বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় নেতা শেরে বাংলা আবুল কাশেম (এ কে) ফজলুল হকের ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার। এ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ইত্যাদি। এদিকে, শেরে বাংলার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আলাদা বাণী দিয়েছেন। 

শেরে বাংলা ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ৮৬ বছর ৬ মাস বয়সে ইন্তিকাল করেন। পরদিন ২৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত তার লাশ ঢাকার টিকাটুলি এলাকায় তার ২৭ কে. এম. দাস লেনের বাসায় রাখা হয়। সেদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকার পল্টন ময়দানে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়। একই স্থানে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিমুদ্দিনের কবর রয়েছে। তাদের তিনজনের সমাধিস্থলই ঐতিহাসিক তিন নেতার মাজার নামে পরিচিত। রেডিও পাকিস্তান সেদিন সব অনুষ্ঠান বন্ধ করে সারাদিন পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করে। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রেখে তার প্রতি সম্মান দেখানো হয়। ৩০ এপ্রিল সোমবার পাকিস্তানের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্কুল কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়। 

এ. কে. ফজলুল হক ১৮৭৩ সালে ২৬ অক্টোবর বরিশাল জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ এবং সাইদুন্নেসা খাতুনের একমাত্র পুত্র ছিলেন।বিশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাঙালি কূটনীতিক হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের কাছে ‘শেরে বাংলা (বাংলার বাঘ)’ এবং ‘হক সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক অনেক পদে অধিষ্ঠান করেছেন তার মধ্যে কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (১৯৩৭ - ১৯৪৩), পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫), পূর্ব পাকিস্তানের গবর্নর (১৯৫৬ - ১৯৫৮) অন্যতম। যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন অসাধারণ মেধাবী ও বাগ্মী। তিনি একাধারে বাংলা, ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় অনর্গল বক্তৃতা করতে পারতেন। প্রায় অর্ধ-শতাব্দীর অধিককাল তিনি গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

প্রেসিডেন্ট মোঃ আবদুল হামিদ তাঁর বাণীতে বলেন, এ দেশের কৃষক শ্রমিক তথা মেহনতি মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ কে ফজলুল হক এর অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। এ কে ফজলুল হক এর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেছেন, শেরে বাংলা এদেশের কৃষকদের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ফলেই দেশে প্রজাস্বত্ব আইন প্রতিষ্ঠিত হয়। বাঙালি কৃষক সমাজ সামন্তদের শোষণ থেকে মুক্ত হয়। বাংলার গরিব-দুঃখী মানুষের জন্য তাঁর অসীম মমত্ববোধ এ দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এক বিবৃতিতে তাঁর অমলিন স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সোচ্চার ছিলেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। জাতীয় ইতিহাসে শেরে বাংলা ফজলুল হক ছিলেন এক অনন্য প্রতিভার অধিকারী। স্বাধীনতার চেতনা ও গণতান্ত্রিকবোধ সৃষ্টিতে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা এদেশের মানুষের মন থেকে কোনদিনই বিস্মৃত হবে না। দেশ এবং জাতির কল্যাণে অবদানের জন্য ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

কর্মসূচি : শেরে বাংলার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকাল সাড়ে ৭টায় মরহুমের মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ ও তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। শেরে বাংলা জাতীয় স্মৃতি সংসদ, বিশ্ব বাঙালী সম্মেলন এবং দক্ষিণ এশিয়া সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের যৌথ উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৮টায় মাযার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, পুষ্পমাল্য অর্পণ ও মাযার যিয়ারতের আয়োজন করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিকেল ৩টায় রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে শের-ই-বাংলা কর্ম মূল্যায়ন পরিষদ এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। ‘শের-ই-বাংলার রাজনীতি আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী, স্বনামখ্যাত রাজনীতিক ও সুধীজনেরা বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ