্ড এবং গ্রাচ্যুইটি বাবদ মোট পাওনার সুনির্দিষ্ট হিসাব পাঠাতে বলা হয়েছে। এ জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, পাট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের শ্রমিকদের জন্য মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন, ১ জুলাই ২০১৩ ঘোষিত ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা প্রদান, মিল জাতীয়করণ ও শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ এবং সব পাওনা পরিশোধের দাবি আদায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্যপরিষদের ডাকে শ্রমিকরা টানা ধর্মঘট ও রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছিলেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ জানিয়েছেন, পাটকল শ্রমিকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। যথাসময়ে প্রতিটি মিলেই সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ পৌঁছে যাবে। এছাড়া আগামী মওসুম শুরুতেই যাতে মিলগুলো কৃষকের কাছ থেকে পাট কিনতে পারে সেজন্যও অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।
পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেছেন, পাটকল শ্রমিকদের পাওনা বাবদ একটি অংশ পহেলা বৈশাখের আগেই পরিশোধ করা হয়। বাকি অর্থও অল্প সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। ২৭টি পাটকল শ্রমিকের গ্রাচ্যুইটি ও প্রভিডেন্ড ফান্ডের মোট পাওনা হিসাব করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। হিসাব শেষে সব পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ