রবিবার ৩১ মে ২০২০
Online Edition

কুমারখালীতে দোকানদার ছাড়াই চলছে ‘ভিন্ন রকম দোকান’

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার কুমারখালী রেল স্টেশন চত্বরে একটি ব্যতিক্রমধর্মী গার্মেন্টসের দোকান রয়েছে। দোকানের নামটাও বেশ মজার! ‘ভিন্ন রকম দোকান’। তবে এই আজব দোকানে কোন দোকানদার নেই। এই দোকান থেকে গত দু’বছর যাবত দোকানদার ছাড়াই কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। প্রতিটি পণ্যের গায়ে প্রত্যেকটি মূল্য সংযুক্ত করা রয়েছে। দোকান থেকে পছন্দের জিনিসপত্র ক্রয় করে দাম পরিশোধ করার জন্য রয়েছে একটি ক্যাশ বাকস, সেই বাকসে পণ্যের মূল্য ফেলতে হয়। এ রকম আজগুবি ব্যাপার কি এই দেশে সম্ভব? হ্যাঁ, এটাই সম্ভব করেছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের হামিদুর রহমান শিপন। সে পেশায় একজন হকার। কখনো বাসে, কখনো ট্রেনে চেপে আবার কখনো ফুটপাতে বসে গামছা, রুমাল, লুঙ্গি বিক্রি করে বেড়ায় সে। কেন এই ভিন্ন রকম ব্যবসা পদ্ধতি? জানতে চাইলে হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমি পেশায় মূলত হকার। শুধু দোকানে বসে থাকলে আমার পরিবারের খরচ জোগাতে পারব না। তাই হকারি করে রুমাল তোয়ালে গামছা বিক্রি করে বেড়াই। আর দোকান দিয়েছি কিন্তু সেই দোকানে বসে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না। কেননা দেনিক সংসার চালানোর খরচ দোকান থেকে নাও উঠে আসতে পারে। তাই দোকান খুলে রেখে আমি ফুটপাতে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করি। দোকানে লোকজন আসলে জিনিস পছন্দ হলে সেটা মূল্য তালিকা দেখে ক্রয় করে টাকা বাক্সে ফেলে চলে যায়। খোলা দোকানে চুরি হয় না? জানতে চাইলে হামিদুর রহমান জানান, আমি মানুষকে বিশ্বাস করি আর বিশ্বাসের উপর দোকান করেছি। দুই বছর ধরে এভাবেই দোকান চলছে। এই দোকান থেকে তার দৈনিক ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয়। বিস্ময়কর বিষয় হলেও সত্য দোকানের জিনিস পত্র কোনোদিন চুরি হয়নি। যেদিন যে জিনিসগুলো বিক্রি হয়েছে সেগুলোর টাকা তিনি বাক্সে পেয়েছেন। কোনদিনও হিসাবে টাকা কম পড়েনি। তিনি আরো জানান, ‘আল্লাহর রহমতে আমার দোকান থেকে কেউ কোনোদিন কিছু চুরি করেনি কিংবা টাকা কম পাইনি। ব্যবসাও খারাপ না। মানুষজন নিজের ইচ্ছেমতো ক্রয় করে টাকা পরিশোধ করে যান। এভাবেই বেশ চলে যাচ্ছে। রাতে এসে টাকা নিয়ে দোকান বন্ধ করি এবং সকালে এসে খুলে মাল রেখে চলে যাই। এই দোকানে আসা কাস্টুমার বাবলু জানান, আমি এই দোকানের কথা শুনেছি তাই দেখতে আসলাম। তবে মনে হচ্ছে কিছু একটা কিনব। আমার জীবনে দেখা এটা একটা ব্যতিক্রমধর্মী দোকান। এই ক্রেতা জানান’ দোকানদার মানুষকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করে তাই তার বিশ্বাসের মর্যাদা দেয়া উচিৎ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ