ঢাকা, শনিবার 26 September 2020, ১১ আশ্বিন ১৪২৭, ৮ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম চ্যালেঞ্জ রিট শুনানি দুপুরে

স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বৈধতা চ্যালেঞ্জ রিটের রুলের চূড়ান্ত শুনানির জন্য আজ সোমবার শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকায় (কজলিস্ট) মামলাটি শুনানির জন্য আজ সোমবার দুপুর ২টায় সময় ধার্য রয়েছে। বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেত্বত্বে হাইকোর্টের তিন সদস্যর বৃহত্তর বেঞ্চ দিন নির্ধারণ করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি কাজী রেজাউল হক বিচারপতি আশরাফুল কামাল। এর আগে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি একই বেঞ্চ ২৭ মার্চ রিট আবেদনটির শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। 

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করবেন . কামাল হোসেন এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। সরকার পক্ষে শুনানি করবেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। 

সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৮৮ সালে হাইকোর্টে রিট করা হয়। এরপর থেকেই আবেদনটি হাইকোর্টে বিচারাধীন ছিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ব্যাপক পরিবর্তন আনা হলেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বিষয়টি অপরিবর্তিত থাকে। এর প্রেক্ষিতে বিশিষ্ট সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ রিটটি শুনানির জন্য হাইকোর্টে ২০১১ সালের জুন মাসে একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ ওই বছরের ১১ জুন রুল জারি করেন। রুলে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম অন্তর্ভুক্তির বিধান কেন অসাংবিধানিক বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একইসঙ্গে সিনিয়র ১২ আইনজীবীকে এমিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। 

সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৮ সালের জুন চতুর্থ জাতীয় সংসদে অষ্টম সংশোধনী পাস করা হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনুচ্ছেদ ২ক যুক্ত হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা সম অধিকার নিশ্চিত করিবেন।তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ জুন এতে অনুমোদন দেন। 

এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৮৮ সালের আগস্ট মাসেস্বৈরাচার সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটিরপক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ ১৫ বিশিষ্ট নাগরিক হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। সাবেক বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য, সাবেক বিচারপতি কে এম সোবহান, অধ্যাপক খান সরওয়ার মুর্শিদ, আইনজীবী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, কলিম শরাফী, অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সি আর দত্ত, বদরউদ্দীন উমর, সাংবাদিক ফয়েজ আহমদ, .বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর অধ্যাপক .আনিসুজ্জামান। এদের অনেকেই মারা গেছেন। 

আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে নানা ধর্ম বিশ্বাসের মানুষ বাস করে। এটি সংবিধানের মূল স্তম্ভে বলা হয়েছে। এখানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করে অন্যান্য ধর্মকে বাদ দেয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অভিন্ন জাতীয় চরিত্রের প্রতি ধ্বংসাত্মক। 

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে সংবিধান সংশোধনে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি রাষ্ট্রধর্ম রাখার সুপারিশ করে। পরবর্তীকালে ওই সুপারিশ অনুযায়ী সংবিধানে আনা হয় পঞ্চদশ সংশোধনী। এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম রাখার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করে রিটকারী পক্ষ। আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম (আংশিক) ত্রয়োদশ সংশোধনী সংসদে পাস হলেও সুপ্রিম কোর্ট এসব সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেছেন। পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায়ের আলোকে ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা গণতন্ত্র সংবিধানে ফিরে এসেছে। আদি সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল হয়েছে। এটির সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম অব্যাহত রাখা হলে তা হবে সাংঘর্ষিক এবং পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায়ের পরিপন্থী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ