বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জ ভিসি অবরুদ্ধ ॥ ২৭ জন শিক্ষার্থী আটক

যশোর সংবাদদাতা : ছাত্র আন্দোলনের জেরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) বন্ধ ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘোষণার সাথে সাথে ছাত্রদেরকে এদিন সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে এবং ছাত্রীদেরকে আজ বুধবার সকাল নয়টার মধ্যে হল ত্যাগেরও নির্দেশ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হটিয়ে দেয়ার সময় পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৭ জনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে বলে ছাত্ররা দাবি করেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে টিয়ারসেল ও লাঠিচার্জের কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার জানান, উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে গ্রীষ্মকালীন ছুটি এগিয়ে এনে ২৭ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ছুটি ২৬ মে হতে ১০ জুন পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা প্রহরী বদিউজ্জামান বাদল কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী উত্যক্ত হওয়ার জের ধরে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ছাত্রদের সাথে বাদল পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গত ৯ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে প্রহরী বাদলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ ছাত্রকে বহিস্কারের সুপারিশ করা হয়। এরপর থেকে ছাত্রদের বহিষ্কারের সুপারিশ বাতিল ও প্রহরী বাদলকে চাকুরিচ্যুত করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। গতকালও তারা একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন ভিসিসহ অন্যান্য শিক্ষকদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিবৃত করতে এবং ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেন। সে অনুযায়ী পুলিশ দুপুরে ক্যাম্পাসে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এসময় পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পুলিশের লাঠিচার্জে পিছু হঠলে অবরুদ্ধ উপাচার্য প্রফেসর আব্দুস সাত্তার মুক্ত হন। এর পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’টি হল খালি করার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এদিন সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে ছাত্ররা শহীদ মসিয়ূর রহমান হল ত্যাগ করবেন। আর ছাত্রীরা শেখ হাসিনা হল ত্যাগ করবেন বুধবার (আজ) সকাল নয়টার মধ্যে। বিকেলেই সংশ্লিষ্ট হল দু’টির প্রভোস্টরা কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেন।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেখান থেকে আটক করা হয় ২৭ ছাত্রকে। তবে পুলিশ ওই ২৭ জনকে 'গ্রেফতারের করা হয়েছে' বলছে না। কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘২৭ জনকে তাদের হেফাজতে আনা হয়েছে। তাদের  থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
এর আগে পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিস্কারের সুপারিশ বাতিলের দাবিতে গতকাল সকালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা মেরে দিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ফলে সকাল থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্যসহ কর্মকর্তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও দুপুর দু’টোর দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্ররা পিছু হটেন। গত ১৭ দিন ধরে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার বিকেলে বলেন, সমস্যা নিরসন তার একার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, চলমান আন্দোলনের জের ধরে ফেসবুকে আইডি খুলে উপাচার্য, শিক্ষক ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি করায়  সোমবার বিকেলে ২৮ ছাত্রের নামে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দুটি মামলাও করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল পুলিশ হেফাজতে থাকা ২৭ ছাত্রের মধ্যে ওই মামলার কোনো আসামি আছে কি-না তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি। এদিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও প্রশাসনিক ভবন অবরোধের ঘটনায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ