ঢাকা, বুধবার 5 August 2020, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

মহসিন আলীর কফিনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার সকালে মহসিন আলীর কফিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নিয়ে আসা হলে সেখানে এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি জানানো হয় রাষ্ট্রীয় সম্মান। পুলিশের একটি চৌকস দল এ সময় গার্ড অব অনার দেয়।

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যরা প্রয়াত এই রাজনীতিবিদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে সেখানেই মহসিন আলীর জানাজা হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের পক্ষে রুহুল আমীন হাওলাদার এবং জাতীয় সংসদের উপনেতা সাজেদা চৌধরীর পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান জানান, সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে মহসিন আলীর মরদেহ হেলিকপ্টারে করে তার জেলা মৌলভীবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।

দুপুরে মৌলভী বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে জানাজা শেষে হযরত শাহ মোস্তফার (র.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় সৈয়দ মহসিন আলীকে।

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মারা যান আওয়ামী লীগ নেতা মহসিন আলী। ৬৬ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ নিউমোনিয়া ও হৃদরোগে ভুগছিলেন।

মঙ্গলবার রাতে তার মরদেহ দেশে আনার পর রাতে কফিন রাখা হয় মিন্টো রোডে তার সরকারি বাসায়। সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকাল সোয়া ৮টায় তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক, কবি আবদুস সামাদ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু কাওসার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই রাজনীতিবিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আবদুর রাজ্জাক বলেন, “উনি খুবই সহজ সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তিনি আমাদের রাজনৈতিক দলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি অত্যন্ত সফল একজন ব্যক্তি। মানুষের উপকারের জন্য তিনি সবসময় সচেষ্ট ছিলেন।”

একাত্তরে সিলেট বিভাগ সিএনসি স্পেশাল ব্যাচের কমান্ডার হিসেবে সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন মহসিন আলী। সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি ও মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলেরও সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের এই সদস্য।

১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মহসিন। মৌলভীবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনবার।

২০০৮ সালে মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মহসিন আলী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আর গতবছর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন শেখ হাসিনা।-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ