মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২
Online Edition

বাড্ডায় ৩ খুনের পেছনে হাটের ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্ব?

ঢাকার বাড্ডায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের দুই নেতাসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যার পেছনে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ পাশাপাশি কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে ‘দ্বন্দ্বের’ বিষয় থাকতে পারে বলে মনে করছেন নিহত একজনের স্বজনরা।

অবশ্য স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথের দাবি, এর পেছনে রাজনেতিক কোন্দলনের কোনো ঘটনা নেই। জাতীয় শোক দিবসের এক দিন আগে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় তিনি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন বিএনপির দিকে। 

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে বাড্ডা আদর্শনগর পানির পাম্পের কাছে সরকারসমর্থক কয়েকজন আড্ডা দেওয়ার সময় তাদের ওপর গুলি ছোড়া হয়।

ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই ঢাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামসু মোল্লা (৫৩)উত্তর বাড্ডার নির্মাণাধীন বেসরকারি হাসপাতাল এইচ এ এফ- এর তত্ত্বাবধায়ক ফিরোজ আহমেদ মানিকের (৪৫) মৃত্যু হয়।

গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে মারা যান আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাহিত্য বিষয়ক সহ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গামা (৪০)। তিনিই এ হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন বলে সাংবাদিকদের বলেছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও গামার সহযোগী তাহসীর রহমান সৈকত।

গামার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যওয়ার পর সেখানে গামার মামাত ভাই আমিনুর রহমান রিপনের সঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কথা হয়।

তিনি বলেন, “গামা স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতি করত…রাজনীতিতে সে খুব দ্রুত উপরের দিকে যাচ্ছিল। এ কারণে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।”

রিপন জানান, গত বছর মেরুল বাড্ডায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা পেয়েছিলেন গামা। এবারও পাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন।

এ নিয়ে বিরোধ থেকেও তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে গামার মামত ভাইয়ের সন্দেহ।

নিহত ফিরোজ আহমেদ মানিক সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত না করলেও হতাহত অন্যদের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল বলে জানিয়েছেন তার চাচাত ভাই আক্তার।

ঢাকা মেডিকেলের মর্গে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “মানিক রাজনীতি করত না, তবে গামাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল। অফিস থেকে ফেরার পথে তাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মারা পড়ল।”

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা শামসু মোল্লার চাচা নুরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, কেন তার ভাতিজাকে খুন হতে হল, তা তাদের কাছে ‘স্পষ্ট নয়’।

“শামসু ২০-২৫ বছর মালয়েশিয়ায় ছিল। দুই বছর আগে দেশে আসে। কেন তাকে মারল তা আমরাও বুঝতে পারছি না।”

এ ঘটনায় আহত যুবলীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা আব্দুস সালাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।

ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসবক লীগের সহসভাপতি মারুফ আহমেদ মানিক হত্যাকাণ্ডের পর রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, তারা ১৫ অগাস্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছিলেন, ওই সময় অতর্কিত হামলা হয়।

“আমি আলোচনা থেকে উঠে বাথরুমে গিয়েছিলাম, এর মধ্যেই শুনি গুলির শব্দ, এসে দেখি চারজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।”

গামার সহযোগী তাহসীর রহমান সৈকত সাংবাদিকদের বলেন, তিন থেকে চারজন হেঁটে এসে গুলি চালায়। তারপর হোসেন মার্কেটের দিক দিয়ে হেঁটে চলে যায়। হামলাকারীদের দুজনের হাতে অস্ত্র ছিল।

“হামলাকারীদের টার্গেট ছিল গামা। প্রথম গুলিটি গামাকে লক্ষ্য করেই করা হয়। এরপর তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে,” বলেন সৈকত।

নিহতদের লাশ দেখতে শুক্রবার দুপুরে মর্গে যান স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ।

দলীয় কোন্দল বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঘটনার পর থেকে আমরা বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছি, এটা রাজনৈতিক হামলা নয়। বড্ডা এলাকায় দলে কোনো কোন্দল নেই। যারা ১৫ অগাস্টের দিন কেক কেটে আনন্দ করে, তারাই মাঠ থেকে বিতাড়িত হয়ে এই গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কোরবানির এখনও দেড় মাস বাকি। সিটি করপোরশন এখনো পশুর হাট নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। গামা ঝুট ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত নয়। কারণ এগুলো নয়।

“১৫ অগাস্টকে কারা বেছে নেয়... এটা আপনাদের বুঝতে হবে,” বলেন এই সংসদ সদস্য।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন বাড্ডা থানার ওসি এম এ জলিল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “খুনিদের ধরার চেষ্টা করছি। গতবার ঈদে পশুর হাটের ইজারা গামা নিয়েছিল। তবে পুলিশ সবগুলো বিষয় আমলে নিয়েই তদন্ত করছে।”

চার ভাইবোনের মধ্যে গামা ছিলেন সবার বড়। তার স্ত্রীর নাম লিনডা। ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে এই দম্পতির। পৈত্রিক বাড়ি ফরিদপুরে হলেও ছোটবেলা থেকেই তারা মধ্যবাড্ডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন বলে মামাত ভাই আমিনুর রহমান রিপন জানান।-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ