বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

দেশ চরম অরাজকতার ঘন অন্ধকারে নিপতিত -বিএনপি

গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশ চরম অরাজকতার ঘন অন্ধকারে নিপতিত বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিভজী একথা বলেন। একইসাথে তিনি চলমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, আইনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী চটজলদি কি করে বললেন যে, হত্যাকাণ্ডের সাথে বিরোধী দল জড়িত। জনগণকে বোকা মনে করে নিজেদের সীমাহীন ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি সরাতে দেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উন্মাদের মতো কথা বলছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুল মান্নান, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

সম্প্রতি সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের তীব্র ধিক্কার, নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে মনে হয়-চরম অরাজকতার ঘন অন্ধকারের মধ্যে দেশ। জুলহাস মান্নান ও মাহবুব রাব্বী তনয় এর হত্যাকাণ্ডের পর প্রধানমন্ত্রী একটি সভায় বলেছেন- এগুলোর সাথে বিএনপি-জামায়াত জড়িত। আইনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী চটজলদি কি করে বললেন যে, হত্যাকাণ্ডের সাথে বিরোধী দল জড়িত। এর আগেও বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পরপরই বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হয়েছে বিএনপির লোকদের জড়িত করার। এর অর্থ দাঁড়ায়- দেশে তাদের নিজেদের সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই জনদৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্যই তারা মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়ার মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। কারণ সন্ত্রাসনির্ভর এই সরকার সন্ত্রাসবাদের অন্ধগলিতে পথ হারিয়ে ফেলার কারণেই এখন উন্মাদের মতো কথা বলছে। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে দমনে রক্তাক্ত পন্থা অবলম্বন করে নিজের মসনদকে কন্টকমুক্ত রাখতে গিয়েই দেশব্যাপী হত্যা আর লাশের উৎসব চলছে। সরকার দলীয় ক্যাডাররা উস্কানি পেয়ে ভয়াবহ বেপরোয়া হয়ে ওঠার কারণে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দলীয় ক্যাডার দিয়ে সাজানোর কারণেই সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ রক্তঝরা রক্তিম রঙে ঢেকে গেছে। 

হত্যাকে উৎসাহিত করাই আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি মন্তব্য করে রিজভী বলেন, যে প্রধানমন্ত্রী একটির বদলে দশটি লাশ ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার ক্যাডাররা সেটি করতে পারছে না বলে বিদ্রƒপ করে বলেছিলেন শাড়ী পড়তে। সুতরাং হিংসাত্মক আক্রমণ, লুটপাট, ভাংচুর, খুন, জখম, গুম, অপহরণ ইত্যাদি অনাচার আওয়ামী লীগের জন্মগত বৈশিষ্ট্য। ইতোমধ্যে যতগুলি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তার কোনটিরই সুরাহা করতে পারেনি এই ভোটারবিহীন সরকার। শুধুমাত্র মদগর্বী আস্ফালন, হুমকি আর নিজেদের অপকীর্তি অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব করেও সরকারের কোন লাভ হবে না। সরকারের পা এখন চোরাবালির ওপরে, ক্রমাগতভাবে অতলে তলিয়ে যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, সাংবাদিক শফিক রেহমানকে দ্বিতীয় দফায়ও ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে তার সহধর্মীনি তালেয়া রেহমান অভিযোগ করেছেন। এমনকি রিমান্ডে তার প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্ত্রী। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নানা মন্তব্যে মামলার তদন্তকাজ সঠিক পথে এগোবে কি না এবং ন্যায়বিচার পাবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কিত তালেয়া রেহমান। তালেয়া রেহমান দাবি করেন, প্রথম দফা রিমান্ডের পর আদালতে শফিক রেহমানের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, জোর করে তার কাছ থেকে মিথ্যা স্বীকারোক্তি নেয়া হতে পারে। আদালতে শফিক রেহমানকে ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। তার হাতের কয়েক জায়গায় ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে। তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন হয়েছে বলেও তালেয়া রেহমান দাবি করেন। 

তিনি বলেন, দেশের সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমান গুরুতর অসুস্থ এটি জানানোর পরও গ্রেফতারের পর থেকে তাকে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়নি। এখন রিমান্ডে নিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য শফিক রেহমানকে নির্যাতন করা হচ্ছে এমন খবরে বিএনপিও উদ্বিগ্ন। বয়স্ক ও অসুস্থ সাংবাদিক শফিক রেহমানের স্ত্রীর মতো আমরাও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনে তার জীবন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছি

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলায় দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে করা সব মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। তিনি যাতে জামিনে বেরিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত সিজার ও অপর দুই আমেরিকান নাগরিকের সাজা হয়েছে এফবিআই এজেন্টকে জয়ের টাকা পাচার নিয়ে দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহের জন্য ঘুষ দেয়ার অভিযোগে। যার সাথে মাহমুদুর রহমান এর কোন সম্পর্কই নেই। সেখানকার আদালতেও মাহমুদুর রহমানের নাম কেউ বলেননি। মাহমুদুর রহমান ২০০৬ সালের পর আমেরিকায় যাননি। যাদের কথা বলা হয়েছে তাদের কারো সাথে আমেরিকায় বা বাংলাদেশে তার কোন বৈঠক হয়নি। অন্য মামলায় আপিল বিভাগ থেকে বার বার জামিন পেয়ে যাওয়ায় তাকে দীর্ঘ সময় কারাগারে আটকে রাখার জন্য এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। শফিক রেহমান জ্ঞিাসাবাদে মাহমুদুর রহমানের নাম বলেছেন-এ যুক্তিও টেকে না। কারণ শফিক রেহমানকে রিমান্ডে নেয়ার একদিন আগেই প্রথম আলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে ঘটনায় মাহমুদুর রহমান জড়িত বলে রিপোর্ট ছাপিয়েছে পত্রিকার প্রথম পাতায়। এসব প্রমাণ করে পরিকল্পিতভাবে পুলিশ সরকারি নির্দেশে মাহমুদুর রহমানকে এই মামলায় জড়িয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মো: শাহজাহান সম্পর্কে গণমাধ্যমে যেসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে তা অসত্য ও মনগড়া। তাকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যঅহতি দেয়া হয়নি। 

অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের এক সহদফতর সম্পাদকের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সঠিক নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ