ঢাকা, বুধবার 12 August 2020, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ২১ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ঈদে আড়াই লাখ যাত্রী পরিবহন করবে রেল: মন্ত্রী

স্বাভাবিক সময়ে দিনে সর্বোচ্চ এক লাখ ৯০ হাজার যাত্রী পরিবহন করলেও কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে আড়াই লাখ যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে ‘প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক।  

ঈদের আগাম টিকেট বিক্রির প্রথম দিন মঙ্গলবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “রেলের সম্পদ সীমিত, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই সীমিত সম্পদ দিয়েই সর্বোচ্চ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।”

সকাল ৯টায় কাউন্টার খোলার অনেক আগে থেকেই টিকেটপ্রত্যাশীদের চিরাচরিত সেই ভিড় শুরু হয় কমলাপুরে। অনেকে স্টেশনে অবস্থান নেন সোমবার রাত থেকেই।

প্রথম দিন দেওয়া হয় ২০ সেপ্টেম্বরের টিকেট। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কমলাপুরে এসে টিকিট বিক্রির পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন রেলমন্ত্রী।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফিরোজ মো. সালাহ উদ্দীন, রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. খলিলুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী জানান, ঈদের তিন দিন আগে থেকে ‘স্পেশাল’ ট্রেন চালু হবে, যা ঈদের পরেও সাত দিন চলবে। এছাড়া শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতে যোগ দেওয়ার জন্য ঈদের দিন ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জে বিশেষ ট্রেন থাকবে।

যাত্রীদের যাওয়া-আসা নির্বিঘ্ন করতে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিলের পাশাপাশি বাতিল করা হয়েছে রেলসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ছুটি।

ঈদের আগেই রেলে সূচি বিপর্যয় শুরু হয়েছে এবং ঈদ ঘনিয়ে এলে তা আরও প্রকট হতে পারে বলে কয়েকজন সাংবাদিক মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, “আপনাদের সামনেই এ বিষয়ে আমি রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছি। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হলে সংশ্লিষ্টরা দায়ী থাকবেন।

“শুধু আমার কাছে নয়, এর জন্য আল্লাহর কাছেও তাদের জবাব দিতে হবে।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রেলওয়ের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চালু ৮৮৬টি কোচের সঙ্গে আরও ১৩৮টি কোচ মেরামত করে ঈদ সেবায় যোগ করা হবে। আর ১৯২টি চালু ইঞ্জিনের সঙ্গে যোগ দেবে নতুন ২৫টি ইঞ্জিন।

মন্ত্রী বলেন, আগামী বছর ঈদুল ফিতরের আগেই রেলে ২৭০টি নতুন কোচ যুক্ত হবে। এর মধ্যে ১২০টি আসবে ভারত থেকে। এডিবির অর্থায়নে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসবে বাকি ১৫০টি কোচ।

নতুন ৭০টি ইঞ্জিন কেনার জন্য টেন্ডার হয়েছে জানিয়ে মুজিবুল হক বলেন, “নতুন ইঞ্জিন ও কোচ পেলে সমস্যা অনেকটাই দূর হয়ে যাবে।”

মুজিবুল হক অভিযোগ করেন, বিএনপির আমলে এক কিলোমিটার রেললাইনও সংস্কার করা হয়নি। অনেক সময় ভাঙাচোরা, ক্ষয়প্রাপ্ত লাইনের কারণে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়, দুর্ঘটনার কারণে সূচি বিপর্যয় ঘটে।

এছাড়া ‘বিএনপি-জামায়াতের নাশকতাও’ ট্রেনের সূচি বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ বলে মন্ত্রী অভিযোগ করেন।

“খালেদা জিয়া, জামায়াত-শিবির ডাইরেক্ট রেলের ইঞ্জিনে আগুন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তাদের কিছু দোসর রেলওয়েতে আছে। এরা দেশের শত্রু, রেলের শত্রু, মানবতার শত্রু। বেড়া যদি ক্ষেত খায়, তাহলে বেড়া দিয়ে কি লাভ বলেন?”

যাত্রী হয়রানি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘বিশেষ নির্দেশ’ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জিআরপি-আরএমপি ও পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-পুলিশ ‘টিকেট কালোবাজারি, অজ্ঞানপার্টি ও মলমপার্টির’ হাত থেকে যাত্রীদের সুরক্ষা দিতে কাজ করবে।-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ