বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

মানুষের নিরাপত্তা অধিকার নির্বাচন গণতন্ত্র শান্তি স্বস্তি এখন লাশবাহী গাড়িতে -খালেদা জিয়া

  • প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দায় এই সরকারকেই নিতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার : সহিংস রক্তপাত ঘটানো ছাড়া বর্তমান আওয়ামী সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার অন্য কোন পথ খোলা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার, ভোটাধিকার, নির্বাচন, গণতন্ত্র, শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা এখন লাশবাহী গাড়িতে। দেশ পরিচালনায় যেহেতু জনগণের সমর্থন নেই সেহেতু খুন-জখম টিকিয়ে রাখাকেই তারা পরিত্রাণের পথ মনে করছে। কলাবাগানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান এবং তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে এবং কাশিমপুর কারাগারের সামনে সাবেক কারারক্ষী রুস্তম আলীকে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া এসব হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, মানুষের নিরাপত্তা, মানুষের অধিকার, ভোটাধিকার, নির্বাচন, গণতন্ত্র, শান্তি, স্বস্তি, এখন লাশবাহী গাড়িতে। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের সহিংস রক্তপাত ঘটানো ছাড়া টিকে থাকার অন্যকোন পথ খোলা নেই। দেশ পরিচালনায় যেহেতু জনগণের সমর্থন নেই সেহেতু খুন-জখম টিকিয়ে রাখাকেই তারা পরিত্রাণের পথ মনে করছে। তিনি বলেন, দেশে যেকোন হত্যাকাণ্ডকে নিজেদের স্বার্থে অতি অবিশ্বাস্য কল্পকাহিনী রচনা করা আওয়ামী লীগের স্বভাবধর্ম। কিছুদিন ধরে দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায় ও বিদেশী হত্যার ঘটনাগুলোতেও তারা একের পর অপপ্রচার চালিয়েছে। 

সরকার বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, ভোটারবিহীন সরকারের এই সমস্ত অপকৌশল মূলত প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়া ও আসল অপরাধীদের আড়াল করা। সরকার প্রধান যতই উচ্চস্বরে বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরী করুন না কেন তাভেল্লা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে জুলহাস মান্নান ও মাহবুব রাব্বি তনয় এবং রুস্তম আলী পর্যন্ত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দায় এই সরকারকেই নিতে হবে। তিনি যতই উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা করুন না কেন, জাতীয় অর্থনীতির হরিলুট, রাজকোষ চুরির ঘটনা এড়াতে তিনি যতই অপকৌশল করুন না কেন জনগণের দৃষ্টিকে ঝাপসা করতে পারবেন না। তার অপকৌশল বাস্তবায়ন করতে তিনি যতই দূষিত পরিকল্পনা করুন না কেন ভোটারবিহীন সরকারকেই এর জন্য জনগণের নিকট একদিন জবাবদিহি করতেই হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে এখন বেশী বিপজ্জনক। দেশের মানুষ এক ভয়াল নৈ:শব্দের মধ্যে আতঙ্কে দিন যাপন করছে। ব্যাংকার, শিক্ষক, এনজিও কর্মী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, ছাত্র, নারী, শিশুসহ অনেককেই রাষ্ট্রযন্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে জীবন দিতে হয়েছে। সরকার সর্বক্ষেত্রে একচেটিয়াত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে গণতন্ত্রের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ভারসাম্যকেও চরমভাবে ভেঙ্গে ফেলেছে। সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ করতে গিয়ে রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। সুতরাং চারদিকে অরাজকতারই জয়জয়কার। দেশে হত্যা, হানাহানি, রক্তপাত, অপহরণ, গুম, মুক্তিপণ আদায়, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রচণ্ড আধিপত্য বিস্তার করেছে। সুতরাং কর্তৃত্ববাদী শাসন এতো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, মানুষের মুখে টুঁ শব্দ শুনলেই সেই মানুষের টুটি টিপে ধরার জন্য ধেয়ে আসে রাষ্ট্রযন্ত্র। মনে হয় আমরা যেন একটি পিশাচ দ্বীপে বসবাস করছি। সুস্থ পরিবেশে গণতন্ত্র চর্চা এখন কেবলমাত্র কবরেই সম্ভব। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার কারণেই ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র ক্যাডাররা উৎসাহিত হয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে, ব্যালট পেপারে বেপরোয়া সীল মারে এবং অস্ত্রের মুখে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়, খুন-জখমসহ নানাবিধ অনাচারে লিপ্ত থেকে দেশকে অতল গহব্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই দেশে শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ এখন আর স্বাভাবিক মৃত্যুর আশা করে না।” 

বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু সাংবাদিক মাহবুব রাব্বী তনয় এবং সর্বপ্রধান কারারক্ষী রুস্তম আলীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

অপর এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোটারবিহীন সরকারের আমলে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডসহ রাজধানীর কলাবাগানে দুর্বৃত্তদের দ্বারা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাবেক প্রটোকল কর্মকতা জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয়কে নৃশংসভাবে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে এবং কাশিমপুর কারাগারের সামনে সাবেক প্রধান কারারক্ষী রুস্তম আলীকে গুলী করে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ এখন দুর্বৃত্তদের অভয়ারণ্য আখ্যা দিয়ে বলেন, গোটা দেশবাসী ঘরে-বাইরে আজ আর নিরাপদ নয়। রাষ্ট্রক্ষমতা জবরদখলকারীরা বিরোধী দল দমনে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করার কারণেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়ায় বিভিন্ন অপকর্ম ও হত্যাকাণ্ডে সন্ত্রাসীরা আরো বেশী মাত্রায় উৎসাহিত হচ্ছে। দেশকে সন্ত্রাসবাদের কবল থেকে রক্ষা করতে জনগণের ঐক্যের বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত জুলহাস মান্নান, মাহবুব রাব্বী তনয় এবং রুস্তম আলীর হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ