ঢাকা, সোমবার 24 January 2022, ১০ মাঘ ১৪২৮, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী
Online Edition

৫ লাখ টাকায় হত্যা মামলার দাফন

অবশেষে ৫ লাখ টাকায় দাফন হলো নোয়াখালীর চাঞ্চল্যকর মিলন হত্যা মামলা। তবে নিহত মিলনের পিতার অভিযোগ তাকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু এসআই আকরাম শেখ ৫ লাখ টাকায় মামলা শেষ করতে তাকে বাধ্য করেছে।

১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া, মিলনের ছোট ভাইকে পুলিশে চাকরি দেওয়া এবং বাবাকে বৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের কিশোর শামছুদ্দিন মিলন হত্যা মামলা চালানো থেকে তাঁর পরিবারকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

তাদের পরামর্শে গত ২৪ ডিসেম্বর মিলনের মা মামলার বাদী কোহিনুর বেগম আদালতে ‘এজাহারনামীয় ও সন্দিগ্ধ ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নাই; আসামিরা অভিযোগের দায় হইতে মুক্তি পাইতে ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে কোনো আপত্তি নাই ও থাকিবে না’ মর্মে আবেদন করেন। এরপর মিলনের বাবাকে দেওয়া হয় পাঁচ লাখ টাকা। তারপর দ্রুতই মামলা ‘গুছিয়ে ফেলে’ পুলিশ।

তবে মিলনের বাবা গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ, এসআই আকরাম শেখ তাঁকে দফায় দফায় ফোন করে ‘বেয়াই’ সম্বোধন করেন। তাঁকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার এবং বৈধভাবে আবার বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন। এসআই আকরামই তাঁকে প্রায় দেড় বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে আনেন বলে জানান তিনি।

মিলনের বাবা এ-ও বলেন, দেশে আসার পর সংসারে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি বাড়িতে অন্যের জায়গায় যে বসতঘর ছিল, তারাও তা সরিয়ে নিতে চাপ দিতে থাকে। এ অবস্থায় তিনিও টাকা নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় দেখছিলেন না। তাই বাধ্য হয়ে মামলা নিষ্পত্তিতে রাজি হন।

তিনি বলেন, এসআই আকরাম শেখ মামলা নিষ্পত্তির কথা বলে তাঁকে দেশে এনেও প্রতারণা করেছেন। ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে পরে আট লাখ, তারপর সাত লাখ; শেষে পাঁচ লাখ টাকার বেশি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন। উপায় না দেখে তিনি পাঁচ লাখ টাকাতেই রাজি হন। তিন মাস আগে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী গিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসেন।

মামলার নিষ্পত্তির বিষয়ে মিলনের পরিবার বলছে সাড়ে তিন বছর ধরে বিচারের আশায় ঘুরেছি। পুলিশ ৫২ বার সময় নিয়েও অভিযোগপত্র দেয়নি।

ন্যায় বিচারের আশায় দৌঁড়তে দৌঁড়তে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আবার পুলিশ এবং অন্য লোকজনও মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য সব সময় চাপ দিয়ে আসছে।

২০১১ সালের ২৭ জুলাই কোম্পানীগঞ্জের চর কাঁকড়া ইউনিয়নের নিরীহ কিশোর মিলনকে (১৬) ডাকাত সাজিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ গাড়িতে করে এনে উন্মত্ত জনতার হাতে ছোট্ট এই কিশোরকে ছেড়ে দেয়। সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পুলিশের গাড়ি থেকে তাকে নামিয়ে দেওয়াসহ পুরো ঘটনাটির ভিডিওচিত্র প্রকাশিত হলে স্তম্ভিত হয়ে পড়ে প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ