বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

কেসিসিতে পদোন্নতি পেতে দৌড়ঝাঁপ

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) দীর্ঘদিন পর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে চারজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রায় সাত বছর পর শুরু হয়েছে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও। পদোন্নতি পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন প্রকৌশলীরা। এর সাথে যোগ হয়েছে লটারি নিয়ে কিছু অনিয়মের উড়ো খবর। উপ-সহকারী পদে নিয়োগটা নিয়ম অনুযায়ী হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৮৪ সালে মিনিউনিসিপ্যাল করপোরেশন থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয় খুলনা। গত ৩২ বছরে নগরীর জনসংখ্যা তিনগুণ হয়েছে। বেড়েছে রাস্তাঘাট ও সেবামূলক কাজের পরিধি। কিন্তু সে অনুযায়ী অর্গানোগ্রামে লোকবল বাড়ানো হয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকট পূর্ত বিভাগে। বর্তমানে দুইজন নির্বাহী প্রকৌশলী পুরো ৩০টি ওয়ার্ডের কাজ দেখা শোনা করছেন। তাদের সহযোগিতা করতে আছেন মাত্র দুইজন সহকারী প্রকৌশলী। যেখানে প্রয়োজন কমপক্ষে ৫ জন। এছাড়া উপ-সহকারী প্রকৌশলী সংকট তো রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান প্রকৌশলী পদে কর্মকর্তা নেই গত ৭ বছর ধরে। নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মো. নাজমুল ইসলাম বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর কাজ করছেন। একজন সৎ অফিসার হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। সম্প্রতি শূন্য পদ পূরণের নির্দেশ দেয়া হয় মন্ত্রণালয় থেকে। এরপর থেকেই শুরু হয় প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া।

সূত্রটি জানায়, প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির জন্য গতমাসে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। গত ১৭ এপ্রিল ছিল আবেদনের শেষ দিন। এর মধ্যে পূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ নাজমুল ইসলাম, ২-লিয়াকত আলী খান, ৩-মশিউজ্জামান খান ও নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আবদুল আজিজ আবেদন করেন। 

সূত্রটি জানায়, আগামী ১১ মে পদোন্নতি বোর্ডের মিটিং ডাকার পর শুরু হয়েছে জটিলতা। কারণ নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারী (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা-২০১১ এর ৫ বিধিতে বলা হয়েছে, ‘ফৌজদারি মামলা বা দায়েরের সরকারি মঞ্জুরি প্রদান করা হলে অথবা উক্তরূপ কারণে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী গ্রেফতার হলে বা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদোন্নতির বিবেচিত হবেন না।’ এ অবস্থায় প্রধান প্রকৌশলী পদে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল ইসলামের পদোন্নতিতে জটিলতা দেখা দিয়েছে। সেইসাথে দীর্ঘ ৭ বছর পর গঠিত পদোন্নতি বোর্ড ঝুলে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। কারণ বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ২৬ নবেম্বর জনৈক বিশ্বনাথ মুন্সী সাবেক মেয়র তৈয়েবুর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলার ৪ নম্বর আসামী ছিলেন নাজমুল ইসলাম। ২০০৯ সালের ২২ মার্চ ওই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়। কিন্তু এর বিপক্ষে রিভিউ আবেদন করেন বাদী। গত ১৩ এপ্রিল আবেদনের শুনানি হয়েছে। তবে রিভিউ আবেদন করা হলেও মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল ইসলামের পদোন্নতির বিষয়ে কোন জটিলতা থাকার কথা নয় বলে অপর একটি সূত্র জানায়। অপরদিকে সম্প্রতি ৪ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে পূর্ত বিভাগে কিছুটা চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই নিয়োগ যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। বিজ্ঞপ্তি ছাড়া এই নিয়োগে অর্থ বাণিজ্যেরও অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য এই অনিয়মের ব্যাপারে কেসিসির কোনো কর্মকর্তা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

অবশ্য কেসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিছুর রহমান বিশ্বাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, উপ-সহকারী পদে নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি। মাস্টার রোলের নিয়োগ যেভাবে হয়, সেভাবেই উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আগের মেয়ররা এভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, পূর্ত লোকবল সংকট রয়েছে। এছাড়া নতুন করে ল্যাব টেস্ট চালু করা হচ্ছে। এজন্য লোক দরকার।

মেয়র বলেন, প্রধান প্রকৌশলীর পদ ফাঁকা রাখলে এলজিইডি থেকে প্রেষণে প্রকৌশলী দিয়ে দিতে পারে। এজন্য দ্রুত বোর্ড বসানো হয়েছে। আগামী ১১ মে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ