বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শুরু হচ্ছে চলচ্চিত্র ‘অন্তরাল’

তরুণ কবি, কাহিনীকার ও পরিচালক রানা হোসেন শুরু করতে যাচ্ছে তাঁর তৃতীয় চলচ্চিত্র ‘অন্তরাল’। তাঁর তৃতীয় চলচ্চিত্রের শূটিং যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রাচীন দ্বীপজেলার মনপুরা এলাকায়, নদী আকাশ  যেখানে একাকার। মৃত্তিকা প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত এ চলচ্চিত্রটি। জানা যায় দেশের খ্যাতিমান কন্ঠশিল্পীদের দিয়ে তাঁর চলচ্চিত্রে গান থাকছে ৭ টি। জেলে ও কৃষক আর ব্যাপারীদের মধ্যে বৈষম্য নিয়ে এই কাহিনী। ঘূর্ণিঝড় আর প্রবল বন্যার পর নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে জীবন শুরু করে মনপুরা গ্রামের মানুষেরা। তাহের মাঝি তাঁর তিন সন্তান ও অসুস্থ স্ত্রী লতিফা বেগমকে নিয়ে তাঁর বসতঘর। নদীতে মাছ নেই। সংসার নির্ভরশীল হচ্ছে একমাত্র তাহের মাঝির উপর, ঘরে বড় মেয়ে  মেঘ। নদীতে মাছ না থাকার কারণে কর্মজীবন অচল হয়ে পড়ে গ্রামের জেলেদের! নদীতে দু’চারটি মাছ জালে আটকালেও ঠিক দাম পাচ্ছে না তাহের মাঝি।তাই হাফেজ, সুরুজ, আলী, আব্দুল, হালান সহ আরো কয়েকজন জেলে জালাল ব্যাপারী’র কাছে যায়। হাফেজ জেলের ঘরে বউ পয়সা কড়ির কারণে তাদের সংসার জীবনও টানাপোড়ন পড়ে। তাঁর মাঝে ভালোবাসাও কম নেই। মেঘ ও জোনাকী এ গ্রামের পুকুর জলে ভেসে থাকা শাপলা, বকুল ফুল কুড়ানোর মধ্য দিয়ে তাদের বড় হওয়া। মানিক, তুলি শিশুবয়সে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আকর্ষণ হয় বেড়ে ওঠা সেই মাটি সেই কাদা মাটির  টান যে আলো আঁধার  ছায়া ঘেরা পল্লীতে। সারাদিন খালের জলে সাঁতার কাটা গাছতলে চড়াইভাতির মিতালী শেষে সন্ধ্যায় মায়ের ভালোবাসা। বাবার শাসনের আড়ালে মায়ের ¯েœহের লুকোচুরি খেলা।
মনপুরা গ্রামের জেলেরা একদিন মিলিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় তারা বড় জাল কিনে সমুদ্রের কাছাকাছি গিয়ে মাছ ধরতে যাবে তখন  মাছ বিক্রির মূল্য ঠিক  পাবে, না পেলে জালাল ব্যাপারী’র কাছে মাছ বিক্রি করবে না। হঠাৎ নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণে জেলেদের সমস্যা চলছে। গ্রামের কৃষকের ফসল ফোটানোর জমিতে নদীর,পানি বৃষ্টি না পাওয়ার কারণে নেমে আসে কষ্টের জীবন। কেউ কেউ গ্রামের জমি বিক্রি করে শহরে চলে যায়। নিরন্তর যুদ্ধ করতে হয় কারো কারো।
নদীপাড়ের  মানুষের  হাসি কান্না নিয়ে গল্প আবর্তিত হয়েছে বলে পরিচালক মনে করেন। প্রধান সহকারী পরিচালক শেখ রশিদ, সহকারী পরিচালক গাজী খালেদ।  অন্তরালের গানের কথা,সুরে কাজ প্রায় শেষ কন্ঠশিল্পীরা হলেন: সাবিনা ইয়াসমীন, এন্ড্রুকিশোর,উমা খাঁন, খোরশেদ আলম। গানের কথা লিখেছেন রানা হোসেন, সুর: আশরাফ রনজন, এস এম মুন্না। অভিনয় শিল্পীদের মধ্যে যাদের নাম  জানা  গেছে তারা হলেন: সিমলা, রেহানা জলি,খালেদা আক্তার কল্পনা, আমির সিরাজী, মুকুল তালুকদার, শ্রাবণ শাহ্, চিকন আলী,রাজা হাসান সহ আরো অনেকে।
রানা হোসেনের প্রথম স্বল্পর্দৈঘ্য ‘নদীর কান্দন’ ২৯ জুলাই ২০০১ মুক্তি ও প্রদর্শিত হয়েছে (চারবার),পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অগ্রদূত’ মুক্তির মিছিলে। এছাড়া পরিচালনার কাজগুলো হচ্ছে ‘সুরের বেলা’ ১৯৯৫,‘কথাকলি’ ১৯৯৭, গান নিয়ে অনুষ্ঠান ‘গানসম্ভার’,প্যাকেজ নাটক ‘স্রোত’ ১৯৯৯,এদেশের জনপ্রিয় কবিদের নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম আবৃত্তি ভিসিডি ‘ভালোবাসার পঙ্ক্তিমালা’ ২০০৩, প্রামাণ্যচিত্র ‘আমার বাংলাদেশ’ ২২শে সেপ্টেম্বর ২০০৪ এর প্রদর্শিত হয় (চারবার) বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে। কণ্ঠশিল্পীদের নিয়ে ‘মেঘে ঢাকা আকাশ’ ২০০৫, শিশুতোষ টেলিছবি ‘আলো আঁধারের জীবন’ ২০০৫, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘প্রতিকৃতি’,কণ্ঠশিল্পীদের নিয়ে ‘সুখ দু:খের পদাবলী’ ২০০৭,সংগীতা অনুষ্ঠান ‘সুর ছন্দে আমাদের গান’ ২০০৮,টেলিছবি ‘জীবনের খেলাঘর’ ২০১০,শিশুকিশোরদের নিয়ে প্রতিযোগিতা মূলক অনুষ্ঠান ‘ইচ্ছেঘুড়ি’ ২০১০,হাসির নাটক ‘চাকু মাস্তান’,ভোলার জেলার মনপুরা চর নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ‘মনপুরার জীবন’,বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্থান নিয়ে ধারাবাহিক প্রামাণ্যচিত্র ‘চেনা অচেনার টান’, টেলিফিল্ম ‘সাইকেল চোর’ ২০১৫।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ