বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ছড়া/কবিতা

‘কেনা-কাটা’
এম,এ, রাজ্জাক বাবু

বাজার করা হাজার জ্বালা,-
তবু বলি থাক’গে
যা খুশি তাই আনবো কিনে
আছে কি-তা ভাগ্যে?

আটা-চালে উড়ছে আগুন-
চল্লিশ টাকা সের,
শাক-সবজি যায় না ছোঁয়া
মজুদ থাকলেও ঢের।

ইলিশ মাছের চলছে আকাল
পঞ্চাশ টাকা একশ’
চুনো-পুটি তাও মেলে না
চল্লিশ টাকা  এক ‘প’

মাংসের কথা বাদ-ই দিলাম
খাইনি ক-ত দিন,
কচুর পাতা খেয়েই এখন
যোগাচ্ছি প্রোটিন।
সব জিনিসের দাম বেড়েছে
বাঁচা-ই যে সংকট,
নারিকেল তেল বিনা বউ-এর
চুলে বাঁধে জট।

আম কিনি না আমড়া কিনি
কোথায় পাবো ঘি?
দুধের স্বাদ কি ঘোলে মিটে
উপায় খানা কি?

ভাবতে ভাবতে হোঁচট খেলাম
ঝাল-পিঁয়াজের ঝাঁজে,
পকেট খানাই উধাও দেখি
বলবো কি আর লাজে।

বুদ্ধি করেই বলছি এখন-
বাজার করাই থাক-গে,
যাঁদের আছে টাকা অঢেল
তাঁরাই বাজার খাক-গে।


কে সেরা?
শাহ আলম বাদশা

কে সেরাগো কে সেরাগো কে সেরা
হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, মানুষেরা?

বলার আগেই বলার আগেই
চিন্তা করো আগেভাগেই!
জন্মের পর তোমার দশা কী ছিল
জন্ম থেকেই মুরগি করে মিছিলও?

গরুর বাছুর উঠেই লাফায়
হাম্বাডাকে উঠোন-কাঁপায়;
তখন তুমি যা খুঁজে পাও সুমুখে
হাপুস-হুপুস দাও যে পেলেও গু-মুখে!

পশু-পাখির জন্ম হলেই
গাপুস-গুপুস সব যে গেলেই।
তখন তোমার একটু তো বোল ফোটেনা
মাকে ছাড়াই মুখের খানাও জোটে না।

মানুষ হতেই কী ঝামেলা
ব্যাপারটা কী হেলাফেলা?
পশু হওয়া দেখো দেখো কী সোজা।
মানুষ হতেই চাপে কত কী বোঝা!

পশু-পাখির বিবেক কোথায়
কেমনে সেরা হবে গো হায়!
মানুষ হতে সময় লাগে, কত যে
সেরার কাছে ওরা সবাই নত যে!!


বই মেলা
এইচ এস সরোয়ারদী

প্রাণের মেলা, বই মেলা
আবার হলো শুরু,
নতুন বইয়ের গন্ধে এ মন
করছে দুরু দুরু।

কোন লেখকের বইটি ভালো
কিনবো কোন বই,
এই প্রশ্নে চোখের ঘুম
হারিয়ে গেছে কই।

বইয়ের নেশায় একটি বছর
খেলছে মনে ঢেউ,
বই ছাড়া ভালো বন্ধু
নেইতো আর কেউ।


ছবি তোলে
শরীফ সাথী

দেশের কোলে সবুজ দোলে
তাই না দেখে ছবি তোলে
মিষ্টি করে দৃষ্টি দিয়ে
হরেক রূপের বৃষ্টি নিয়ে
দু’চোখ চেয়ে চেয়ে,
প্রকৃতিকে ভালবেসে
আছে মিশে দেশে ভেসে
শ্যামল শোভা ছেয়ে।

ফুল ফসলের রত্ন বুকে
যত্ন করে আছে সুখে
মায়ার ছায়া পেয়ে,
সবুজ ঢেউয়ের বাঁকে বাঁকে
স্বপ্ন আসে ঝাঁকে ঝাঁকে
মনের নদী বেয়ে;
দু’চোখ চেয়ে চেয়ে।


গল্প- ছড়ার বই
কাজী আবুল কাসেম রতন

মেলা এসেছে তাই,
নতুন বইয়ের
গন্ধ নাকে পাই।
মেলা এসেছে তাই,
দাদুর হাত ধরে
বই মেলাতে যাই।

মেলা এসেছে তাই,
ভিড়ের ভিতর যে
ধাক্কা-গুঁতো খাই।
মেলা এসেছে তাই,
বই মেলাতে মজা
চারদিকে হই চই।

মেলা এসেছে তাই,
ছড়ায় ছড়ায় কাশি
গল্প পড়তে চাই।
মেলা এসেছে তাই,
কিনতে হবে মজার
গল্প-ছড়ার বই।


ভাষার জন্য
আলতাফ হোসেন রায়হান

ভাষার জন্য যে বীরেরা
দিয়ে গেছে প্রাণ
একুশ চেতনায় পাই আমরা
সেই শহিদের ঘ্রাণ।
ভাষার জন্য বীর বাঙালী
করছে অনেক লড়াই
আন্তর্জাতিক বাংলা ভাষা
করি এখন বড়াই।
আমরা সবাই বাংলাদেশী
বীর বাঙ্গালীর দল
বাংলা ভাষা কায়েম করতে
ঝরছে রক্তের ঢল।
রাষ্ট্রভাষা আনতে গিয়ে
যারা খেয়েছে গুলি
একুশ চেতনায় মাতি সবাই
কেমনে তাদের ভুলি॥


শীতের বুড়ি
নারায়ণ চন্দ্র রায়

শীতের বুড়ি নাচতে এল
দেশে,
খোঁপায় বাধা ঘোমটা খুলে
হেসে।
শীতের বুড়ি কাঁদতে এল
বঙ্গে,
আরও এল নাতি-পুতি
সঙ্গে।
শীতের বুড়ি খেতে এল
চিতই-ভাঁপা-কুলি,
বুড়ির কাঁধে দোলছিল
মস্ত বড় ঝুলি।
ঝুলির ভেতর রাখা ছিল
পান-সুপারি,
পান খেয়ে হাসতো বুড়ি
শতরূপা-বাহারি।
বুড়ির কথা বলতে বলতে
নাও দৌড়াইয়া চলি,
দুষ্টু বুড়ির নিষ্ঠুরতা
গানে-গানে বলি।
শীতের কাবু দেশের
সকল মানুষ,
আনন্দে বুড়ি উড়ায়
মনের ফানুস।
বুড়ি তুমি যাও চলে যাও
ফিরে তোমার বাড়ি,
শীতের কষ্ট আর দিও না
নইলে দিব আড়ি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ